নিজস্ব প্রতিবেদক:
আদালতের বিচারকের স্বাক্ষর জাল করে কাগজপত্র তৈরী করে রাজশাহীর দুর্গাপুরে কোট টাকার জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজশাহী জেলা যুগ্ম জজ আদালত-২ এর এক অফিস সহকারীর সহায়তায় ওই জাল কাগজপত্রগুলো তৈরী করা হয় বলেও অভিযোগ উল্লেখ করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ নিয়ে দখল চেষ্টাকারীদের এবং আদালতের ওই অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী উপজেলার পাঁচুবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জব্বার প্রধান বিচারপতি, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, রাজশাহী জেলা জজ, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন।

ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, পাঁচুবাড়ি গ্রামের আব্দুল জব্বার এবং তাঁর ওয়ারিশরা তাঁদের পৈত্রিক অধিকার সূত্রে পাওয়া প্রায় সাড়ে ১৪ বিঘা জমি আদায়ের জন্য প্রতিপক্ষ আতাউরসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। এই মামলায় রাজশাহী যুগ্ম জেলা জজ আদালত-২ এর বিচারক ২০১৫ সালে বাদী পক্ষের পক্ষেই রায় ঘোষণা করেন।
ওই রায়ের পরে আদালত থেকে বাদী পক্ষকে ওই বছরের ডিসেম্বরে জমির দখল বুঝিয়ে দিয়ে আসেন। এরপর বিবাদী পক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল আবেদন করেন।
অভিযোগ উঠেছে, ওই আপিল আবেদনের পর বিবাদী পক্ষ রাজশাহী যুগ্ম জেলা জজ আদালত থেকে ওই জমি নিজের বলে দাবি করে কিছু কাগজপত্র তৈরী করে উচ্চ আদালতে দাখিল করেন। তবে বাদী পক্ষ পরে আদালতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন বিবাদী আতাউর রহমানরা আদালতের একজন অফিস সহকারীকে ম্যানেজ করে জাল কাগজপত্র তৈরী করে নেন। এরপর সেগুলো উচ্চ আদালতে দাখিল করেন। এ ঘটনার পরে বাদী পক্ষ সম্প্রতি প্রধান বিচারপতিসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেন।
এ ঘটনার সঙ্গে রাজশাহী যুগ্ম জেলা জজ আদালতের অফিস সহকারী (কপিং ইনচার্জ) সাইদুর রহমান জড়িত আছে বলেও ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
বাদী আব্দুল জব্বার অভিযোগ করে বলেন, আদালত আমাদের পক্ষে রায় দেওয়ার পরে বিবাদী পক্ষ কোটি টাকা মূল্যের ওই সম্পত্তি দখলের জন্য জাল কাগজপত্র আদালত থেকে তৈরী করেছেন। এর বিরুদ্ধে আমরা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছি। এরই মধ্যে জাল কাগজপত্র নিয়ে পুনরাই ওই জায়গা দখলের চেষ্টা করছে বিবাদী পক্ষ।
তবে গতকাল শনিবার এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করে হলে রাজশাহী যুগ্ম জেলা জজ আদালত-২ এর অফিস সহকারী সাইদুর রহমানের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
তবে বিবাদী আতাউর রহমান দাবি করেন, তারা যেসব কাগজপত্র আদালতে দাখিল করেছেন সেগুলোর কোনোটিই জাল নয়। এগুলো আদালতেই প্রমাণ হবে। জমি দখল চেষ্টার অভিযোগও অস্বীকারও করেন তিনি।
স/আর









