রাজশাহী

বাহারী পিঠার গন্ধে মেতেছে শাহমখদুম কলেজ প্রাঙ্গন

নিউজ ডেস্ক৫ জানুয়ারি ২০১৭৫ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:
শীত মানেই পিঠা পুলির উৎসব। শীত আসলেই পিঠা খাওয়ার ধুম পড়ে নগর বন্দরে। পিঠা খাদকদের জন্য এক সাথে শত রং রুপ গন্ধের পিঠা যেন মন ছুঁয়ে যায়। বাহারি পিঠার উৎসব নিয়ে রাজশাহীর শাহমখদুম কলেজে শুরু হয়েছে দু’দিনব্যাপী পিঠা মেলার উৎসব। রয়েছে নগরীর বিভিন্ন কলেজ ছাড়াও পিঠা বাড়ির স্টল। প্রত্যেকে তাদের নিজস্ব কারুকার্যের মধ্য দিয়ে সাজিয়ে  তুলেছে হরেক রকম পিঠা। পিঠার গন্ধে যেন মেতে উঠেছে কলেজ প্রাঙ্গণ।

 

প্রতিবারের মতো এবারো রাজশাহী মহিলা চেম্বার অব কমার্সের আয়োজনে পিঠা মেলার শুরু হয়েছে।  বিকেলে মহিলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি রোজেটী নাজনীন এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ মেলার উদ্বোধন করেন রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই উৎসবে যোগদান করতে একে একে ভীড় করেন তরুন তরুনী এবং শিক্ষার্থীরা। পিঠা খাদকদের এমন উৎসব যেন আর হয়না। পিঠা খাদক, আয়োজক আর অংশগ্রহনকারীদের নিয়ে এ আয়োজন যেন এক মিলন মেলায় পরিনত হয়েছে।


জামাই বাবু বিবিখানা আনতে একহাতে গোলাপ আর এক হাতে হলদে গাদা নিয়ে পৌষের মৌসুমে গেলেন সাত ভাই চম্পার বাড়িতে।  প্রবাদ নয় এসবই নাকি পিঠার নাম। বাংলার পিঠার এমন মজাদার নাম শুনলেই যেন খেতে মন চাই। আর পিঠা দেখে জিভে জল আসেনা এমন মানুষ পাওয়া দায়। শুধু তাই-ই নয় নাম না জানা  হরেক নাম পিঠা পাওয়া যাচ্ছে স্বল্প মূল্যে। এবারে জেনে নেই এসব পিঠার নাম আর মূল্য তালিকা।

 


মেলায় কুড়ি পিঠা বিক্রি হচ্ছে ৫ টাকায়, নকশী পিঠা ১০ টাকা, কামরাঙ্গা ১০ টাকা, ফুলঝুড়ি ৫ টাকা, বিবিখানা ১৫ টাকা, পটল পিঠা ১০ টাকা, বকুল পিঠা ১৫ টাকা, হৃদয়হরণ ১০ টাকা, রসচিতাই ২০ টাকা, প্যান কেক ২০ টাকা, ডোনাড ৮ টাকা, জামাই পিঠা ১০ টাকা, লবঙ্গ লতিকা ৭ টাকা, লাভ পিঠা ৫ টাকা, গোলাপ ৫ টাকা, তিলা পিঠা ২০ টাকা, ঝাল পাকোড়া ৫ টাকা,পাকোয়ান ৭ টাকা, আখিয়া ৩ টাকা, গোলাপ পানতোয়া ৫ টাকা, কিমা কুশলী ১০ টাকা, মাওয়া পিঠা ৭ টাকা, হলুদ গাদা ৫ টাকা,  দুধ পুলি ৫ টাকা, ছানা জিলাপী ৩০ টাকা, বকুল পিঠা ২৫ টাকা, তালের বড়া ১৫ টাকা, প্রজাপতি ১৫ টাকা, মালপোয়া ১০ টাকা, দুধ পায়েশ ১০ টাকা, পৌষ পিঠা ৮ টাকা, কিছুমিছু ৩০ টাকা, মুগ গোলাপ ৫ টাকা, পুটিং ২০ টাকা, নারকেল পুলি ১০ টাকা, মুগবেনী ৫ টাকা, সাতভাই চম্পা ১০ টাকা, মাংস পুলি ২০ টাকা, ভাপা পিঠা ১২ টাকা, গুলবাহার ৪০ টাকা, সবজীবাহার ১৫ টাকা, ঝাল পাকোয়ান ১৫ টাকা, আন্দশা ১০ টাকা এবং ক্যারোট কুইন ১০ টাকা।


পাটি সাপটার মধ্যে, কিমা পাটিসাপটা ২৫ টাকা, মাওয়া পাটিসাপটা ২০ টাকা, ক্ষির পাটিসাপটা ২০ টাকা, নারিকেল পাটিসাপটা ২০ টাকা।

 
আয়োজকরা বলছেন, পিঠার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতেই এই পিঠা মেলা। বিভিন্ন নামধারী এসব পিঠার নাম হয়ত কারো জানা নেই, তাই রান্না করে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এসব পিঠা পরিবেশন করে সবাইকে পরিচয় করিয়ে দেয়াই মেলার উদ্দেশ্য। মেলায় দক্ষতা দেখিয়ে রকমারি পিঠা পরিবেশন করতে পেরে আনন্দিত অংশগ্রহনকারীরাও।


পিঠা মেলায় অংশগ্রহনকারী মাদার বকশ গারস্থ্য অর্থনীতি কলেজের অধ্যক্ষ সালমা সাদাৎ সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, এর আগেও অনেক পিঠা মেলায় আমরা অংশগ্রহন করেছি। মেলায় এসে সবার সাথে জানা শোনার মাধ্যমে সম্পর্কের সৃষ্টি হয়। আমরা অনেক আনন্দিত আমাদের মেয়েরা সৃজনশীলতার মাধ্যমে বিভিন্ন পিঠা তৈরী করে সুন্দর ভাবে পরিবেশন করেছে। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে তারা আরোও উৎসাহিত হবে।

 
তিনি বলেন, গ্রামীন ঐতিহ্যের অনেক কিছুই এখন বিলুপ্তির পথে। কিন্তু বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্র আছে যা বাঙ্গালীরা কখনও বিলুপ্তি হতে দেয়না। তারই একটা অংশ হলো এ পিঠা। শহরাঞ্চলে এসব পিঠার প্রচলন না থাকলেও এখন এসব পিঠা সবাই দেখতে পারছে।


অংশগ্রহনকারী শিক্ষার্থী কনা বলেন, আমরা ভীষন খুশি। এমন একটা মেলায় এর আগে কখনো অংশগ্রহন করিনি। আমরা কয়েকজন মিলে এবারে ত্রিশ ধরনের পিঠা তৈরী করেছি। আর এসব পিঠা বানানো শিখেছি আমাদের বাড়ি থেকে এবং আমাদের কলেজ থেকে। ভাবতে পারিনি প্রশিক্ষণটা হঠাৎ একটা অভিজ্ঞতার জন্ম দিবে।

 


মেলায় বেড়াতে এসে শিক্ষার্থী সোহানা ইসলাম বলেন, শহরে এসব পিঠার নাম কখনো শুনিনি। খুব ভালো লাগছে যে এক দিনের জন্য হলেও গ্রামীন ঐতিহ্যবাহী পিঠার আয়োজন সামনে দেখতে পারছি। আর স্বল্প মূল্যে এসব পিঠা পেয়ে আরও ভালো লাগছে।

 
মেলার আয়োজক মহিলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি রোজেটি নাজনীন মনে করেন বাংলার বিভিন্ন ঐতিহ্য তুলে ধরে রাজশাহী হবে দেশের মানচিত্রে অন্যতম একটি নাম। আর সে কারণে প্রতি বছর এভাবেই বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের তৈরী করা হচ্ছে। নারীরা তাদের সৃজনশীলতার মধ্যে দিয়ে একে অপরকে শেখানোর মাধ্যমে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরী করতে পারছে যা সত্যিই প্রশংসনীয়।

 
তিনি বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় এবারো আমরা নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে এ মেলার আয়োজন করেছি। তবে এবার একটু ভিন্ন ভাবে। এবারে কলেজ সমূহকে অর্ন্তভূক্ত করেছি যাতে আমাদের শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে ভালো কিছু করতে শেখে। বাইরের ফাষ্ট ফুডের দিকে না ঝুঁকে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী খাবার নিজেরা তৈরী করে খায় এবং অপরকে শেখায়।

 
তিনি বলেন,আমাদের মেয়েরা অনেক ডেভেলপ হচ্ছে। নারীদের একটু সুযোগ বা সহায়তা করলে তারা আত্ম প্রচেষ্টায় অনেক কিছু করে দেখাতে পারে। তারই এক অন্যন্য উদাহরণ হলো এই পিঠা মেলা।

 

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয়ে এ মেলা শেষ হবে আগামি কাল শুক্রবার।

স/শ