রাজশাহী

বাঘা মাজারের ১৬ তম মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পেলেন খন্দকার আনোয়ারুল

নিউজ ডেস্ক১৩ জানুয়ারি ২০২৬৩ মিনিট পড়া

বাঘা প্রতিনিধি:

রাজশাহীর বাঘায় হযরত শাহদৌলার মাজারের ওয়াক্ফ এস্টেটের নতুন মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব পেয়েছেন খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। মঙ্গলবার( ১৩-জানুয়ারি) দায়িত্ব বুঝে পাওয়ার পর মাজারের সৌন্দর্য বর্ধণ-সহ একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার ঘোষনা দিয়েছেন । খন্দকার আনারুল ইসলাম বাঘার কৃতিসন্তান প্রায়ত খন্দকার চাঁন মিয়া বড় ছেলে।

বাংলাদেশে মূলত সুফি, দরবেশ, পীর বা ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সমাধিস্থলকে মাজার বলা হয় । একই সাথে নেককার মুমিনদের কবরকে সম্মানার্থে রওজা বলা হয়, যা জান্নাতের বাগানের প্রতীক। এদিক থেকে বাঘায় রয়েছে হযরত শাহদৌলার (রা:) মাজার। যা দেখভালের জন্য বংশপরায়ন ভাবে একজনকে মোতাওয়াল্লী দেয়া হয়। গত কয়েক যুগ পরে এবার এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব বুঝে পেয়েছেন খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

মাজার একটি আরবি শব্দ। যার অর্থ ‘জিয়ারতের স্থান ‘বা দর্শনের জায়গা। এটি সাধারণত পীর-দরবেশ বা অলি-আওলিয়াদের সমাধিস্থলকে বোঝায়। যেখানে মানুষ শ্রদ্ধা ও ভক্তি জানাতে যান । এ সমস্ত স্থানকে পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত করা হয়।

বাঘায় রয়েছে হযরত শাহদৌলার মাজার। এর পূর্ব পাশে রয়েছে বিশাল দিঘি এবং উত্তর পাশে প্রায় ৫ শত বছর পূর্বে সুলতান আমলে নির্মিত শাহী মসজিদ এবং পশ্চিম-উত্তর কর্ণারে মুসলিম স্থাপত্তের নিদর্শন হিসাবে একটি জাদুঘর এবং মাজার ঘেষে মহিলাদের মসজিদ সহ বিশাল এলাকা (জায়গা-জমি)নিয়ে গঠিত বাঘা ওয়াক্ফ এস্টেট ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছেন, বাংলাদেশে ১৯৬২ অধ্যাদেশ মোতাবেক এ ধরনের প্রতিষ্ঠান সরকারি ওয়াক্ফ এস্টেট দ্বারা পরিচালিত হলেও মুলত এ সকল প্রতিষ্ঠান দেখভালের দায়িত্বে থাকেন করেন বংশপরায়ন ভাবে নিয়োগকৃত একজন মোতায়ালি । যার অর্থ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা রীতি । এদিকে থেকে গত বছর ২০২৫ এর ডিসেম্বরে পুরাতন মোতওয়াল্লি খন্দকার মনছুর আলীর দায়িত্বকাল শেষ হওয়ায় এবার নতুন করে ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ তারিখ মোতায়ালির দায়িতাভার পেয়েছেন খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন , বিগত সময় গুলোতে অনেক সরকার প্রধানের এমপি,মন্ত্রীরা মাজার কেন্দ্রীক এখানে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে চাইলেও নানা কারনে সেটি সম্ভব হয়নি। এখানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ মাজারে জিয়ারত এবং মানত-সহ বনভোজন করতে আসেন। আমি আমার পক্ষ থেকে শতভাগ চেষ্টা করবো এই মাজার এলাকায় সৌন্দর্য বর্ধণ-সহ একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার।

বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মি আক্তার জানান, মোতওয়াল্লীর দায়িত্ব ভার শেষ হওয়ার কারণে বাংলাদেশ ওয়াক্ফ এস্টেট থেকে নতুন মোতওয়াল্লীর দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়ার জন্য আমার কাছে একটি চিঠি এসছে। সেই আলোকে মঙ্গলবার(১৩ জানুয়ারী) সকালে খন্দকার আনোরুল ইসলাম কে মোতওয়াল্লীর দায়িত্ব বুঝে দেয়া হয়েছে।
বাঘা শাহী মসজিদের ভিতরে প্রবেশ পথের উত্তর গেটের বামদিকে হযরত শাহদৌলা (র.) রওজা শরীফ অবস্থিত। ৫০০ বছর আগে বাগদাদ থেকে ৫ জন সঙ্গীসহ ইসলাম প্রচারের জন্য পূর্ব-দক্ষিণ কোনে পদ্মা নদীর কাছে বাঘা নামক স্থানে বসবাস শুরু করেন। তারপর নিজের চরিত্র, মাধুর্য্য, ব্যবহার ও আত্মিক শক্তির বলে এই এলাকার জনগণের মধ্যে ইসলাম প্রচারে আকৃষ্ট করেন তিনি।