বাগমারা প্রতিনিধি:
বাগমারার হামিরকুৎসা ইউনিয়নের সরকার দলীয় সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর পরাজয়ের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক এবং তার বড় ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ফরহাদ হোসেন মজনুকে দায়ী করেছেন পরাজিত প্রার্থী শাফিনুর নাহার।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করেন চেয়ারম্যান প্রার্থী শাফিনুর নাহার। এসময় বিক্ষোভ বিক্ষোভ মিছিলও করেন শাফিনুর নাহারের কর্মী-সমর্থকরা। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা সকলেই নারী ও শিশু।

- সাংবাদিক সম্মেলনে পরাজিত প্রার্থী শাফিনুর নাহার অভিযোগ করে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক ও তার ভাই ফরহাদ হোসেন মজনু মিলে নৌকার প্রার্থীকে পরাজিত করার জন্য অর্থ, শক্তি এমনকি প্রশাসনের নামধারী ব্যক্তিদের দিয়ে ভোট কেন্দ্রে নৌকার এজেন্ট ও ভোটারদের বের করে দিয়েছেন।
তারা বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ার হোসেনের আনারস মার্কায় ভোট দিতে সাধারণ ভোটারদের বাধ্য করেছেন। হামিরকুৎসা ইউনিয়নের ভোট কারচুপির সাথে স্থানীয় সংসদ সদস্য ছাড়াও তার ভাই উপজেলা আ’লীগের প্রচার সম্পাদক ফরহাদ হোসেন মজনুর লোকজন প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে জবর দখল করে সরকার দলীয় প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন।
তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য বাগমারায় অধিকাংশ আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থন করে অর্থ ও তার আত্বীয় স্বজনদের মাঠে নামিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের পরাজিত করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি আবু হানিফ, আ’লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা সোলাইমান আলী, আ’লীগ নেতা মঞ্জুর রহমান, রেজাউল করিম বাচ্চু, শামসুল রহমান, আব্বাস আলী, মুনছুর রহমান সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ প্রমূখ।
সংবাদ সম্মেলনের শেষের দিকে স্থানীয় কিছু নারী ও শিশুরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। এসময় তারা এমপি এনামুল হক ও তার ভাই মজনুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের শ্লোগান দিতে থাকেন।
- এর আগে গত ৭ নভেম্বর বাগমারা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টুর বিরুদ্ধে নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে নির্বাচনে কাজ করার অভিযোগ তোলা হয়।
ওইদিন সান্টুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিলও করেন দলীয় ও পরাজিত প্রার্থী রেজাউল করিমের কর্মী-সমর্থকরা।
- এদিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকার্মীরা অভিযোগ করে জানান, সান্টুর বিরুদ্ধে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল অনুস্ঠিত হওয়ায় তিনি এমপি এনামুলের প্রতি ক্ষিপ্ত হন। এর প্রতিশোধ নিতেই বৃহস্পতিবার এমপির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করান সান্টু। বৃহস্পতিবারের এ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া নারী ও শিশুদেরকে অর্থ দেওয়া হয় বলেও দাবি করেছেন অংশগ্রহণকারী স্থানীয়রা।
প্রসঙ্গত, গত ৩১ অক্টোবর বাগমারার ১৬টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত ৭ মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে ওই নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতার আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত সেটি স্থগিত করে দেন নির্বাচন কমিশনা। পরে গত ৩১ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
স/আর









