সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
দেশে সব অপারেটরের ডেটার ব্যবহার বাড়ছে। তবে বেশ কিছু দিন হতে শুধু বাংলালিংকেই কথা কমছে ও ডেটা বাড়ছে।
জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে ডেটা নিয়ে ছুটছে আর ছুটছে গ্রাহক সংখ্যায় দেশের তৃতীয় অপারেটরটি। এ কারণেই তাদের ভয়েস কলের পরিমাণ কমছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আবার ডেটা থেকে যে খুব বেশি আয় করছে তেমনটিও নয়।

বাংলালিংকের মূল কোম্পানি ভিয়ন সম্প্রতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধের এ আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এ হিসাব বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডেটার প্রতি জোর দিতে গিয়ে তাদের ভয়েস কলের পরিমাণ কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে মোট আয়েও।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অপারেটরটির কর্পোরেট কমিউনিকেশন্সের সিনিয়র ম্যানেজার আংকিত সুরেকা বলেন, বাংলালিংকের ডেটার ব্যবহার বৃদ্ধির পেছনে অফার-প্যাকেজ, স্পেকট্রাম, ডিজিটাল সার্ভিস ও ফোরজির ভূমিকা রয়েছে।
ভিয়নের প্রতিবেদন বলছে, এই প্রান্তিকে বাংলালিংক মোট আয় করেছে এক হাজার ১০০ কোটি টাকা যা গত বছরের একই সময়ে ছিল এক হাজার ১৭০ কোটি টাকা।
সব মিলে ২০১৮ সালের প্রথম নয় মাসে বাংলালিংকের আয় তিন হাজার ২৭০ কোটি টাকা যা আগের বছরের প্রথম নয় মাসে ছিল তিন হাজার ৫৭০ কোটি টাকা।
আয়ের হিসাবে দেখা যাচ্ছে, সর্বশেষ তিন মাসে এবার তারা ডেটা থেকে আয় করেছে মাত্র ১৯০ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৭০ কোটি। এক প্রান্তিক আগেও অর্থাৎ এপ্রিল-জুনে এর পরিমাণ ছিল ১৮০ কোটি টাকা।
সেই তুলনায় গ্রাহক প্রতি মাসে ডেটার ব্যবহার কিন্তু হরদম বাড়ছে। বিশেষ করে ফোরজি চালু হওয়ার পর থেকে তো কোনো কথাই নেই। এখন বাংলালিংকের একেকজন ডেটার গ্রাহক মাসে গড়ে খরচ করেছেন ৭৩৪ এমবি ডেটা। মাত্র এক বছর আগেও এটি ছিল ৫২৩ এমবি।

চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে গ্রাহক প্রতি মাসে ভয়েস কল হয়েছে ২৫৫ মিনিট। এক বছর আগেও যা ছিল ২৮০ মিনিট।
তুলনাটা আরেকটু পেছন থেকে হলে আরও বড় পার্থক্য পাওয়া যাবে। ২০১৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে বাংলালিংকে একেকজন গ্রাহক ৩০৫ মিনিট কথা বলেছেন। আর সেখানে মাসে একেকজন ইন্টারনেট গ্রাহক ডেটা খরচ করতেন ৩০৪ এমবি করে।
ডেটায় অপারেটরটির এমন লাফিয়ে লাফিয়ে চলার ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বীরা অবশ্য বলছেন , বাংলালিংক অনেক কম দামে বা কখনো কখনো ফ্রিও গ্রাহকদেরকে ডেটা পুশ করছে।
বাংলালিংকও সারাসরি এমন মন্তব্য উড়িয়ে দিচ্ছে না। তবে বাজার তৈরিতে তাদের এই কৌশল কাজে লাগছে বলেও মনে করছেন তারা।
মোট আয় কমলেও কার্যকর গ্রাহকের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন পেয়েছে অপারেটরটি। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরের শেষে তাদের কার্যকর সংযোগ তিন কোটি ১৪ লাখ থাকলে এ বছর তারা তৃতীয় প্রান্তিক শেষ করেছে তিন কোটি ২৩ লাখ কার্যকর সংযোগ দিয়ে।
অবশ্য এর আগে বিভিন্ন সময় এর চেয়েও বেশি সংযোগ বাংলালিংকের নেটওয়ার্কে ছিল।









