সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক : সমাজে সম্মান ও মর্যাদার সেতুবন্ধন গড়ে ওঠে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে। বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধা এই সভ্যতা-সৃষ্টির ভিত্তিমূল। ইসলাম এই মূল্যবোধকে শুধু নৈতিকতাই নয়, বরং ঈমানী দায়িত্ব হিসেবে গণ্য করেছে। কুরআনুল কারীম ও হাদীসে এসেছে—বয়সে, অভিজ্ঞতায়, প্রজ্ঞায় যারা অগ্রগামী, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা মু’মিনের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন:

وَقَضىٰ رَبُّكَ أَلّا تَعبُدوا إِلّا إِيّاهُ وَبِالوالِدَينِ إِحسانًا ۚ إِمّا يَبلُغَنَّ عِندَكَ الكِبَرَ أَحَدُهُما أَو كِلاهُما فَلا تَقُل لَهُما أُفٍّ وَلا تَنهَرهُما وَقُل لَهُما قَولًا كَريمًا
‘তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন, তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে। যদি তাদের একজন বা উভয়েই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হন, তবে তুমি তাদেরকে ‘উফ্’ বলো না, ধমকেও না, বরং তাদের সঙ্গে সম্মানজনক কথা বলো।’
(সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত :২৩)
যদিও আয়াতটি পিতা-মাতার প্রসঙ্গে, তবে বার্ধক্য ও দুর্বলতার প্রতি যে সংবেদনশীল আচরণ কাম্য—তা সমগ্র সকল বয়োজ্যেষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
হাদীসের আলোকে
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন:
لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يُوَقِّرْ كَبِيرَنَا، وَيَرْحَمْ صَغِيرَنَا، وَيَعْرِفْ لِعَالِمِنَا حَقَّهُ
‘সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে আমাদের বয়োজ্যেষ্ঠকে সম্মান করে না, ছোটদের প্রতি দয়া করে না এবং আলেমদের হক স্বীকার করে না।
অন্য এক হাদিসে নবী (সা.) বলেন:
إِنَّ مِنْ إِجْلَالِ اللَّهِ تَعَالَى إِكْرَامَ ذِي الشَّيْبَةِ الْمُسْلِم
‘আল্লাহর মহত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ হলো একজন প্রবীণ মুসলমানকে সম্মান করা।’
(আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৪৩)
এই শিক্ষাগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রবীণদের প্রতি সৌজন্য ও সম্মান প্রদর্শন শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, বরং তা আল্লাহর সন্তুষ্টির একটি পথও বটে।
সাহাবায়ে কেরামের দৃষ্টিভঙ্গি
দ্বিতীয় খলিফা ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বর্ণনা করেছেন, “আমি যখন কোনো বৃদ্ধকে দেখি, তখন তার বয়সের ভারে পরিপক্বতা ও ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই।” (সুবহানাল্লাহ) এমনই ছিল সাহাবীদের মধ্যে চিন্তাধারা।
বর্তমানে অনেক সমাজেই প্রবীণদের প্রতি সম্মান কমে গেছে। ইসলামারে মৌলিক অনুশাসন ভুলে যাওয়ার ফলে প্রবীণদের বৃদ্ধাশ্রমে ঠাঁই হওয়া, নানান ক্ষেত্রে উপহাসে পরিণত হওয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অগ্রাহ্য করা। এসবই এক ভয়াবহ আত্মঘাতী দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ। অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে একজন বয়োজ্যেষ্ঠের নীরব উপস্থিতিও সমাজে প্রশান্তি ও স্থিতি বয়ে আনে।
মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রদর্শন করার তাওফিক দান করুন। আমীন।









