জাতীয়

বন্যা প্রতিরোধে এক হলো জনতা

নিউজ ডেস্ক৪ আগস্ট ২০১৬২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

বুধবার বিকেলে ফরিদপুরের সঙ্গে সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলায় যাতায়াতের প্রধান সড়কের খুশিরবাজার এলাকার প্রায় ৪০ ফুট অংশ ধসে পড়ে। প্রবল বেগে পানিও ঢুকতে শুরু করে। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে আকস্মিক এ ঘটনায় হতচকিত মানুষ দিশেহারা না হয়ে উদ্যোগ নেয় প্রতিরোধের।

এ সময় নিজেদের জানমাল রক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়ে হাজারো মানুষ। সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেন প্রশাসনও। যার যা কিছু ছিল পাট, বাঁশ, খড়ি, বস্তা, সে তাই নিয়েই ঝাঁপিয়ে পড়েন বন্যার পানি ঠেকাতে। এক পর্যায়ে ঠেকিয়েও দেন। বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রাণান্ত চেষ্টায় বানের পানি রুখে সড়কে বাঁধ পুনঃস্থাপনে সমর্থ হন। এতে হাসি ফোটে শঙ্কিত হয়ে পড়া মানুষের মুখে।

স্থানীয়রা জানান, পানির চাপে সড়কটির ওই অংশ ভেঙ্গে যায় এবং মুহুর্তের মধ্যে তা বড় হতে থাকে। ফলে ফরিদপুরের সাথে সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলার সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সড়ক ধসে যাওয়ার পরপরই এলাকাবাসী প্রশাসনকে সংবাদ দেন এবং নিজেদের উদ্যোগে নিজেরাই ভাঙ্গণ ঠেকানোর কাজ শুরু করেন। রাতের মধ্যেই ভাঙ্গণ রোধ করতে সমর্থ হন।

তারা জানান, পাট, বাঁশ ও সুপরি গাছ কেটে ভেঙ্গেপড়া সড়কের দুই পাশে পাইলিং করে ভাঙ্গন ঠেকানোর কাজ করা হয়।

স্থানীয়দের দাবী, গত ১ আগষ্ট পাশের সদরপুর উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের ২০০ মিটার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করে ১৫-২০টি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়। সেই পানির তোড়েই এই সড়কে ভাঙ্গনের ঘটনা ঘটে।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক সরদার সরাফত আলী জানান, সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর  আলম ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং জনতার সহযোগীতায় ভাঙ্গন ঠেকাতে উদ্যোগ নেন।

উল্লেখ্য, ফরিদপুরে পদ্মার পানি বৃহস্পতিবার বিপদসীমার ৬৬ সেন্টিমিটার উপরে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সূত্র: রাইজিংবিডি