নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর:
প্রবল বন্যা ও কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে নাটোরের সিংড়াসহ চলনবিলাঞ্চলে ৩হাজার হেক্টরেরও বেশি জমির আমন ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হুমকির মুখে রয়েছে আরো কয়েক হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ধান। ডুবে গেছে রোপা আমনের বীজ তলা। ফলে গত কয়েক দিনে দফায় দফায় ভারি বর্ষণ ও নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চলনবিলের কৃষিতে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
কৃষকরা বলছে, আগামী কয়েক দিনে মধ্যে বণ্যার পানি না কমলে লাগানো ধান ও বীজ তলা পঁচে নষ্ট হয়ে যাবে। পুনরায় কৃষককে আবারও বীজ তলা তৈরি করে ধান লাগাতে হবে। এতে করে এক জমিতে দ্বি-গুণ খরচ হবে।
তবে স্থানীয় কৃষি বিভাগ বলছে, আগামী দু-একদিনের মধ্যে বণ্যার পানি কমে ধান জেগে উঠলে কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু পানি কমার ও কোন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। এদিকে প্রতিদিনই পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যার পানিতে ধানের ক্ষয়-ক্ষতির সঠিক পরিমান এখনও পর্যন্ত নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। অপরদিকে চলনবিলের নদ-নদীতে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তীর বর্তী এলাকার জন সাধারণ আতংকে জীবন যাপন করছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চলনবিলের সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম-জামতলীর উত্তর চওড়ার মাঠ, হিয়ালার বিল, হুলহুলিয়া বিল, বড়িয়া বিল এবং চামারী ও হাতিয়ান্দহ ইউনিয়নের নিচু এলাকা বোনা-রোপা আমন লাগিয়েছিল কৃষকরা। কিন্তু বণ্যার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া তলিয়ে যায় ওই সব এলাকার বোনা-রোপা আমন ধানসহ বীজ তলা। তাছাড়া যারা এখনও রোপা ধান লাগাননি; লাগানোর জন্য জমি তৈরী করে রেখেছিলেন, সে সব জমিও তলিয়েছে গেছে। বণ্যার পানিতে ডুবে গেছে বীজতলা। স্থানীয় কৃষি বিভাগের হিসাব মতে চলনবিলাঞ্চলে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমির বোনা ও রোপা আমন ধান জলমগ্ন হয়েছে বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তবে কৃষকরা জানিয়েছেন এর পরিমান আরও বেশি। কৃষকদের ধারনা সবমিলে ৪হাজার হেক্টরেরও বেশি জমির বোনা ও রোপা আমনসহ বীজ তলা পানির নীচে ডুবে গেছে। তাছাড়া মাঝে মধ্যে দু’এক জমিতে ধান জেগে থাকলেও সেগুলোতে শেঁওলা ধরে পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে পুনরায় ওই জমিতে রোপা আমন লাগাতে গেলে চলনবিলের কৃষকদের এবার চারার সংকটে ভুগতে হবে।
চলনবিলাঞ্চলের কৃষক মোসাদ্দেক হোসেন মজনু ও টগর হোসেন জানান, প্রবল বন্যার পানিতে এলাকার বেশীর ভাগই জমির রোপা আমন ধান তলিয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, বর্ষণে বণ্যার পানি বৃদ্ধি পেলে আরও অনেক জমির ধান পানির নিচে চলে যাবে। তাছাড়া এই অঞ্চলের কৃষকের তৈরী বীজতলাও ডুবে গেছে। দেখা দিয়েছে চারা সংকট।
সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন জানান, চলনবিল অধ্যুষিত অত্র উপজেলা বণ্যার কবলে ১ হাজার ৮শ হেক্টর জমির রোপা আমন ও বেশ কিছু বীজতলা ডুবে গেছে। আর বণ্যার পানি অব্যাহত বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা হতাশায় ভুগছে। তবে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান এখন নির্ণয় করা হয়নি।
সিংড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জানান, বণ্যার কবলে পড়ে অত্র উপজেলায় কৃষিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাছাড়া প্রায় ১ হাজার কৃষকের বাড়ি ঘরে পানি ডুকে পড়ায় হত দরিদ্র কৃষকরা কষ্টে দিনাতিপাত করছে। ইতোমধ্যে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের পরামর্শক্রমে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
স/মি









