নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রবল বর্ষনে দেশের উত্তারাঞ্চল প্লাবিত। বন্যায় পানি বৃদ্ধির কারনে ঘরবাড়ি সহ সর্বস্ব হারিয়েছেন শত শত পরিবার। এসব দুর্গত অঞ্চলে সরকারী-বেসরকারী সহ নানা সংগঠন ত্রান সহায়তা পৌছে দিয়েছে। তবে যে ত্রান তাদের কাছে পৌছেছে তা যথেষ্ঠ নয়। খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং ঔষধের অভাবে ডায়ারিয়া,আমাশয়সহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ।
বন্যার পানি ক্রমে কমতে থাকলেও দেশের উত্তারাঞ্চলের রংপুর বিভাগের জেলা কুড়িগ্রামে এখনো পানিবন্দি হাজারো মানুষ। তাদের সবার কাছে ঠিকমতো পৌছেনি প্রয়োজনীয় ত্রান সামগ্রী। ফলে একদিকে যেমন খাবারের অভাবে কষ্টে দিনপার করতে হচ্ছে অন্যদিকে পানিবন্দি হওয়ায় আবাসনের অসুবিধায় ভুগছে ওই এলাকার মানুষ।
বিভিন্ন পত্র পত্রিকা এবং টেরিভিশনে সংবাদ প্রকাশের পর পানিবন্দি এসব মানুষের কাছে ত্রান সহায়তা নিয়ে এগিয়ে গেল রাজশাহী কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের কিছু তরুন। নিজেদের ব্যাক্তিগত উদ্যোগে কলেজের সকল শিক্ষার্থীদের কাছে অর্থসহায়তা জোগাড় করে বন্যার্তদের সেবাদান করতে চলেছেন তারা। অক্লান্ত পরিশ্রম করে কলেজের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জোগাড় করেছেন প্রায় ৫০ হাজার টাকা।

আজ শনিবার ভোর ৫ টায় রাজশাহী হতে কুড়িগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোজাহির হোসেন আতিক, রাব্বি হাসান, ওবাইল্লাহ আল মাহমুদ আজিবুর রহমান, মাষ্টার্সের শিক্ষার্থী শাহীনুর রহমান এবং মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক প্রমথ চন্দ্র সরকার। শনিবার তারা রাজশাহী থেকে কুড়িগ্রামের উলিপুর এলাকার বন্যা কবলিত ১৮০টি পরিবারে ত্রান সহায়তা প্রদান করবেন।
উদ্যোক্তাদের মধ্যে রাজশাহী কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোজাহির হোসেন আতিকের সাথে কথা বলে জানা যায়, শনিবার ভোর ৫ টায় তারা রাজশাহী থেকে উজিপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন তারা। এসময় তারা রাজশাহী থেকে নিয়ে যায় ওষুধ সামগ্রী, মোম, লাইটার, স্যালাইন এবং লবন। বেলা ১১টায় কুড়িগ্রামে পৌছে সংগে নেন চাল এবং ডাল।
আতিক বলেন, আমরা খোঁজ নিয়েছি সেখানে বন্যাকবলিত মানুষেরা শুকনো খাবার খেয়ে থাকতে পারছেন না। তারা ভাত এবং তৎজাতীয় খাবারের ইচ্ছা প্রকাশ করছেন তাই আমরা এসব খাবার তাদের জন্য নিয়ে যাচ্ছি। আরো জানতে পেরেছি সেখানে তারা ডায়ারিয়া আমাশয় সর্দি জ্বর সহ নানা রোগে ভুগছে তাই পর্যাপ্ত ওষুধ সামগ্রী নিয়ে যাচ্ছি।

উদ্যোক্তাদের আরেক শিক্ষার্থী তানিয়া সুলতানা বলেন, আর্ত মানবতার সেবায় আমাদের সকলকে এগিয়ে আসা উচিত। যুবক বয়সে আমরা মানুষের সেবা করতে পারলে আমাদের মতো অনেকেই নিজেরা পরবর্তীতে উদ্যোগ নিবে । আর এভাবেই আমাদের সমাজে পরিবর্তন আসবে।
তিনি বলেন, আমাদের এই উদ্যোগকে রাজশাহী কলেজ প্রশাসন অনেক সাহায্য করেছেন। কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক হবিবুর রহমান এবং উপাধ্যক্ষ আল ফারুক চৌধুরী আমাদের সর্বাত্তকভাবে সহায়তায় এসে দাড়িয়েছেন । কুড়িগ্রামে বন্যার্তদের অবস্থা জেনে কোন জায়গায় গেলে আমাদের ভালো হবে তা নির্ধারণ করে দিয়েছেন । এমনকি তিনি ব্যাক্তিগত উদ্যোগে আমাদের পরিবহনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আর সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সকল বিভাগীয় প্রধান সহ সকল শিক্ষক আমাদের সাহায্য করেছেন। একটা সহৎ উদ্যোগে কলেজ প্রশাসনের এমন সহায়তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
কুড়িগ্রামে ত্রান সহায়তা পৌছে দিতে যাওয়া মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক প্রমথ চন্দ্র সরকার বলেন, আমরা সবাই চাই মানবতার সেবায় এগিয়ে যেতে। দূর্যোগে মানুষই মানুষের পাশে দাড়াবে এটাই আসল মানুষের পরিচয়। আর্তমানবতার সেবায় যদি সবাই একতাবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসে, সবার মধ্যে মনুষত্বের বিকাশ ঘটে তবেই ইতিহাসে পারিবর্তন আসবে। আর এ ক্ষেত্রে যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে প্রথমে।

রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রথম বারের মতো যে উদ্যোগটি নিয়েছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। তাদের এই ক্ষুদ্র চেষ্টা আজ শতাধিক পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবে। তাদের এই মহৎ উদ্যোগের জন্য আমরা যতটুকু পেরেছি তাদের সাহায্য করেছি এবং তাদের কষ্টার্জিত তহবিল নিয়েই আমরা এগিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছি।
রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক হবিবুর রহমান সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, রাজশাহী কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রথমে আমার কাছে এসে তাদের এই উদ্যোগের কথা বলে। তারা যে আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসতে চাচ্ছে এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আমি তাদের সাহায্য করি। আমার অনেক ভালো লাগছে যে আমার কলেজের শিক্ষার্থীরা ছাত্রজীবনেই অন্যদের নিয়ে ভাবতে শিখেছে, তারা দেশেকে নিয়ে ভাবতে শিখেছে। কলেজের প্রতিটি শিক্ষার্থী দেশের মানুষের প্রতি ভালবাসার বহি: প্রকাশ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে রাজশাহী কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগ বিকাশের মাধ্যমে ডিসি অফিসে অর্থ সহায়তা পাঠিয়ে দিয়েছে। আরো বিভাগ এগিয়ে আসতে চাচ্ছে। এভাবে সবাই মানতবার সেবায় এগিয়ে আসলে সবার মাঝে যে পঙ্কিলতা আছে তা আর থাকবে না। আমরা কত টাকা দিতে পারছি সেটা বড় কথা না। আমাদের শিক্ষার্থীরা যে এগিয়ে আসছে এটাই বড় কথা।
স/শ









