লাইফ স্টাইল

ফ্রিজে রাখা ভাত গরম করে খাওয়া কি স্বাস্থ্যকর?

নিউজ ডেস্ক২৯ অক্টোবর ২০২৫৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভাত না থাকলে চলে না! যতই বিরিয়ানি, ফাস্টফুড বা বিভিন্ন ভাজাপোড়া খাওয়া হোক না কেন, গরম ভাতে ঘি, আলু সিদ্ধ মেখে কিংবা মাছ-ভাত সবারই প্রিয়। তবে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে আজকাল অনেকেই দুই বেলা ভাত খাওয়া বন্ধ করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবার ভাত নিয়ে একটি ট্রিক আচমকাই ভাইরাল হয়েছে। ব্লাডসুগার রোগী হলে কিংবা কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কমাতে চাইলে এই ট্রিক অনেকেই মেনে চলছেন।

কী সেই ট্রিক?
প্রেশার কুকারে রান্না করা ভাত, নাকি ফ্যান গালা ভাত, কোনটি বেশি উপকারী? এত দিন এই বিষয়টি ছিল চর্চার কারণ। তবে নতুন যে পন্থা ভাইরাল হয়েছে, সেই অনুযায়ী, ভাত রান্নার পর যদি ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করেন, তবে সেটি নাকি আরো স্বাস্থ্যকর হয়ে যান।

তবে এটি কেবল একটি ভাইরাল ট্রিক-ই নয়। নেপথ্যে রয়েছে বিজ্ঞান।

রান্না করা ভাত ঠাণ্ডা করার জন্য যদি ফ্রিজে রেখে দেওয়া হয়, তবে এটির মধ্যে থাকা স্টার্চ রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চে পরিণত হয়। এটি ফাইবারের মতো কাজ করে এবং ধীরে ধীরে হজম হয়। সর্বোপরি সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে।

ভাত এভাবে খাওয়ার ভাইরাল ট্রিকস-টি নিয়ে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

যাবতীয় বিভ্রান্তি দূর করতে জেনে নিন বিস্তারিত।
ঠাণ্ডা কিংবা ফ্রিজে রাখা ভাত ডায়াবেটিসে সাহায্য করে

পুষ্টিবিদদের মতে, কিছু স্টার্চ রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চে পরিবর্তিত যায়, যা ফাইবারের মতো হয়। অর্থাৎ গ্লুকোজ ধীরে ধীরে রক্তে পৌঁছায়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, খাওয়ার পর সুগার স্পাইক কিছুটা কম হয়, ফলে ডায়াবেটিস কিংবা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স করতে পারেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঠাণ্ডা কিংবা ফ্রিজে রাখা ভাত সহায়ক হয়।

ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে?

চিকিৎসকদের মতে, ঠাণ্ডা ভাত ব্লাডসুগার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।

তবে অনেকটাই কম মাত্রায়। গবেষণায় দেখা গেছে, ঠাণ্ডা বা ফ্রিজে রাখা ভাত খাওয়ার পর সুগার স্পাইক ১০ থেকে ২০% কম হতে পারে। বড় কোনো পরিবর্তন না হলেও এটি উপকারী।

এটিকে ছোটখাট পরিবর্তন ধরে নিতে পারেন, ম্যাজিকের মতো কাজ করে না। তবে অবশ্যই ভালোভাবে রান্না করতে হবে ভাত। দ্বিতীয়বার গরম করতে হবে ভালোভাবে, যাতে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ বজায় থাকে।’

ঠাণ্ডা বা ফ্রিজে রাখা ভাত স্বাস্থ্যকর?

পুষ্টিবিদরা বলেন, এই ভাবে ভাত খেলে কেবল ব্লাড সুগার স্বল্প মাত্রায় নিয়ন্ত্রণে থাকলেও কার্বোহাইড্রেট ও ক্যালরিতে ভরা থাকেই। হজম ধীরে হয় এবং দীর্ঘসময় পেট ভর্তি থাকে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, এটি একটি স্মার্ট কিচেন হ্যাবিট। তবে কখনো ওষুধ কিংবা এক্সারসাইজের বিকল্প হতে পারে না। বাসমতী ও লং গ্রেন রাইস বেশি উপযুক্ত এক্ষেত্রে। ব্রাউন রাইসে অতিরিক্ত ফাইবার থাকে।

পুনরায় গরম করলে কী ক্ষতি

চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেন, ভাত ভুল পদ্ধতিতে খেলে ফুড পয়েজনিং পর্যন্ত হতে পারে। সর্বদা দুই ঘণ্টার মধ্যে রান্না করা ভাত ফ্রিজে রাখা উচিত এবং ফ্রিজ থেকে বের করে ভালোভাবে গরম করা উচিত।

রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চের কী উপকার

ধীরে ধীরে হজম হয়, ব্লাড সুগার কম মাত্রায় বাড়ে।
পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা থাকে।
গাট হেলথ ভাল থাকে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক হয়।
সূত্র : আজতক বাংলা