রাজশাহী

রাজশাহীতে বিজিবি ও কারা পুলিশের মধ্যে জায়গা নিয়ে ফের উত্তেজনা

নিউজ ডেস্ক৩১ জানুয়ারি ২০১৭২ মিনিট পড়া

 নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহীতে কারা পুলিশ ও বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) এর মধ্যে জায়গা নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আদালতের রায় পাওয়ার পরে জেল পুলিশ এই জায়গা নিজেদের দখলে নিতে আসে বলে জানিয়েছে কারা পুলিশ। এ সময় বিজিবির সদস্যরা বাধা দিতে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটা-কাটির একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

আজ মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের শ্রীরামপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে একই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ নিয়ে বিজিবি ও কারা পুলিশের মধ্যে সিমান্ত অবকাশ কেন্দ্রে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন,  রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন, জেলার শাহাদৎ হোসেন এবং বিজিবির সেক্টর জিটু সারোয়ার হোসেন, নগরীর রাজপাড়া থানাও ওসি আমান উল্লাহ প্রমুখ।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রীরামপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ  মোতায়েন করা হয়।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের ৭ আগস্ট কেন্দ্রীয় কারারক্ষীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা সিল্কসিটিনিউজকে জানান, পদ্মা নদীর পারে নগরীর শ্রীরামপুর এলাকায় রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে বিজিবির উদ্যোগে ফাস্টফুডের ভবন নির্মাণ কাজ চলছে।

অন্যদিকে কারা কর্তৃপক্ষ তাদের জায়গা বুঝিয়ে নিতে গেলে সকালে কারা পুলিশের সঙ্গে বিজিবি সদস্যদের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তারা বিজিবিকে বার বার অনুরোধ করেছেন, তাদের জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণ না করতে।

কিন্তু বিজিবি তা শোনেনি। তারা সেখানকার গাছপালা কেটে রেস্টুরেন্ট নির্মাণ করছে।

তারা গত ২২ জানুয়ারি উচ্চ আদালতের রায় পাওয়ার পর মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে তাদের জায়গা বুঝে নিতে যান। কিন্তু এসময় বিজিবি সদস্যরা বাধা দেন। বিজিবি সদস্যরা কারারক্ষীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন বলেও অভিযোগ করেন হালিমা খাতুন।

 

ওই কর্মকর্তা সিল্কসিটি নিউজকে আরো বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে এখন মন্ত্রণালয় ও কারা উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত দিবেন সেই হিসেবে পরবর্তি কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। তবে জায়গা দখল করে গড়ে তোলা ভবনের বাইরে আপাতত কারারক্ষীরা দায়িত্ব পালন করবেন।’

 

এদিকে বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলাকালীন বিজিবির সেক্টর জিটু সরওয়ার হোসেন সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, জায়গাটি আপনাদের হলেও এখানে বিজিবি একটি ভবন নির্মাণ করেছে। কাজেই এই অবস্থায় আপনার জায়গা বুঝে নিতে পারবেন না। এটি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আলোচনা শেষে বিষয়টি নিয়ে সমাধানে আসবো আমরা। তবে আপাতত আপনারা ভবনের ভিতরে প্রবেশ করতে পারবেন না।’

আরো পড়ুন:

সীমানা নির্ধারণ নিয়ে রাজশাহীতে বিজিবি-কারারক্ষীদের মধ্যে উত্তেজনা

স/আর