সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
প্রোস্টেট ক্যান্সার হলো যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অনেক দেশের পুরুষদের মধ্যে অন্যতম সাধারণ ক্যান্সার। আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ৮ জনে ১ জন পুরুষের জীবনে এটি ধরা পড়তে পারে। এটি ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্বাস্থ্য ঝুঁকি।
কেন এটি চিন্তার বিষয়?
প্রোস্টেট ক্যান্সার সাধারণত ধীরে ধীরে শুরু হয় এবং প্রাথমিক অবস্থায় তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না।

তাই নিয়মিত স্ক্রিনিং না করালে অনেক সময় দেরিতে ধরা পড়ে, যখন চিকিৎসা জটিল হয়ে যেতে পারে।
লক্ষণ:
১। প্রস্রাবের সমস্যা
প্রস্রাব শুরু করতে বা বন্ধ করতে কষ্ট হওয়া
খুব দুর্বল বা থেমে থেমে প্রস্রাব আসা
বারবার প্রস্রাবের চাপ, বিশেষ করে রাতে
হঠাৎ প্রস্রাব করার তীব্র ইচ্ছে
২। রক্ত দেখা
প্রস্রাব বা বীর্যে রক্ত
৩।
যৌন সমস্যা
ইরেকশন সমস্যায় ভোগা (ইরেক্টাইল ডিসফাংশন)
৪। ব্যথা
পিঠের নিচে, নিতম্ব, তলপেট বা উরুতে ব্যথা
বসে থাকার সময় অস্বস্তি
আরো কিছু সতর্কতা:
বীর্যপাতের সময় ব্যথা
প্রস্রাবের পরেও মূত্রথলি খালি না হওয়ার অনুভূতি
প্রস্রাবে হঠাৎ অক্ষমতা বা অসংযম
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
৫০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষ, যাদের পরিবারের কেউ আগে প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন, যারা স্থূলতায় ভুগছেন। তবে উপরের কোনো বিষয় না থাকলেও লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে ডাক্তারের কাছে যান। অনেক সময় এই লক্ষণগুলো সাধারণ প্রোস্টেট বড় হওয়া (বিপিএইচ) বা ইনফেকশন থেকেও হতে পারে।
কিন্তু ক্যান্সার হলে শুরুতে বোঝা যায় না। তাই নিয়মিত পরীক্ষা জরুরি।
করণীয় কী?
১। নিয়মিত স্ক্রিনিং করুন
২। বয়স ৫০ পেরোলেই রক্ত পরীক্ষা ও ডিজিটাল রেক্টাল পরীক্ষা করানো উচিত।
৩। নিজের শরীরের লক্ষণ খেয়াল করুন
৪। প্রস্রাব, ব্যথা, বা যৌন জীবনের যেকোনো পরিবর্তন খেয়াল রাখুন
৫। সুস্থ জীবনযাপন করুন
৬। স্বাস্থ্যকর খাবার খান, শরীরচর্চা করুন, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
প্রোস্টেট ক্যান্সার ধীরে বাড়ে, কিন্তু শুরুতেই ধরা পড়লে সহজেই নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। তাই সচেতন থাকুন, নিয়মিত পরীক্ষা করান এবং নিজের যত্ন নিন।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া









