অর্থ ও বাণিজ্য

পোলট্রি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে শুল্ক ও কর অব্যাহতির প্রস্তাব

নিউজ ডেস্ক১৭ মে ২০১৯৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে পোলট্রি শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ডিউটি ও অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।

একই সঙ্গে এ শিল্পের আয়কর ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনতে বলা হয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে এ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। তবে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিল্পের সুবিধা দিতে সরকার সব ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কারণ এদেশে ব্যবসায়ীদের প্রয়োজন আছে। না হলে রফতানি, কর্মসংস্থান, আমদানিসহ দেশের উন্নতি কে করবে। এ জন্য আগামী বাজেটে শিল্প উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের যতটুকু সম্ভব প্রণোদনা দেয়া হবে। কাউকে কষ্ট দিয়ে ভ্যাট ও করের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হবে না।

আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই লক্ষ্য অর্জন করতে হবে। ওই সময়ে চাহিদা মেটাতে বছরে মাথাপিছু প্রায় ১৩ কেজি মুরগি মাংস এবং ২০০টি ডিমের প্রয়োজন হবে। এ চাহিদা পূরণে পোলট্রি শিল্পে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রয়োজন। এ জন্য নতুন বাজেটে পোলট্রি শিল্পকে কর ও ভ্যাট জটিলতা থেকে বের করে আনতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়, এ খাতের অন্যতম উপকরণ সয়াবিন মিল আমদানিতে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি প্রত্যাহার করতে হবে। সেখানে বলা হয়, এটি ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ব্যয় হচ্ছে পোলট্রি ফিড তৈরিতে। এ উপকরণ আমদানি করা হয়। অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ ভুট্টা আমদানির ওপর ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আছে। ভুট্টা ও সয়াবিন মিল ছাড়াও পোলট্রি ও ফিস ফিডে ব্যবহৃত বেশ কিছু উপকরণ মাছের তেল, ভেজিটেবল ফ্যাট, কাসাবা, ভিটামিন ও মিনারেল প্রিমিক্স, লাইম স্টোন, ক্লোরিন ক্লোরাইড, সিবেনজা ডিপি-১০০, ডিসিপি, এমসিপি, এল লাইসিন, এল থ্রিওনিন, এল মিথিওনিন, এনজাইম, মূলধনী ও খুচরা যন্ত্রাংশ এবং জেনারেটরের ওপর থেকে এআইটি প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) প্রেসিডেন্ট মসিউর রহমান বলেন, এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে হলে বাজেটে এর প্রতিফলন জরুরি। ২০১৫ সালের আগ থেকে এ শিল্প কর অব্যাহতি সুবিধা ভোগ করে আসছে। কিন্তু তা তুলে নেয়া হয় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে। বর্তমানে আয়কর ছাড়াও কাঁচামাল আমদানিতে এআইটি, ভ্যাট, কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি বহাল আছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে।

আয়কর হ্রাস, শূন্য শুল্কে কাঁচামাল আমদানি এবং ক্ষেত্রবিশেষে ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনা খুবই প্রয়োজন। জানা গেছে, এ শিল্প ২০১৪-১৫ অর্থবছরের পর থেকে আয়কর ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ ধার্য করা হয়। বিপিআইসিসি’র সহ-সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ বলেন, সরকারের সহযোগিতা পেলে ২০৩০ সালে এ খাতে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

ওয়ার্ল্ডস পোলট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখার সভাপতি আবু লুৎফে ফজলে রহিম খান শাহরিয়ার বলেন, কর অব্যাহতি সুবিধা প্রত্যাহারের পর থেকে পোলট্রি শিল্পের প্রবৃদ্ধি কমছেই। প্রবৃদ্ধি ১৮-২০ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশে নেমে এসেছে। অপরদিকে ২০০৭ সাল থেকে ২০১৮ পর্যন্ত এ সময়ে পোলট্রি ফিডের কাঁচামালের দাম গড়ে প্রায় ১১৩-১১৮ শতাংশ বেড়েছে। তার মতে ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্য, চীন ও আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে চাহিদাপত্র আসছে। কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক দরে টিকতে না পেরে পিছিয়ে পড়ছে এ খাত। এ খাত আগামীতে রফতানি বাজারে প্রবেশ করতে হলে ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হবে।