জাতীয়

পরিবারের ধারণা, বিপথে ব্যারিস্টার তাকিউর

নিউজ ডেস্ক৬ আগস্ট ২০১৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

র‌্যাবের নিখোঁজ তালিকায় নাম এসেছে এই ব্যারিস্টার তাকিউরের। পুরো নাম তাকিউর রহমান শিফাত। হজের কথা বলে সপরিবারে নিখোঁজ হন তিনি। পরিবারের ধারণা, ছেলে বিপথে গিয়েছেন। বর্তমানে তিনি তুরস্ক কিংবা সিরিয়ায় অবস্থান করে থাকতে পারেন।

শিফাতের বাবা বগুড়ার শহরের কালিতলার ধনাঢ্য ব্যবসায়ী আবদুল খালেক। ছেলে নিখোঁজের বিষয়টি নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, হজে যাওয়ার সময় শিফাত তার স্ত্রী রিজিতা রাইলা ইকবাল ও ১৮ মাসের শিশুসন্তান রোমাইশা বিনতে তাকিকেও সঙ্গে নিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘গত ৯ জুন ২০১৫ সালে ঢাকার কলাবাগান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন তিনি। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল, আমার ছেলে এ কে এম তাকিউর রহমান সপরিবারে ঢাকার বশিরউদ্দিন রোড ১৪ লেকসার্কাস, ফ্লাট ৮/বি ঠিকানায় বসবাস করা অবস্থায় ৪ এপ্রিল ২০১৫ সালে ছেলে স্ত্রী রিজিতা রাইলা ও আমার নাতনি ১৮ মাসের রোমাইশাকে নিয়ে ওমরাহ হজের কথা বলে চলে যায়।

তারপর আর দেশে ফিরে আসেনি। হজে যাওয়ার পর ওই বছর ১৩ ও ১৪ এপ্রিল আমার সঙ্গে ফোনে কথা হয়। সে জানায় ২২ এপ্রিল দেশে ফিরব। তারপর আর ফিরে আসেনি। ৩ মাস পর হঠাৎ অপরিচিত একটি নম্বর থেকে ফোন দিয়ে সংক্ষিপ্ত কথা বলে। শুধু জানায়, ভালো আছি। কোথায় আছে তা বলেনি।’

আবদুল খালেক বলেন, ‘ওমরাহ হজে যাওয়ার আগে তার (ছেলের) শ্বশুর চট্টগ্রামের কর্নেল (অব.) ইকবাল দেশের বাইরে ছিলেন। তিনি দেশে ফিরে আসার পর তাকে হজে যাওয়ার কথা বললেও শিফাত তা না শুনে আগেই চলে যায়। আমিও (আবদুল খালেক) তাকে পরে যেতে বলেছিলাম। কিন্তু শিফাত জানায়, কম খরচে আমাদের সার্কেলের সঙ্গে হজে যাচ্ছি। কোনো সমস্যা নেই।’

তিনি বলেন, ‘ছেলের ভালোর দিক বিবেচনা করে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ভারতের শিলিগুড়ি মাউন হারমান মিশনারি স্কুলে ভর্তি করে দেই। তারপর সেখান থেকে একই এলাকার রগভেলি স্কুলে ‘ও’ লেভেলে ভর্তি করাই। ‘ও’ লেভেল পাস করে ২০০৬ সালে ঢাকার ‘লন্ডন কলেজ অব লিগাল স্টাডিজ’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘এ’ লেভেলে ভর্তি করে দিই।

সেখান থেকে পাস করার পর যুক্তরাজ্যে ক্যান্টি ইউনিভার্সিটিতে আইন বিষয়ে পড়তে যায়। ২০১০ সালে ‘বার-এট-ল’ পাস করার পর দেশে ফেরে। পরে ঢাকার কলাবাগানে বাসা ভাড়া নিয়ে আইন ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি বেসরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করছিল।’

খালেক আরো বলেন, ‘ভারত থেকে পড়ালেখা করে আসার পর এবং দেশে থাকা অবস্থায় শিফাত একজন স্মার্ট ছেলের মতো ঘোরাফেরা করত। কখনোবা কানে দুল লাগিয়ে গিটার হাতে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াত। মাঝে মাঝে চুল বড় করে মেয়েদের মতো মাথায় বেণী করত।’

তিনি বলেন, ‘এসব বিষয়ে ধমকিয়ে নামাজ পড়ার কথা বললেও সে নামাজ পড়ত না। কিন্তু যুক্তরাজ্যে পড়ালেখা করার শেষ দিকে তার আচার-আচরণে পরিবর্তন ঘটে। বার-এট-ল করার আগে সে দাড়ি রাখে।

২০১১ সালে দেশে ফেরার পর সে নামাজ-রোজা নিয়মিত করতে থাকে। তবে, যুক্তরাজ্যে পড়ালেখা করা অবস্থায় সিলেটের এক ইমামের মেয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক হয়। ওই ইমামের ছেলে একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিফাতের সঙ্গে পড়ালেখা করত।’

সূত্র: রাইজিংবিডি