রাজশাহী

পুঠিয়ায় পরকীয়ার জেরে আমজাদকে হত্যা

নিউজ ডেস্ক২২ ডিসেম্বর ২০১৬২ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, পুঠিয়া প্রতিনিধি:

পরকীয়ার জেরে রাজশাহীর পুঠিয়ায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে আমজাদ হোসেনকে (৩৫)। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গতকাল বুধবার রাতে হত্যাকাণ্ডের পরে পুলিশ একই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতাকৃতর বিষয়টি সিল্কসিটি নিউজকে নিশ্চিত করেছে পুঠিয়া থানার (এসআই) আবুল খায়ের। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার ঘটনায় মরিয়ম বেগমকে (৪৫) গ্রেফতার করা হয়েছে। এই বিষয়ে নিহতের বড় ভাই আবুল কাশেম বাদিয়ে তিন জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

তিনি আরো বলেন, এ মামলায় নারী মরিয়ম বেগম (৪৫), স্বামী একই এলাকার আহাদের ছেলে মোজাম্মেল হোসেন (৫০) ও ছেলে জসিম আলীর (১৯) নামে। স্বামী ও ছেলে পলাতক রয়েছেন। তবে পরকীয়ার বিয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি। পুলিশ বলছে, বিষয়গুলো তদন্ত করেই জানা যাবে।

স্থানীয়রা সিল্কসিটি নিউজকে  জানায়, নিহত আমজাদ হোসেনের সঙ্গে মরিয়ম বেগমের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিলো অনেক দিনের। তিনি মাঝে মধ্যেই আসেন মরিয়মের সঙ্গে দেখা করতে। গতকাল বুধবার রাতে আমজাদ মরিয়মের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাকে আটক করে মোজাম্মেল ও তার ছেলে। পরে নিহত আমজাদকে বাড়ির পাশের একটি পুকুরের ফেলে দিয়ে যায়। বাড়ির উঠানে পড়ে থাকা রক্ত তারা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলে।

এর আগে পুঠিয়ায় উপজেলার সাধনপুর লেপপাড়া গ্রামে বুধবার রাত নয়টার দিকে গলায় এবং শরীরের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায় পুকুরে পড়ে থাকে একই এলাকার গ্রামের মৃত আয়েন আলীর ছেলে আমজাদ হোসেন(৩৫)। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরিবারের সদস্য জানান, নিহত আমজাদ পুকুর চাষ করতেন। রাতে বাড়িতে খাবার খেয়ে পুকুর দেখাশোনা করতে বের হয়েছিলেন। তাকে কে বা কারা হত্যা করেছে। রাত নয়টার দিকে পুঠিয়ার সাধনপুর লেপপাড়া গ্রামের রাস্তার পাশে পুকুরে ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায় পড়ে থেকে চিৎকার করার চেষ্টা করছিলেন আমজাদ হোসেন। এ সময় স্থানীয়রা ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে পুকুরের মধ্যে আমজাদকে পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে পুঠিয়া থানা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসার সময় রাস্তায় মারা যান আমজাদ।

হাসপাতালের জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক আব্দুর রাজ্জাক সিল্কসিটি নিউজকে  জানায়, রাস্তায় আমজাদের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের গলায়, বুকে এবং পেটের একটি স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এতে ধারণা করা যায় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে পুকুরে মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। পরে ধারালো অস্ত্রেরেকাঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আমজাদ হোসেন মারা যান।

 

স/আ