রাজশাহী

পবার হাট ইজারা নিয়ে এবারও সহিংসতার শঙ্কা

নিউজ ডেস্ক১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজশাহীর পবা উপজেলার ১২টি হাট ইজারা নিয়ে এবারও সহিংসতার শঙ্কা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা পর্যন্ত দরপত্র জমা দেওয়ার সময় রয়েছে। এরপর দরপত্র খোলা হবে।

দরপত্র জমাদানে আগ্রহী ইজারাদাররা শঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিদের শপথ গ্রহণ উপলক্ষে এ দিন জনপ্রতিনিধিরা থাকবেন ঢাকায়। এ দিনই উপজেলায় এমন ‘গুরুত্বপূর্ণ’ কার্যক্রম চললে যে কোনো সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। সে রকম কিছু হলে পরিস্থিতি মোকাবিলার মতো কাউকে পাওয়া যাবে না।

গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি পবা উপজেলার হাটবাজারের দরপত্র জমা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেদিন বাক্স ভেঙে দরপত্র লুট করা হয়। উপজেলা পরিষদ চত্বরে ৮-১০টি ককটেল ফাটানো হয়। এলোপাথাড়ি গুলিও চলে। বিশৃঙ্খলাকারীরা এবারও প্রস্তুতি নিয়ে আছে বলে কেউ কেউ জানিয়েছেন।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, উপজেলার দামকুড়া পশুহাট, দামকুড়া তহাহাট, রামচন্দ্রপুর হাট, খড়খড়ি হাট, পারিলা হাট, বড়গাছি হাট, গোপাল হাট, হরিপুর হাট, দারুশা হাট, ডাংগের হাট, মড়মড়িয়া হাট ও বিলনেপালপাড়া হাট ইজারা দিতে গতমাসে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। মঙ্গলবার দুপুর ১টা পর্যন্ত দরপত্র দাখিলের সময় রয়েছে। এরপর দরপত্র বাক্স খোলা হবে।

রাজশাহীর কয়েকজন ইজারাদার জানিয়েছেন, দর ফাঁস হওয়ার ভয়ে ইজারাদাররা আগে দরপত্র জমা না দিয়ে শেষ সময়ে দেন। তখনই বিশৃঙ্খলা ও মারামারির ঘটনা ঘটে। গতবছর ওই সময়েই বাক্স লুট, গোলাগুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এবার শপথের জন্য এলাকার নবনির্বাচিত এমপি ঢাকায় থাকবেন। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে কেউ পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন না বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

আগ্রহী আরেকজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘দীর্ঘ সময় পর বিএনপি সরকার গঠন করছে। এই দলের নেতাকর্মীদের হাটঘাট নিয়ে প্রত্যাশা থাকা স্বাভাবিক। তাদের মনোবল এখন চাঙা। ফলে সরকার গঠনের প্রথম দিনই এতগুলো হাট ইজারা নিয়ে কী হবে তা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায়।’

ইমন এন্টার প্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী ইয়াসিন আলী বলেন, ‘আমি শিডিউল কেটেছি। ব্যাংক ড্রাফটও করেছি। এখন জানি না দরপত্র জমা দিতে পারব কি না। নতুন সরকারের শপথের দিনে এই হাটগুলো ইজারা দেওয়া ঠিক হচ্ছে না। দু’একটা দিন পিছিয়ে দিলে ভালো হতো।’

তিনি জানান, এমন পরিস্থিতিতে হাট ইজারার দরপত্র বাক্স না খুলে দু’একদিন সময় বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য কয়েকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে তিনি এতে সাড়া দেননি।

পবার ইউএনও আরাফাত আমান আজিজ বলেন, ‘গতবছর ঝামেলা হয়েছে মানে এবারও হবে তার মানে নেই। তবে সুযোগ থাকলে দু’একদিন সময় বাড়িয়ে দিতাম। সেই সুযোগ আসলে নেই। নোটিশ প্রকাশ করা হয়েছে গতমাসে। শিডিউল অনুযায়ীই সবকিছু করতে হবে।’

তিনি আশ্বাস দেন, অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতা তারা অবলম্বন করবেন।