রাজশাহী

পবায় মাদ্রাসায় নিয়োগের আগেই ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক৮ জুলাই ২০২৫২ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা সালেহিয়া দারুস সুন্নাত ফাজিল মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর আগেই ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৭ জুলাই) দেলোয়ার হোসেন নামের এক চাকরিপ্রার্থী জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলতাফ হোসেন ও পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্য ইতোমধ্যেই চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ করেছেন। অভিযোগকারীর ভাষ্য, নিয়োগ প্রক্রিয়াটি লোক দেখানো। নির্দিষ্ট প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৩ জুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও কোন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে তা গোপন রাখা হচ্ছে। ল্যাব সহকারী পদের জন্য একটি পদের পরিবর্তে অতিরিক্ত পদ দেখিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দেশের প্রচারিত একাধিক দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার নিয়ম থাকলেও এখানে মাত্র একটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে অধিকাংশ প্রার্থী তা জানতে না পারেন।

অভিযোগে অতীতের ঘটনা উল্লেখ করে বলা হয়, ২০২১ সালে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরির জন্য নূর ইসলাম খানের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেন অধ্যক্ষ। নূর ইসলাম বিদেশে চিকিৎসার জন্য গেলে অন্যজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়, কিন্তু টাকা ফেরত পাননি তিনি। ২০২০ সালে সিদ্দিকুর রহমানের মেয়ে মরিয়ম খাতুনকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ৫ লাখ টাকা নেন অধ্যক্ষ। চাকরি না হওয়ায় টাকা ফেরতের কথা বললে তাকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিগত পাঁচ বছরে মাদ্রাসার কোনো আর্থিক হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর তৎকালীন সভাপতি সাইফুল ইসলাম অধ্যক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিলেন। নোটিশে নিয়োগ বাণিজ্য, অর্থ তছরুপসহ ১১টি বিষয়ে জবাব চাওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ আলতাফ হোসেন বলেন, ‘কমিটির সিদ্ধান্তে তিনটি পদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছি। এখনও কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’ তিনি আরও বলেন, নূর ইসলাম খান ও সিদ্দিকুর রহমানের অভিযোগও সত্য নয়। অর্থ তছরুপের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘সভাপতি আমাকে শোকজ করেছিলেন, আমি জবাব দিয়েছি। প্রয়োজনে আবারও তদন্ত করা যেতে পারে।’

অভিযোগকারী দেলোয়ার হোসেন জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন, যাতে মেধাবী প্রার্থীরা সমান সুযোগ পান।