জাতীয়

‘নাজমা’দের কাছে কেউ আসে না!

নিউজ ডেস্ক৫ আগস্ট ২০১৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

‘আসমানীদের দেখতে যদি তোমরা সবে চাও রহিম উদ্দি’র ছোট্ট কুটির রসুলপুরে যাও’। পল্লীকবি জসিম উদ্দিনের বিখ্যাত “আসমানী” কবিতার দরিদ্র আসমানীর কথা মনে করিয়ে দিল সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের বিয়ারাঘাট গ্রামের পল্লীর নজরুল ইসলামের মেয়ে ‘নাজমা’।

 

সদ্য বন্যার পানি নেমে যাওয়া ভাঙ্গা কুটিরের দাওয়ায় একটি চুলায় বসে রান্না করছিল নাজমা। বয়স তার ১৫ কিংবা ১৬। কথা হয় তার সাথে।

 

বানের পানি নাইম্যা গ্যাছে এহন আর ছবি তুইল্যা কি অইবো। কয়দিন আগে আইসলে আমাগোরে কষ্টের ছবি তুইলব্যার পারতেন। ঘরের মইধ্যে পানি আছিল। অন্য কুন যাগা (স্থান) না থাকায় পানির মধ্যেই ইট দিয়্যা চকি উচা কইর‌্যা বাপ-বাই নিয়্যা জড়াইয়া পরাইয়া থাকছি।

 

এভাবেই চলতি বন্যায় নিজেদের দুঃখের বিবরণ দিতে থাকে নাজমা।

 

আব্বায় পানি সাতরাইয়া যাইয়া কুনহান থ্যেইক্যা দুই এক সের চাইল আর আধাসের আলু কিন্যা আইনতো, তাই দিয়্যা আর গাছের নাইশাক (লাউশাক) ভর্তা কইর‌্যা খাইয়া বাইচ্যা আছি।

 

নাজমা আরও বলে, এত কষ্টে আছিলাম কেউই দেইখপ্যার আসে নাই। একমুঠ চাইলও আমাগোরে দেয় নাই।

 

মাতৃহারা নাজমার বাবা ও দু’ভাইকে নিয়ে ছোট্ট সংসার। ৪ খানা টিনের একটি ছোট্ট ছাপড়া ঘর। চতুর্দিকে ছোনের বেড়া পচে খসে খসে যাচ্ছে। গ্রামের কৃষকদের কাছে খড় চেয়ে এনে পঁচে যাওয়া ছনের বেড়া কোনমতে জোড়াতালি দিয়ে বসবাস করছে তার পরিবারটি।

 

দুবেলা ঠিকমতো আহার জোটে না নাজমার পরিবারে। অনাহার-অপুষ্টিতে নানা রোগ-শোকে কাতর নাজমা ও তার দুভাই নুর ইসলাম এবং সুরুতজ্জামান।

 

বাবা নজরুল ইসলাম আইসক্রিম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ৭ বছর আগে স্ত্রী মারা গেলেও সন্তানদের কথা ভেবে দ্বিতীয় বিয়ে করেন নি তিনি।

তিনি বলেন, আমার কুন বাড়ীও নাই, ঘরও নাই। মাইনসের যাগায় (স্থানে) এই ছোট্ট ছাপরা তুইল্যা ছওয়ালপাল নিয়া বাস কইরত্যাছি। বৃষ্টি আইলে চাল দিয়্যা ঝর ঝর কইর‌্যা পানি পরে।

 

নদীর তীরে গিয়ে হাত দিয়ে নিজেদের আগের বাড়ী দেখিয়ে নজরুল বলেন, এক সময় আমাগোরে বাড়ি আছিল, ৮ বছর আগে যমুনা নদী ওই বাড়ী খাইয়্যা ফালাইচে। তার পরের বছর গেদির মাও মইর‌্যা গেছে।

 

নজরুল ইসলামের অভিযোগ মেম্বর-চেয়ারম্যানরা ভোটের সময় বার বার আসে। অনেক আশ্বাস দেয়। কিন্তু ভোট শেষে তাদের দেখা পাওয়া যায় না। বন্যার পানিতে ভাসলেও তারা খোঁজ খবর নেয় না। বাঁধের ওপারে শুকনোতে বসে দু-একজনকে রিলিফ দেয়। কিন্তু গ্রামের ভেতরে বানভাসী মানুষদের কষ্ট তারা দেখতে আসে না। রিলিফও দেয় না।

 

তার দাবী ছোট্ট একটি ঘরের। যেখানে, বৃষ্টির পানি পড়বে না, বেড়া পচে-খসে পড়বে না। সেখানে ছেলে-মেয়েদের নিয়ে ভালভাবে রাতে ঘুমোতে পারবেন।

সূত্র: বাংলা নিউজ