নলডাঙ্গা প্রতিনিধি:
নাটোরের নলডাঙ্গায় শুরু হয়েছে, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য উত্তরের জনপদের অতি জনপ্রিয় মাদারের গান। বুধবার রাত থেকে উপজেলার ভট্টপাড়ায় ৩দিন ও রাত ব্যাপী এই গানটি চলবে,আয়োজনে একটি ১টি দল অংশগ্রহন করছে।
মাদারের গান বা মাদার গান নাটোর জেলার নিজস্ব লোকসঙ্গীত হিসাবে পরিচিত। বাংলাদেশের অন্য কোন অঞ্চলে এই গানের আসর বসলেও এর জন্ম মূলত নাটোর জেলাতেই। নাটোরের সর্বত্র মাদার গানের আসর ছিল একসময় নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনা।

মাদারের গান অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল একসময়। যদিও মাদার পীর নামে কোন পীরের দরগা বা মাজার নেই কোথাও,তবু মাদার পীরের নামে মানত বা মানসিক করার চল আছে সর্বত্র।
বিশেষত নাটোর জেলা সদর,নলডাঙ্গাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রামে। সন্তান কামনায়,রোগ-শোক থেকে নিরাময় কিংবা বিপদ থেকে উদ্ধারের আশায় লোকে মাদার পীরের নামে মানত করে এবং ফল পেলে মাদার গানের আসর বসায়।
একসময় এই অঞ্চলের গ্রামে-গঞ্জে,হাটে-বাজারে,মাঠে ময়দানে,উঠোনে-দাওয়ায় আসর বসতো মাদারগানের। পথে-প্রান্তরে প্রতিনিয়ত প্রতিধ্বনিত হতো মাদার গানের সুর।
সামিয়ানা টাঙিয়ে তার নিচে পাটি-সপ-মাদুর বিছিয়ে বসে এই গানের আসর। কলা-কুশলীর সংখ্যাও বেশী নয়। প্রধান চরিত্র দুইজন। মাদার পীর ও তার শিষ্য জুমল শাহ্। এছাড়া আছে কয়েকজন দোহার-বাইন। দোহার-বাইনরা জটলা করে বসে আসরের মাঝখানে। তাদের হাতে থাকে খঞ্জনি। চারপাশে বৃত্তাকারে ঘুরে ঘুরে গান গায় মাদার পীর ও জুমল শাহ্। তাদের হাঁক-গানের সাথে ধুয়া ধরে দোহাররা। সওয়াল-জবাব-বিবৃতি সবকিছু করে মাদার জুমল দুইজনই। এদের পেছনে পেছনে গান-বাজনার তালে তালে নাচে নর্তকী। মাদার গানের নর্তকীর স্থানীয় নাম ছুকরি। ধুতি-শাড়ি-থান পরে পুরুষরাই ছুকরি সাজে এই গানে। দোহারদের বা জুমল শাহের জন্য অন্য কোন সাজ পোশাক নেই। শুধু মাদার পীরের জন্য প্রয়োজন হয় বিশেষ পোশাকের। তার পরনে থাকে আলখাল্লা, গলায় তসবিহ, মাথায় থাকে শিরস্ত্রাণ,হাতে আশা।
যেই এলাকায় মাদার গানের আসর বসে,সেখানে দূর-দূরান্ত থেকে লোক আসে। সেই এলাকায় বিভিন্ন জিনিস পত্রের দোকানে এক রকম মেলা প্রাঙ্গনে রুপ নেয়।
নাটোর জেলার সর্বত্র ছড়িয়ে আছে অসংখ্য মুর্শিদী গান, ধুয়া গান, বারমাসি গান, জারিগান, নৌকাবাইচের গান, লোককাহিনী, মুখা খেলা, বিচ্ছেদ গান, টপ্পা গান, কবি গান, যোগীর গানসহ লোকজ সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান।









