নাটোর

নলডাঙ্গায় এবার ৭ কোটি টাকার খেজুর গুড় উৎপাদন হবে

নিউজ ডেস্ক২৫ জানুয়ারি ২০২৫৩ মিনিট পড়া

নলডাঙ্গা (নাটোর) প্রতিনিধি:

নাটোরের নলডাঙ্গায় খেঁজুর গুড় তৈরীতে ব্যস্ত গাছি ও তরুণ উদ্যোক্তরা। শীতের সকালের মিষ্টি খেজুর রস সংগ্রহের সেই ঐতিহ্যবাহী দৃশ্যের দেখা মিলছে নাটোরে। এখানকার গাছিরা দুপুরের পর থেকে গাছ চেঁছে মাটির শুন্য হাড়ি ঝুলিয়ে দিচ্ছেন। পরদিন ভোর থেকেই খেজুর রস সংগ্রহ এবং গুড় তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এই অঞ্চলের খেজুরের রস থেকে তৈরী গুড়ও বেশ প্রসিদ্ধ। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এবার প্রায় ৩৬০ মেট্রিকটন গুড় উৎপাদন হবে বলে আশা করছেন কৃষি বিভাগ। যার আনুমানিক মূল্য দাঁড়াবে প্রায় সাত কোটি টাকা।

নলডাঙ্গার গাছি রায়হান হোসেন,বিরেন সরকার বলেন, যদিও আগের মত শত শত খেঁজুর গাছের সারি আর দেখা যায় না। এরপরও যে গাছগুলো আছে, গাছিরা সেই গাছগুলো প্রস্তুত করে রস সংগ্রহ করে। সেখান থেকে গুড় হয়।

গাছিরা হাতে দা নিয়ে ও কোমরে দড়ি বেধে খেঁজুর গাছে  উঠে নিপুন হাতে গাছের ছাল তোলা নলি, বোসানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারপর শুরু হয় রস সংগ্রহের প্রতিযোগীতা। অগ্রহায়ণ,পৌষ, মাঘ এই তিন মাস খেঁজুর গাছ থেকে রস আহরন আর গুড় তৈরিতে ব্যস্ত থাকতে হয় গাছিদের। গাছ গুলো থেকে আহরনকৃত রস নিজ বাড়িতে আগুনে জাল দিয়ে সে গুড় বা লালি তৈরী করে পরে তা বাজারে বিক্রয় করা হয়।

স্থানীয়রা আরও বলেন অনভিজ্ঞ গাছিরা গাছ কাটার সময় ভুল করাই,অনেক গাছ মরেও যাচ্ছে। তাই এখন আর আগের মত খেঁজুর গাছ দেখা যায় না। ফলে এক সময় খেঁজুর রসের যে সমারোহ ছিল তা অধিকাংশ কমে গেছে।

দুপুরের পর থেকেই গাছিরা খেজুর গাছ চেঁছে ঝুলিয়ে দেন শূন্য মাটির হাঁড়ি। সারারাত ফোঁটায় ফোঁটায় ভরে উঠে সেই হাড়ি। পরদিন ভোরের আলো ফোঁটার সাথে সাথেই গাছিরা সংগ্রহ করেন প্রকৃতির এই অন্যন্য উপাদান। পরে রস ভর্তি পাত্র নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারা।

সংগ্রহ করা রস চুলার গনগনে আগুনে ফুটিয়ে টানা কয়েক ঘন্টার পরিশ্রমে তৈরী করা হয় গুড়। এছাড়াও খেজুর রসের ক্ষীর,পায়েস, পিঠা-পুলিসহ নানান ধরণের খাবারে আত্মীয়-স্বজনকে আপ্যায়ন করা গ্রাম বাংলার চিরাচরিত রেওয়াজ। এখানকার খেজুর রস থেকে তৈরী ভেজালমুক্ত গুড় মানসম্মত ও সুস্বাদু হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চলে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। প্রতি কেজি,ঝোলা-পাটালী গুড় ভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ২৫০ টাকা দরে। তবে খেজুর গুড়ে ভেজালের অভিযোগ পুরনো। তাই গুণগত মান ঠিক রাখতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি রাখার দাবী গাছিদের।

তরুণ উদ্যোক্তা-হুমাউন রশিদ, সোহানুর রহমান সোহান বলেন,নাটোরের খেজুর গাছের রস মিষ্টি ও সুগন্ধি, যা গুড়ের স্বাদে এনে দেয় আলাদা বৈশিষ্ট্য। তাছাড়া এখানকার মানুষ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই গুড় তৈরির ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। বর্তমানে অনলাইন প্লাটফর্মকে কেন্দ্র করে অনেকে উদ্যোক্তা হচ্ছে। অনেকে সামাজিক মাধ্যম ও অনলাইন গ্রামীণ বাজারে এই গুড় সরাসরি নাটোর থেকে সংগ্রহ করে সারা দেশে সরবরাহ করছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ কিশোয়ার হোসেন জানান,উত্তরের জেলা নাটোরে নলডাঙ্গায় প্রায় ৪০ হাজার খেঁজুর গাছের মধ্যে প্রায় ৭ হাজার ২শ খেঁজুর গাছ থেকে শীত মৌসুমে প্রায় ৩৬০ মেট্রিক টনের বেশী খেজুর গুড় উৎপাদন হবে। যার বাজার মুল্য প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা।

খেঁজুর রস থেকে তৈরী গুড়ের ঐহিত্য রক্ষায় নজরদারী ও তৎপরতা অব্যাহত আছে। গুনে মানে অনন্য হওয়ায় এখানে উৎপাদিত খেজুর গুড়ের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে বলেও জানান তিনি।