রাজশাহী

নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রক্টরের হুমকি কল রেকর্ড ফাঁস

নিউজ ডেস্ক২৫ আগস্ট ২০২৫২ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমাতে ,আন্দোলনে আসলে বহিষ্কার করে পাছা লাল করে দেব

নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (এনবিআইইউ) প্রক্টর এ জে এম নূর ই আলমের একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমাতে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আপত্তিকর ও হুমকিসূচক বক্তব্য দেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ভাইরাল হওয়া কল রেকর্ডে শোনা যায়, নূর ই আলম আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন—
“আন্দোলনে আসলে পাছা বাড়িয়ে লাল করে দেব। ছাত্রদের ক্ষমতা বেশি না আমার ক্ষমতা বেশি, তা দেখে নেব। বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির যারা আন্দোলনের সাথে জড়িত থাকবে তাদের সবাইকে বহিষ্কার করা হবে। যারা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে, তাদের সবার ছাত্রত্ব বাতিল করবো। আন্দোলন করে মামলা করে কিভাবে ছাত্রত্ব ফেরত আনে, তা দেখতে চাই। ৫০-৬০ জন ছাত্র গেলে আমাদের কিছু যাবে আসবে না। কার কত ক্ষমতা আছে দেখা যাবে।”

প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনরত নূর ই আলম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ২০০৯-১০ সেশনের ছাত্র এবং মাদার বখশ হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, স্বৈরাচার পতনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা উপেক্ষা করে তাকে প্রভাষক পদমর্যাদা থাকা অবস্থায় প্রক্টর করা হয়। অথচ নীতিমালা অনুযায়ী কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রক্টর হতে হলে ন্যূনতম সহকারী অধ্যাপক হতে হয়। পরবর্তীতে আবারও নিয়ম ভঙ্গ করে তাকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়, যদিও তার কোনো পিএইচডি ডিগ্রি বা উচ্চতর একাডেমিক যোগ্যতা নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল খালেকের আমলে তার এই নিয়োগ হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগপন্থী একাধিক সাবেক ছাত্রনেতাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে নিয়োগ দিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেন।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সারাদেশে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলন গড়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে আওয়ামী লীগপন্থী নিয়োগপ্রাপ্তদের বহিষ্কারের দাবি জোরালো হলেও এনবিআইইউ-তে আজও নূর ই আলম প্রক্টর পদে বহাল আছেন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—তার নিয়োগ ও টিকে থাকার বৈধতা নিয়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, প্রশাসনে আওয়ামী লীগঘরানার কর্তাব্যক্তিদের প্রভাবের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রক্টরের এই বক্তব্য নিয়ে ইতোমধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, একজন উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তা যেভাবে হুমকি দিয়ে আন্দোলন দমন করতে চাইছেন, তা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মর্যাদাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেনি, বরং পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে কলঙ্কিত করেছে।