রাজশাহী

নবজাতকটি চুরির পরেও সেই নারীর নানা কৌশল

নিউজ ডেস্ক২৭ জানুয়ারি ২০১৭৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: সেই নারী রাজশাহী নগরীর নওদাপাড়া এলাকায় নগর মাতৃ সদন আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ার থেকে অভিনব কায়দায় চুরি করে নবজাতকটিকে। নবজাতকটি চুরি করার আগের দিন নগরীর বিনোদপুর এলাকার একটি সিসিটিভির ফুটেজের ছবির সঙ্গে হুবুহু মিল রয়েছে তার। এছাড়াও মিল রয়েছে তার ভ্যানেটি ব্যাগ, হাত ঘড়িসহ পোষাকেরও।

এতেই পুলিশ ধারণা করছে, ওই নারীই নগরীর নওদাপাড়া আরবান হেলথ কেয়ার থেকে চুরি হওয়া নবজাতকটি চুরি করে নিয়ে এসেছেন। এরপর গত ১৯ জানুয়ারি থেকে তিনি নবজাতকটিকে নিজের বলে লালন-পালন করছেন।

 

শুক্রবার তাকে গ্রেপ্তারের সময় সিসিটিভিতে ধরা পড়া ফুটেজের সঙ্গে মিলে যাওয়া পোশাক ও অন্যান্য জিনিসপত্র নগরীর বাসার রোড়ের তার ভাড়া বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়।

 

এর আগে শুক্রবার দুপুরে নগরীর টিকাপাড়া বাসার রোড এলাকার ‘সপ্তষি’ নামের ৫০৭ নম্বর বাড়ি থেকে একই এলাকার আক্তারুজ্জামানের স্ত্রী শাহীন আক্তার শুভ্রাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এসময় ওই নবজাতকটিকেও উদ্ধার করা হয়।

 

বাড়ির মালিক আমিনুল ইসলাম সিল্কসিটিনিউজকে বলেন, শুভ্রা তার বাড়িতে প্রায় দেড় বছর ধরে ভাড়া থাকেন। তিনি রাজশাহীর একটি বেসরকারি ইউনির্ভাসিটির শিক্ষক। তার স্বামী বাঘায় ডাক্তারী পেশায় কর্মরত । আর শুভ্রার ক্লাস কেজিতে পড়া অহনা নামের একটি মেয়ে রয়েছে।  সেই সুবাদে স্বামী আক্তারুজ্জামন বাঘায় থাকেন। আর স্ত্রী শুভ্রা টিকাপাড়া বাসার রোড এলাকার এই বাড়িতে থাকতেন।

 

তিনি সিল্কসিটিনিউজকে আরো বলেন, শুভ্রা গর্ভবতি ছিলেন বলে আগেই দাবি করেছিলেন। গত ১৯ বা ২০ তারিখে রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে তার একটি ছেলে সন্তান হয় বলেও তিনি আমাদের জানান। আর তার আগে তারা বাচ্চা হলে বাড়িতে যে সকল প্রস্তুতি লাগে, সবগুলোই তিনি করেছেন। ছোট-ছোট কাঁথা সেলাই, জামা-কাপড় ইত্যাদি সব তৈরি করেন তিনি।

 

এ বিষয়ে মতিহার থানা জোনের এসি শুশান্ত কুমার রায় জানায়, আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি যাকে আটক করা হয়েছে, তিনি ক্লিনিক শিশুটিকে চুরি করে নিয়ে এসেছেন। শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এদিকে চুরি হওয়া শিশুর নানা মুক্তার হোসেন সিল্কসিটিনিউজকে জানায়, আমি বাচ্চা চিনতে পেরেছি, আমার নাতি সে। আটক হওয়া নারীই আমার মেয়ের সন্তানটিকে চুরি করে নিয়ে এখন নিজের দাবি করছে।’

 

চুরি হওয়া নবজাতকের মা চরশ্যামপুর এলাকার দিনমজুর নাসির উদ্দিনের স্ত্রী মুক্তি খাতুন সিল্কসিটিনিউজকে বলেন, ‘চুরির পরে আমি এখনো আমার সন্তানকে দেখিনি। আমাকে খবর দিলো। আমি দেখলে চিনতে পারবো ‘

প্রসঙ্গত, গতকাল বৃহস্পতিবার সেই নারীর ছবিসহ সিল্কসিটিনিউজে একটি নিউজ প্রকাশিত হয়। গত ১৯ জানুয়ারি বিকেল তিনটার দিকে নগরীর নওদাপাড়া এলাকায় অবস্থিত নগর মাতৃ সদন আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ারে একটি ছেলে সন্তান জন্ম দেন রাজশাহীর পবা উপজেলার চরশ্যামপুর এলাকার দিনমজুর নাসির উদ্দিনের স্ত্রী মুক্তি খাতুনের।

এরপর ওইদিন রাত সাড়ে নয়টার দিকে একজন নারী প্রতারক মুক্তির নবজাতকটিকে কৌশলে চুরি করে নিয়ে যায়। পুলিশ এ ঘটনায় সহযোগিতা করার অপরাধে তোহুরা খাতুন নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করে।

 

স/আ