সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
আসাদ সরকারের পতনের পর নানা ধরনের সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কাজে মনোযোগ দিয়েছে সিরিয়ার নাগরিকরা। তারই অংশ হিসেবে সিরিয়ার ঐতিহাসিক উমাইয়া মসজিদ সংস্কার করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং শাসক পরিবারের ধর্মীয় মতাদর্শের কারণে উমাইয়া মসজিদ ছিল চরম অবহেলিত। আসাদ সরকারের পতনের পর উমাইয়া মসজিদের অবস্থা তুলে ধরেন মানবাধিকার কর্মী সাদেত্তিন মুভাকিত।
তিনি বলেন, এর অবস্থা ছিল খুবই ভয়াবহ। কার্পেট থেকে বাথরুম পর্যন্ত সব কিছু থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। অবস্থা ছিল খুবই খারাপ। উমাইয়া খলিফা প্রথম ওয়ালিদের নির্দেশে ৭০৫ থেকে ৭১৫ সালে উমাইয়া মসজিদ নির্মিত হয়।

ঐতিহাসিক মসজিদটি তাঁর নির্মাণশৈলী, কারুকাজ ও সোনালি মোজাইকের জন্য বিখ্যাত।
সাদেত্তিনের জন্ম সিরিয়ার আলেপ্পো শহরে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এনজিও হিউম্যান এইড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (হ্যান্ড) নির্বাহী কর্মকর্তা। ২০১৯ সালে সিরিয়া ও লেবাননের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের সহযোগিতা করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয় এটি।
হ্যান্ড অষ্টম খ্রিস্টাব্দে তৈরি সিরিয়ার প্রাচীনতম এই মসজিদ সংস্কার ও সংরক্ষণের পরিকল্পনা করেছে। সাদেত্তিন বলেন, ‘আমি মসজিদের ইমামের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন উমাইয়া মসজিদ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোনো কর্মী নেই। আমরা মসজিদটি পর্যবেক্ষণ করেছি এবং এর সৌন্দর্য পুনরুদ্ধার করা যায়। কেউ যদি নতুন সিরিয়া দেখতে চায়, সে যেন উমাইয়া মসজিদ দেখে তা অনুভব করতে পারে।
সিরিয়ার প্রত্নতত্ত্ব ও জাদুঘর অধিদপ্তর ও ইসলামী দাওয়াহ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে মসজিদের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করছে হ্যান্ড। প্রাথমিক সংস্কারকাজ জানুয়ারি থেকে মার্চের ভেতরে সম্পন্ন করা হয়। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে খরচ হয় তিন লাখ মার্কিন ডলার। ৪৫ জন কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীর সহায়তায় হ্যান্ডের প্রতিনিধিদল মসজিদের পাঁচটি বিভাগের উন্নয়ন করেছে। তা হলো—বিদ্যুৎ, পানি, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও অবকাঠামো।
সাদেত্তিন মনে করেন বিগত সিরিয়ান সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে মসজিদের প্রতি অবহেলা করেছে। কেননা তিনি দেখেছেন, মসজিদের ভেতরে ময়লার স্তূপ পড়ে আছে, আলোর ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ, কোরআনগুলো ময়লা হয়ে আছে, জায়গায় জায়গায় ময়লা পানি জমে আছে। সিরিয়ার শাসক পরিবার চেয়েছিল দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য মুছে ফেলে কেবল তাদের ইতিহাসের প্রতি মানুষের মনোযোগ আবদ্ধ করা।
সাদেত্তিন জানান, তাঁর সংস্থার সহযোগিতায় মসজিদ থেকে কয়েক টন আবর্জনা সরানো হয়েছে, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন করা হয়েছে, এক শরও বেশি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, বাথরুমগুলো সংস্কার করা হয়েছে, ঝরনা ও অজুখানায় পরিচ্ছন্ন পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে, সোলার প্যানেল ঠিক করা হয়েছে, বৈদ্যুতিক বাল্বগুলো পরিবর্তন করা হয়েছে, বৈদ্যুতিক তার প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, সুগন্ধি ও বাখুরের ব্যবস্থা করা হয়েছে, মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের জন্য জুতা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে, ভেতরে ও বাইরের দেয়ালের অঙ্গসজ্জা করা হয়েছে, মসজিদে নতুন কার্পেট বিছানো হয়েছে। এখনো মসজিদের পুরনো শিল্পকর্মগুলো উদ্ধার, আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম যুক্ত করা এবং সোলার প্যানেল উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
দামেস্কের উমাইয়া মসজিদের প্রতি আসাদ সরকারের বিমাতাসুলভ আচরণের কারণে অনেকেই মসজিদ থেকে মনঃকষ্টে দূরে সরে ছিলেন। যেমন—একজন ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা সাদেত্তিনকে বলেছেন তিনি ২০ বছর ধরে উমাইয়া মসজিদে প্রবেশ করেননি। সংস্কারের পর মসজিদে মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়েছে।









