
নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজশাহী মহানগরীর এক শিক্ষার্থীকে তারই সহপাঠীরা মারপিট ও তার নগ্ন ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ মামলা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থী আজ বুধবার (১২জুলাই) নিজে বাদি হয়ে তিনজনকে আসামী করে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি মামলাটি দায়ের করেছেন। এঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটককৃতরা হলো মমতা নার্সিং ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী ও পুঠিয়ার মধুখালী নতুনপাড়া এলাকার বাবুল হোসেন মেয়ে আয়শা খাতুন (২০), তানোর চাঁদপুরগ্রামের জালাল উদ্দিনের মেয়ে শ্যামলী আক্তার শিমু (১৯) ও পুঠিয়ার ভালুকগাছি গ্রামের ডাবলু মন্ডলের ছেলে তামিম ইকবাল (২০)। তামিম ইকবাল আসামী আয়েশার প্রেমিক।

মামলা বিবারণে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের এক শিক্ষার্থী মমতা নার্সিং ইন্সটিটিউটে পড়াশোনা করেন। তিনি নগরীর বালিয়াপুকুর বড়বটতলা এলাকার মনিরুজ্জামানের বাসার ৩য় তলার ভাড়া থাকেন। তার সাথে একই ভবনে থাকতেন ওই ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী পুঠিয়ার জিউপাড়া এলাকার বাবুল হোসেনের মেয়ে আয়েশা খাতুন ও বঙ্গবন্ধু কলেজের ছাত্রী ও তানোরের চাঁদপুর গ্রামের জালাল উদ্দিনের মেয়ে শ্যামলী আক্তার শিমু।
রুমমেট আয়েশার সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল ৩নং আসামী পুঠিয়ার ভালুকগাছী সর্দারপাড়ার ডাবলু মন্ডলের ছেলে তামিম ইকবালের। প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে ওই বাসায় কেউ না থাকলে আয়েশা খাতুন তার প্রেমিক তামিম ইকবালকে মাঝে মধ্যে ডেকে নিতেন। বিষয়টি ওই ছাত্রী জানার পর সহপাঠী আয়েশার বাবাকে ঘটনাটি জানান। পরে আয়েশার বাবা রাজশাহীতে এসে মেয়েকে শাসিয়ে যান।
এরই জের ধরে গত ৭ জুলাই রাত ৮টার দিকে প্রেমিক তামিমের নির্দেশে আয়েশা খাতুন ও শিমু ওই ছাত্রীকে তাদের রুমে ডেকে নিয়ে লাঠি দিয়ে এলোপাথাড়ীভাবে মারধর করে। এতে মনিরার শরীরের বিভিন্নস্থানে জখম হয়। আয়েশা খাতুন চাবি দিয়ে তার পায়ের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে ও ওয়ালের সাথে মাথা ধরে বাড়ি দিতে থাকে।
এক সময় তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়লে তারা পরনের কাপড় ছিড়ে ফেলে মোবাইল ফোনে নগ্ন ভিডিও ধারণ করে। মারধরের ঘটনা কাউকে জানালে তারা হুমকি দেয় যে উক্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে দেয়া হবে। পরে ওই ভিডিও আয়েশা তার প্রেমিক তামিমের মোবাইল ফোনে দেয়। এরপর তামিম ওই ভিডিও মনিরা খাতুনের বন্ধু-বান্ধবী ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
এ বিষয়টি গত ১১ জুলাই ওই ছাত্রী মমতা নার্সিং ইন্সটিটিউটের এক শিক্ষককে জানান। পরে ওই শিক্ষক ঘটনাটি নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করেন। এসময় ওই এলাকায় টহলরত থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ছাত্রীর কাছ থেকে সব শুনে তাদের তিনজনকে আটক করে।
এব্যাপারে নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহরাওয়ার্দী জানান, মনিরা খাতুনের দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।








