রাজশাহী

দুই বছর আগে সংস্কার হলেও বেহাল দশা তানোর-পবার রাস্তাটির

নিউজ ডেস্ক৯ নভেম্বর ২০২৫২ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলার কালিগঞ্জ বাজার থেকে পবা উপজেলার বাগধানি পর্যন্ত সড়কটি আবারও বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। মাত্র দুই বছর আগেও বিপুল অর্থ ব্যয়ে সংস্কার করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তাটির অধিকাংশ স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। উঠে গেছে কার্পেটিং। ভাঙা-চুরা রাস্তায় ধুলাবালি আর কাদায় এখন এই সড়ক চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারীরা। ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনাও।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি তানোর ও পবা উপজেলার মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন এই রাস্তায় শত শত অটোরিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল, বাস-ট্রাক ও পিকআপ চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিন গত প্রায় এক বছর ধরে রাস্তাটিতে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। একটু বৃষ্টিতেই এই গর্তগুলোতে পানি জমে কাদা হয়ে যায়, আবার শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালিতে একাকার হয়ে যায় চারপাশ। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল যেমন কষ্টকর, তেমনি রাস্তার দু’ধারে গড়ে উঠা স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

পবার বাগধানি এলাকার কৃষক নজরুল বলেন, “এই রাস্তা দিয়েই আমরা ধান, আলু, সবজি বাজারে নিয়ে যাই হাটে। কিন্তু এখন রাস্তা এত খারাপ যে ট্রলিও সহজে যেতে পারে না। কষ্ট হয়। একটু বৃষ্টি হলেই কাদা আর পানিতে ভরে যায়।”

কালিগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী আকবর হোসেন বলেন, “বছর দুয়েক আগেই এ রাস্তাটির সংস্কার হয়েছিল কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে। কিন্তু এখন মনে হয় রাস্তা কোনোদিনই মেরামত হয়নি। কোথাও পিচ নেই, কোথাও ইট উঠে গেছে, গাড়ি চালানো দুঃসাধ্য। তখনই কাজ খারাপ করা হয়েছে। ফলে এক বছর যেতে না যেতেই আবার সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি দেখছি।”

কাশিমপুর বাজারের ব্যবসায়ী দেলশাদ বলেন, ‘রাস্তাটি ভেঙে-চুরে যাওয়ায় কাদা-পানি আর ধুলা-বালির কারণে দোকানে বসে থাকায় যায় না। দোকানে ব্যবসাও কমে গেছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও বিপাকে পড়ছেন। অথচ কিছুদিন আগেই রাস্তাটি সংস্কার হয়েছিল। তবে আবার সেই খারাপ অবস্থায় পরিণত হয়েছে। মাঝে শুধু সরকারি টাকা অপচয় করা হয়েছে।’

তানোর উপজেলা প্রকৌশলী নুরুন্নাহার বলেন, ‘কালিগঞ্জ থেকে বাগধানি পর্যন্ত সড়কটি সর্বশেষ সংস্কার করা হয়েছিল কয়েক বছর আগে। তখন আমি ছিলাম না। এখন এসে দেখি খুব খারাপ অবস্থা। আমরা নতুন করে সংস্কারকাজ হাতে নিয়েছি। তবে বর্ষার কারণে কাজ শুরু হয়নি পুরোদমে। এখন শুরু হবে। আমার অংশের প্রায় ৮ কিরোমিটারে ১১ কোটি টাকা ব্যয় হবে। পবার অংশটির এখনো বাজেট পাইনি তারা। মন্ত্রণালয়ে ফাইল পাঠানো আছে বলে জানি।’

স.আর