জাতীয়

‘দালালকে ৪৫ লাখ টাকা দিয়েও স্বামীকে বাঁচাতে পারলাম না’

নিউজ ডেস্ক১৩ মে ২০২৬২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

‘পার্শ্ববর্তী পূর্ব স্বরমঙ্গল গ্রামের এক দালাল আমার স্বামীকে ইতালি নেওয়ার কথা বলে লিবিয়ার বন্দিশালায় আটকে রেখে ব্যাপক মারধর করে। ক্রমান্বয়ে ৪৫ লাখ টাকা আমার কাছ থেকে নেয়।

এই টাকা আমি জায়গা-জমি বিক্রি ও ধারদেনা করে দালালকে দিয়েছি। এর পরও আমার স্বামীকে বাঁচাতে পারলাম না। অবশেষে আমার স্বামীকে মেরেই ফেলল দালাল।’
আহাজারি করে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ঘোষালকান্দি গ্রামের কালু ফকিরের ছেলে তসির ফকিরে স্ত্রী ইসমত আরা।

মঙ্গলবার (১২ মে) সন্ধ্যায় ইসমত আরা দালালের মাধ্যমে তার স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ পান। এ খবরে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে ইতালি যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন চা ব্যাবসায়ী তসির ফকির। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে বিদেশে পাড়ি জমানোর ছিল নানা পরিকল্পনা।

কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল। অকালেই নিভে গেল তার জীবন প্রদীপ। লিবিয়ায় মাফিয়াদের নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যু হয় তার।

বুধবার দুপুরে তসিরের বাড়িতে সরেজমিনে গেলে পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তসির। পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ গড়ার আশায় ছিলেন তিনি।

দালালের প্রলোভনে ৮ মাস আগে অবৈধপথে লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার জন্য বাড়ি ছাড়েন। আর এই সুযোগে দালাল হাতিয়ে নেয় প্রায় অর্ধকোটি টাকা। ভিটেমাটি ও সহায়-সম্বলহীন তসিরকে দীর্ঘদিন লিবিয়ায় বন্দিশালায় আটকে রেখে নির্যাতন করায় অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তসিরের মৃত্যুতে পরিবারে চলছে কান্নার আহাজারি।
তসিরের স্ত্রী ইসমত আরা আরো বলেন, আমি এই হত্যার বিচার চাই। আমার স্বামীর লাশ দেশে আনার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই। আমার তিন মেয়েকে নিয়ে কিভাবে বাঁচব?

পরিবার ও স্বজনরা জানায়, তাসির চায়ের দোকান করে পরিবার চালাতেন। পরিবারে তার স্ত্রী ইসমত আরা ও নাসরিমা, সুমাইয়া ও ইরাফাত নামের তিনটি মেয়েসন্তান রয়েছে।

নিহত স্বজনরা দ্রুত দালালকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি ও তাসিরের লাশ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানান সরকারের কাছে।

স্থানীয়রা জানায়, বর্তমানে রাজৈর ও পার্শবর্তী এলাকার প্রায় প্রতি ঘরে ঘরেই ইতালি পাঠানোর দালাল তৈরি হয়েছে। তারা খুব সহজেই ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ক্রমান্বয়ে সব কেড়ে নিচ্ছে। অনেককেই লাশ হয়ে বাড়ি ফিরে বাড়িতে।

ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন জানিয়ে রাজৈর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজুল হক জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার চাইলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।