রাজশাহী

ডিম ব্যবসায়ী হলেও ম্যাজিস্ট্রেট সেজে রাজশাহীর চিকিৎসকের সঙ্গে প্রেম, অতঃপর

নিউজ ডেস্ক৩১ ডিসেম্বর ২০২৪৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রকৃতপক্ষে তিনি ডিম ব্যবসায়ী। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে নারী চিকিৎসকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এক যুবক। সেই সূত্র ধরে ওই চিকিৎসককে  বিয়ের প্রস্তাবও দেন সে যুবক। তখন চিকিৎসকের পরিবার খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ওই যুবক ম্যাজিস্ট্রেট নয়, সে একজন ডিম ব্যবসায়ী। এতে পরিবারেন সদস্যদের মাঝে বাধে বিপত্তি। বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দেয় চিকিৎসকের পরিবার। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই নারী চিকিৎসক অপহরণ করেন ডিম ব্যববসায়ী যুবক। ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা থানা এলাকায়। এ ঘটনায় ওই নারীর বাবা মামলা করেন। মেয়েকে অপহরণের সময় তাকেও তুলে নিয়ে গিয়েছিণ ওই যুবক ও তার লোকজন। পরে তাকে সিরাজগঞ্জে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়া হয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাবনার সাথিয়া থানার বামনডাঙ্গা গ্রামের আবু হানিফের ছেলে তানজিম খান তাজ নীরব (৩০) এই অপহরণের ঘটনায় জড়িত। সোমবার ভোরে নিজ বাসা থেকে অপহরণ করা হয় ওই নারী চিকিৎসককে। তিনি রাজশাহীর একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ থেকে সম্প্রতি ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি (বিডিএস) শেষ করেছেন। তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। তাদের বাসা রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকায়। ওই দিন রাতে চন্দ্রিমা থানায় মামলা করেন চিকিৎসকের বাবা। মামলায় তানজিম খানের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত তার কয়েকজন সহযোগীকে আসামি করা হয়েছে।

চিকিৎসকের পরিবার জানায়, ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে নারী চিকিৎসকের সঙ্গে প্রায় চার বছর ধরে প্রেম করে আসছিলেন তানজিম খান তাজ নীরব। সম্প্রতি বিয়ের প্রস্তাব দেন। পরে চিকিৎসকের পরিবার খাঁজ নিয়ে জানতে পারে তানজিম ম্যাজিস্ট্রেট নয় ডিম ব্যবসায়ী। এই পরিচয় জেনে বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অপহরণের পরিকল্পনা করেন তানজিম খান।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তানজিম খানের বর্তমান ঠিকানা পদ্মা আবাসিক এলাকার ১০ নম্বর রোডে। বাড়ি পাবনার সাথিয়ায়। প্রায় চার বছর আগে চিকিৎসকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তখন নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দেন। সম্প্রতি বিয়ের প্রস্তাব দিলে জানা যায়, মূলত ডিম ব্যবসায়ী। প্রতারণার বিষয়টি জেনে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দেন মামলার বাদী। তখন থেকে চিকিৎসক ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন তানজিম।

সোমবার ভোরে চিকিৎসকের বাবা ফজরের নামাজ পড়ার জন্য বাসা থেকে বের হন। রাস্তায় উঠলে পেছন থেকে তানজিম ও তার সহযোগীরা তাকে মারধর করে মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে কালো রঙের গাড়িতে (ঢাকা মেট্রো-চ-১৫-৫০৫২) তোলেন। পরে তার পকেটে থাকা চাবি নিয়ে বাসার ভেতরে ঢোকেন। ঘরে ঢুকে তানজিম তার হাতে থাকা রামদা দিয়ে চিকিৎসকের মায়ের মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করেন। পরে তার মেয়েকে গাড়িতে তুলে নেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাদীকে সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল এলাকায় রাস্তার পাশে ফেলে মেয়েকে নিয়ে চলে যান অপহরণকারীরা। তিনি বাড়ি ফিরে রাতে থানায় মামলা করেন।

রাজশাহী নগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, ‌‘অপহরণকারী তানজিম নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়েন। যখন তার পরিবার জানতে পারে, তিনি ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট তখন বিয়ে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে চিকিৎসককে অপহরণ করা হয়।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান বলেন, ‘এখনও নারী চিকিৎসককে উদ্ধার করা যায়নি। উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।’

ওসি আরও বলেন, ‘ওই চিকিৎসকের বাবা থানায় মামলা করেছেন। এজাহারে বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন। অপহরণের কাজে ব্যবহৃত গাড়িটি নম্বরসহ শনাক্ত করতে পেরেছে পুলিশ। ওই নম্বর বিভিন্ন থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাদীও অপহরণকারীদের চিনতে পেরেছেন। আমরা ওই চিকিৎসককে উদ্ধারে সব ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছি।’