রাজশাহী

ডিমের বাজারে ধস: চরম সংকটে প্রান্তিক খামারিরা, জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি

নিউজ ডেস্ক১২ জুন ২০২৬২ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রদিবেদক:

দুর্গাপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডিম উৎপাদনকারী প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র খামারিরা বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে ডিমের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় প্রতিটি ডিম বিক্রিতে গড়ে ১.৫০ থেকে ২ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন খামারিরা।

খামারসংশ্লিষ্টদের দাবি, বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের বাজার নিয়ন্ত্রণ, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠীর আধিপত্যের কারণে ক্ষুদ্র খামারিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে দিন দিন লোকসানের বোঝা বেড়েই চলেছে।

খামারিরা জানান, মুরগির খাদ্য, ওষুধ, বিদ্যুৎ, শ্রমিক ও পরিবহন ব্যয় ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলেও ডিমের বিক্রয়মূল্য সেই অনুপাতে বাড়েনি। বরং বর্তমান বাজারদরে ডিম বিক্রি করে উৎপাদন খরচও উঠছে না। এতে অনেক খামারি পুঁজি হারিয়ে খামার বন্ধ করার উপক্রম হয়েছেন। কেউ কেউ ইতোমধ্যে উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

পোলট্রি খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় হাজার হাজার ক্ষুদ্র খামারি নিঃস্ব হয়ে পড়বেন এবং দেশের ডিম উৎপাদন ব্যবস্থাও দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির মুখে পড়বে।
খামারিদের পক্ষ থেকে বাজার তদারকি জোরদার, উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা ও স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা চালুর দাবি জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় এবং দেশের পোলট্রি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।