সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। নারীদের বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অশালীন বক্তব্য বা কথিত ‘পুরুষতান্ত্রিক আচরণের’ প্রতিবাদ জানাতে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ হচ্ছে।
নতুন প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের অধীনে দেশটির নারীদের অধিকার নষ্ট হবে এমন আশঙ্কায় ওয়াশিংটনজুড়ে বিক্ষোভ হয় যেখানে যোগ দেন হাজার হাজার নারী।

শনিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে একটি বিক্ষোভ সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রের পপ-সম্রাজ্ঞী ম্যাডোনা বলেছেন, “হোয়াইট হাউস উড়িয়ে দেওয়ার কথা অনেক ভেবেছি আমি”।
বিক্ষোভে বক্তৃতা দেওয়ার সময় ম্যাডোনা বলেন, “আমরা একটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ছি বলে মনে হচ্ছে। এই নির্বাচনের ভালোর জয় হয়নি। তবে শেষে ভালোরই জয় হবে”।
বিক্ষোভ সমাবেশকে বিদ্রোহের শুরু বলে আখ্যায়িত করে বিখ্যাত গায়িকা ম্যাডোনা বলেন, ‘আমরা পিছে ফিরে যাবো না”।
ট্রাম্পের অভিষেক বক্তব্য নিয়ে ম্যাডোনা বলেন, যে তিনি খুবই ক্ষুব্ধ। “আমি হোয়াইট হাউস পতনের কথাও ভেবেছি”-বলেছিলেন ম্যাডোনা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে সমর্থন করেছিলেন ম্যাডোনা। হিলারির সমর্থনে নির্বাচনী প্রচারেও অংশ নেন তিনি।
অভিষেক গ্রহণের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চলছে বিক্ষোভ। বিশ্বজুড়ে ছয়শোরোও বেশি ট্রাম্পবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামলেন তারকারা:
প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার পর একদিনও কাটতে পারল না, বিক্ষোভের মুখে পড়তে হল ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। শুধু সাধারণ মানুষ নন, হলিউডের বিখ্যাত অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও ট্রাম্পের সমালোচনায় মুখর। স্কারলেট জনসন, অ্যাশলে জুড, ম্যাডোনা, অ্যালিসিয়া কেইস শুরু করে আমেরিকা ফেরেইরা, মাইকেল মুর, জেনেলে মোনে কে নেই সেই তালিকায়। ওয়াশিংটনে ‘ওমেন’স মার্চ’-এ অংশ নিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন তাঁরা।

নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এদিনের বিক্ষোভ সমাবেশে কয়েক লাখ নারী অংশ নিয়েছিলেন। সমাজে নারীর অধিকার জন্য লড়াই, ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি প্রভৃতিই ছিল বিক্ষোভের কারণ। তাঁদের সামনেই বক্তৃতা রাখেন অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। স্কারলেট জনসন বলেন, ‘আমি ট্রাম্পকে ভোট দিই নি, তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি তাঁকে সমর্থন করি। আমি আমার মেয়ে হয়তো এমন একটি দেশে বড় হতে চলেছে যে দেশটি সামনের দিকে না এগিয়ে ধীরে ধীরে পিছিয়ে যাচ্ছে। ’ এরপরেই ট্রাম্পের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনার মেয়ে ইভাঙ্কা যে সুযোগ–সুবিধা পাবে আমার মেয়ে হয়ত পাবে না। ’
আমেরিকা ফেরেইরা ছিলেন আরও আক্রমণাত্মক। বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট আমেরিকা নয়। তাঁর ক্যাবিনেট, কংগ্রেসও আমেরিকা নয়। আমরা অর্থাৎ সাধারণ মানুষ হল আমেরিকা। আমরা এখানে থাকতে এসেছি। আমাদের পরিবার, প্রতিবেশীদের জন্য এদিনের পদযাত্রায় অংশ নিয়েছি আমরা। আমাদের প্রত্যেককে একসঙ্গে লড়াই করতে হবে। আমরা যদি জোটবদ্ধ না হই, তাহলে এই লড়াই হেরে যাব। ’ হিংসার বিরুদ্ধে স্বাধীনতাকে বেছে নিতে বলেন গায়িকা এবং অভিনেত্রী জেনেলে মোনে। এছাড়া বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ম্যাডোনা, অ্যালিসিয়া কেইসরাও।
সূত্র: বিবিসি বাংলা









