রাজনীতি

ট্রাইব্যুনালেই হাসিনার বিচার করতে হবে : মাসুদ সাঈদী

নিউজ ডেস্ক২৮ অক্টোবর ২০২৪৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

জামায়াত নেতা ও আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী বলেছেন, ‘দেশ ও গণতন্ত্রকে বিগত ১৫ বছরে ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনা ধ্বংস করে দিয়েছেন। তিনি হত্যা, গুম, মিথ্যা মামলা ও সন্ত্রাস কায়েম করে এ দেশের মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিলেন। জামায়াতে ইসলামী বিগত ১৫টি বছর ধরে সব জুলুম-নির্যাতন সয়ে এ দেশের মানুষকে সচেতন করেছে। দাবি আদায়ে আন্দোলন করেছে, সংগ্রাম করেছে।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মূলত একটি সন্ত্রাসী দল। দলটির জন্ম থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সন্ত্রাস ছাড়া কোনোে দিন টিকে থাকতে পারেনি। আন্দোলনের নামে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সামনে তারা গান পাউডার দিয়ে বাস পুড়িয়ে ১১ জনকে হত্যা করেছিল। এটা নতুন কোনো ব্যাপার না।

সেই পাকিস্তান আমলে অ্যাসেমব্লির মধ্যে ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলীকে পিটিয়ে হত্যা করার মধ্য দিয়ে শুরু, তারপর সব কিছুর মধ্যে তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ সব থেকে বড় হাতিয়ার।’

সোমবার (২৮ অক্টোবর) গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পিরোজপুর জেলা শাখা কর্তৃক আয়োজিত গণসমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

মাসুদ সাঈদী বলেন, ‘২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগ লগি-বৈঠা দিয়ে পৈশাচিকভাবে পিটিয়ে মানুষ হত্যা করেছে। হত্যার পর মৃত মানুষের ওপর এই পাপিষ্ঠরা নৃত্য করেছে।

২০১০ সালে তারা পিলখানায় দেশের ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনাসদস্যকে গুলি করে হত্যা করেছে। ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তথাকথিত ট্রাইবুনালে কোরআনের পাখি আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে দেওয়া ফাসির রায়ের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক জনতা ফুঁসে উঠলে বিক্ষোভরত জনতার বুকে গুলি চালিয়ে তিন শতাধিক মানুষকে হত্যা করেছে। ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে নাস্তিকদের বিরুদ্ধে আয়োজিত সমাবেশে গভীর রাতে সহস্রাধিক নিরীহ আলেমকে গুলি করে হত্যা করেছে। ২০১৮ সালেও তারা কোটাবিরোধী আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে গুলি করে ছাত্র হত্যা করেছে। সবশেষ আওয়ামী লীগ ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে শুরু করে ৫ আগস্ট পর্যন্ত নির্বিচারে দুই হাজারের অধিক ছাত্রকে গুলি করে হত্যা করেছে।

তিনি বলেন, ‘১৯৮১ সালে প্রেসক্রিপশনে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে ধ্বংসের নীল নকশা নিয়ে দিল্লী থেকে বাংলাদেশে এসেছিলেন। দেশের বিরুদ্ধে তার সকল ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করে দেশের সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা আবার দিল্লীতেই তার প্রভুর দেশে ফিরে গেছেন। শেখ হাসিনা বলেছিলেন, “আমি শেখ মুজিবের মেয়ে, আমি পালাতে জানি না।” সেই তিনি ছাত্র আন্দোলনের মুখে হেলিকপ্টার দিয়ে গণভবন থেকে পালিয়েছেন। পালানোর আগে ৭০ লক্ষ মানুষের উপর মিথ্যা মামলা দিয়ে গেছেন। শেখ হাসিনার জুলুম নির্যাতনে কোনো রাজনৈতিক নেতাকর্মী নিজ বাসা বাড়িতে ঘুমাতে পারতো না।’

মাসুদ সাঈদী আরো বলেন, ‘কোরআনের পাখি আল্লামা সাঈদীকে শেখ হাসিনা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন। শুধু আল্লামা সাঈদী-ই নন, এদেশের সকল মত ও পথের অসংখ্য আলেমকে গ্রেপ্তার করে শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন তিনি তার পিতার মতোই আলেম বিদ্বেষী, ইসলাম বিদ্ধেষী। আজকের এই সভা থেকে আমরা বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, অনতিবিলম্বে শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ধরে এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিচার করে বাংলাদেশের আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে। নতুন আইন দিয়ে বিচার করে আমরা শেখ হাসিনার প্রতি কোনো প্রকার জুলুম করতে চাই না। আমরা চাই, হাসিনার বানানো আইনে, হাসিনার বানানো ট্রাইবুনালেই তার বিচার হোক। এই ট্রাইবুনাল থেকেই শেখ হাসিনার ফাঁসির আদেশ আসার পর প্রকাশ্যে তার রায় কার্যকর করা হোক।’

পিরোজপুর টাউন ক্লাব মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পিরোজপুর জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ জহিরুল হকের সঞ্চালনায় ও জেলা আমির বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসেন ফরিদের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও বরিশাল অঞ্চল টিম সদস্য এ কে এম ফখরুদ্দিন খান রাযী। বিশেষ অতিথি ছিলেন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মেজ সন্তান ও আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শামীম সাঈদী, ছারছীনা দরবার শরীফের ছোট পীর সাহেব শাহ মোহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ সিদ্দিকী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পিরোজপুর জেলার নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও বরিশাল অঞ্চল টিম সদস্য এ কে এম ফখরুদ্দিন খান রাযী বলেন, ‘সংবিধান মানুষের জন্য। সংবিধানের জন্য মানুষ নয়। যে সংবিধান মানুষের জন্য কল্যাণকর নয়, এমন সংবিধান হতে পারে না। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার নিজেদের স্বার্থে সংবিধানকে বার বার সংশোধন করেছে। বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশকে সবদিক থেকে ধ্বংস করে দিয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে দেশকে পঙ্গু করেছে। দেশের টাকা বিদেশে পাচার করার ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। আওয়ামী লীগের ভোটের মাঠে ফিরে আসার নৈতিক অধিকার নেই। দেশ গড়তে সবার ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দল মত নির্বিশেষে ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই।’

 

সূত্র: কালের কণ্ঠ