বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

টেলিযোগাযোগ খাতে মনোপলি ঠেকানোর প্রজ্ঞাপন জারি

নিউজ ডেস্ক২০ নভেম্বর ২০১৮২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে মনোপলি ব্যবসা ঠেকাতে সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার বা এসএমপি রেগুলেশন জারি  হয়েছে।

মঙ্গলবার এই এসএমপি বা তৎপর্যপূর্ণ বাজার ক্ষমতা প্রবিধানমালা-২০১৮ এর গেজেট তুলে ধরে বিটিআরসি। এটি টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বা সব ধরনের সেবা সম্পর্কিত লাইসেন্সধারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে।

নভেম্বরের শুরুতে এই নীতিমালায় অনুমোদন দেয় সরকার। এরপর এটি গেজেট আকারে প্রকাশের অপেক্ষায় ছিল।  দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম এই রেগুলেশন হলো বাংলাদেশে।

এতে বলা হয়, বাজারে মোবাইল অপারেটরগুলোসহ এ খাতে লাইসেন্সধারী কোনো কোম্পানিকে এসএমপি ঘোষণায় তার গ্রাহক, রাজস্ব এবং স্পেকট্রামসহ অন্যান্য সম্পদের  বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

যেখানে কোনো কোম্পানি যদি এর যেকোনো একটি মানদণ্ডে মোট বাজারের ৪০ শতাংশ দখল বা নিয়ন্ত্রণ করে তাহলে সে এসএমপি হিসেবে বিবেচিত হবে।

কোনো কাজে বাজারে প্রতিযোগিতা কমিয়ে দেয়ার সম্ভাবনা থাকলে তা শুরু করার আগে বিটিআরসি অনুমতির দরকার হবে। সেক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ, ভোক্তাদের সুনির্দিষ্ট কল্যাণ, অন্য প্রতিযোগির অধিকার ক্ষুণ্ণ না করা ও সরকারি নীতিমালার সঙ্গে সঙ্গতি দেখে অনুমতির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে ।

এসএমপি হিসেবে চিহ্নিত কোম্পানিকে পরবর্তী করণীয় ও বর্জনীয় নিয়ে নির্দেশনা দেবে বিটিআরসি।  সেখানে চলমান কোনো কার্যক্রম বন্ধ করতেও বলা হতে পারে।  আর রেগুলেশন ভাঙ্গলে প্রশাসনিক জরিমানাসহ আইনানুয়ায়ী দণ্ডিত করা হবে।

বর্তমানে গ্রামীণফোনের ৪৫ দশমিক ৮ শতাংশ গ্রাহক। রবির ৩০ শতাংশ, বাংলালিংকের ২২ শতাংশ এবং টেলিটকের আড়াই শতাংশ।

আর টেলিকম অপারেটরগুলোর মোট আয়ের ৫১ শতাংশের বেশি জিপির একারই। এই হিসাব ২০১৭-১৮ সময়ের, যা পরবর্তী সময়েও এখনকার এসএমপি রেগুলেশনের শর্তসীমার বাইরে পড়ার মতো হেরফের হয়নি। যেখানে গ্রাহক সংখ্যায় জিপির পরে থাকা রবির শেয়ার ২৮ শতাংশের মতো।

ফলে রেগুলেশন অনুযায়ী এসএমপিতে পড়ে যায় গ্রামীণফোন। বিটিআরসির ঘোষণার পর এই হিসেবে অপারেটরটি আর নতুন সিম বিক্রি করতে পারবে না।

বর্তমানে বাজারে মোট গ্রাহক আছে সাড়ে ১৫ কোটি। আর জিপির হাতে তার ৭ কোটি ১১ লাখই। শতাংশে তা ৪৫ দশমিক ৮ এর মতো।

এখন বিটিআরসি জিপিকে কখন এসএমপি ঘোষণা করে আর করণীয় ও বর্জনীয় নিয়ে কী কী নির্দেশনা সেটা দেখায় বিষয়।