ধর্ম

ঝিনাইদহে গোরাই দরবেশের মসজিদ

নিউজ ডেস্ক২০ আগস্ট ২০২৫৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক অঞ্চল ঝিনাইদহের বারোবাজার। এখানে মুসলিম শাসনামলের একাধিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আছে। যার মধ্যে আছে একাধিক মসজিদ, কবরস্থান, সমাধিক্ষেত্র, বন্দর, লৌকিক ভবন প্রভৃতি। এগুলোর ভেতর শুধু গোড়ার মসজিদই এখনো টিকে আছে।

গোড়ার মসজিদ কালীগঞ্জ উপজেলার বেলাত দৌলতপুর গ্রামে অবস্থিত। বারান্দাসহ বর্গাকার এই মসজিদের আয়তন দৈর্ঘ্যে ১২.২৪ মিটার এবং প্রস্থে ৮.২৩ মিটার।
বারোবাজার এলাকার অন্যান্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মতো গোড়ার মসজিদও মাটির নিচে চাপা পড়েছিল। ১৯৮৩ সালে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কর্তৃক খনন করার পর মসজিদটি আবিষ্কৃত হয়।

সে সময় গম্বুজসহ মূল নামাজের কক্ষটি টিকে ছিল। কিন্তু তিনটি ছোট গম্বুজসহ বারান্দাটি ধসে পড়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মসজিদের পুনর্গঠন করে। সংস্কারের পর তা নামাজের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

বর্তমানে গোড়ার মসজিদে নিয়মিত আজান ও নামাজ হয়।
মসজিদের মূল নামাজের সঙ্গে সংযুক্ত কৌণিক মিনারগুলো অষ্টভুজাকার আর বারান্দার সঙ্গে সংযুক্ত দুটি মিনার প্রতি বাহুতে কৌণিক উদগত অংশসহ বর্গাকার। এ ধরনের মিনার সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের প্রবাজপুর মসজিদে এবং ফরিদপুরের পাতরাইলের আউলিয়া মসজিদে দেখতে পাওয়া যায়।

মসজিদের পূর্ব দিকে তিনটি এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিকে দুটি খিলানযুক্ত প্রবেশপথ আছে। পূর্ব দিকের কেন্দ্রীয় প্রবেশপথটি তুলনামূলক বড়।

উত্তর ও দক্ষিণের প্রবেশপথগুলো এখন জানালা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মসজিদের চার দেয়ালে আছে আটটি সংযুক্ত স্তম্ভ। তার মধ্যে চারটি কালো পাথরের ও চারটি ইটের। কিবলা দেয়ালে আছে পর্যাপ্ত অলংকরণসমৃদ্ধ তিনটি অর্ধবৃত্তাকার মিহরাব। কেন্দ্রীয় মিহরাবটি বড়। মিহরাবগুলোর উভয় পাশে দুটি ছোট স্তম্ভ আছে এবং এদের শীর্ষদেশ বহু খাজবিশিষ্ট। প্রতিটি মিহরাব পোড়ামাটির অলংকরণসমৃদ্ধ। আবর্তগুলোতে আছে ফুল ও লতাপাতার নকশা। মিহরাবগুলোর কাঠামোর ওপর মারলন আছে এবং কেন্দ্রীয় মিহরাবের শীর্ষে কলসের নকশা আছে। মসজিদের দেয়ালে পোড়মাটির পাতা-ফুল শোভিত শিকল, ঘণ্টা ইত্যাদি নকশা আছে। মসজিদের বাইরের দেয়ালের পুরোটা পোড়ামাটির কারুকাজ দ্বারা অলংকৃত।
মসজিদের পূর্ব দিকে একটি পুকুর আছে। মসজিদ থেকে পুকুরে যাওয়ার জন্য বাঁধানো ঘাট ছিল। তবে এখন পুকুর টিকে থাকলেও ঘাটটি অক্ষত নেই। আছে তার ক্ষয়ে যাওয়া কিছু নিদর্শন। মসজিদের পাশে একটি কবর আছে, যা গোরাই দরবেশের বলে ধারণা করা হয়। জনশ্রুতি অনুসারে গোরাই দরবেশ ছিলেন খানজাহান আলীর শিষ্য। তাঁর নামেই মসজিদের নাম দেওয়া হয়েছে। তিনি এই মসজিদে অবস্থান করে অত্র অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন।

ধারণা করা হয়, হোসেন শাহ বা তাঁর ছেলে নুসরত শাহের আমলে গোড়ার মসজিদ নির্মাণ করা হয়। গৌড়ের সাত্তম ও খনিয়া দিঘি মসজিদ, দিনাজপুরের সুরা মসজিদ, দেওয়ানগড় মসজিদ, টাঙ্গাইলের আতিয়া মসজিদ ও সিংহদার আওলিয়া মসজিদের সঙ্গে গোড়ার মসজিদের নির্মাণশৈলীর মিল পাওয়া যায়।