স্বাস্থ্য

জীবনধারা বদলে দিতে বসুন্ধরায় ইয়োগার যাত্রা শুরু

নিউজ ডেস্ক১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

তখন কেবলই আড়মোড়া ভাঙতে শুরু করেছে সূর্য। অন্ধকার ফুঁড়ে একটু একটু করে উঁকি দিতে গিয়েও বাধা পাচ্ছিল মেঘলা আকাশের কাছে। তাতে কিছুক্ষণের মধ্যে বৃষ্টি নামার শঙ্কাও সত্যি হয়ে গেল। পড়তে শুরু করল গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির ফোঁটা।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরো বাড়তেও থাকে। তবে গতকাল এমন বৃষ্টিভেজা সকালও ঠেকাতে পারেনি বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিমুখী স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের ঢল। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বসবাস করা নানা বয়সের মানুষের ভিড়ে সকাল থেকেই মুখর হয়ে ওঠে দেশের বিশেষায়িত এই ক্রীড়াকেন্দ্র। উপস্থিতদের বেশির ভাগই বয়স ৪০ পার করে ফেলেছেন।

তাঁদের শরীর ঠিক রাখার পথই এদিন থেকে দেখানোর আয়োজন ছিল বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে।
নিয়মিত ইয়োগার মাধ্যমে রোগ-ব্যাধি তাড়িয়ে শরীর মহাশয়কে বশে রাখার উদ্যোগটি বসুন্ধরা গ্রুপের। গতকাল এর প্রথম দিন ‘বসুন্ধরা কমিউনিটি ইয়োগা’ প্রোগ্রামে অংশ নিতে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ছুটে আসেন বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ। যাত্রা শুরুর দিনই শতাধিক মানুষের উপস্থিতি আয়োজকদের আশাবাদী করে তুলেছে।

একসঙ্গে এত মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজনটি পেয়েছে বাড়তি মাত্রা। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে ইয়োগা ছড়িয়ে পড়বে সারা দেশে, এমনটা আশা করা হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলে থাকেন, ইয়োগা বা যোগ শুধু ব্যায়াম নয়, এটা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির সেরা উপায়। ইয়োগার মাধ্যমে শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক প্রশান্তি সাধনের সুযোগ রয়েছে। নিয়মিত ইয়োগা করলে রোগব্যাধি দূর হয়ে যায়।

যে কারণে বয়স্করা যেন সুস্থ থাকতে পারেন, সে লক্ষ্যে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান নিজে এই উদ্যোগ নিয়েছেন। বসুন্ধরা গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিভাগীয় প্রধান (বিক্রয় ও বিপণন) বিদ্যুৎ কুমার ভৌমিক এ নিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের এই উদ্যোগটা বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে। আমাদের স্পোর্টস সিটিরই এটি একটি অংশ। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় যাঁরা বসবাস করেন বা এর আশপাশে যাঁরা আছেন, তাঁদের নিয়ে বৃহৎ আকারে ইয়োগার ব্যবস্থা করা। সেটারই আজ উদ্বোধন হয়ে গেল। এটা আমাদের বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে উপহার।’
প্রথম দিন ইয়োগা করতে আসা সবার মুখেই

ছিল এই উদ্যোগের প্রশংসা। তাঁদের মধ্যে একজন বলেছেন, ‘এটা দারুণ উদ্যোগ। এত দিন আমরা বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকজন এক সঙ্গে হয়ে ইয়োগা করতাম। এখন এক সঙ্গে অনেক লোক করতে পারছি। ইয়োগা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। আমার হাঁটুতে ব্যথা ছিল, নিয়মিত ইয়োগার ফলে ব্যথা আর নেই।’ শুধু হাত কিংবা পায়ের ব্যথা নয়, নিয়মিত ইয়োগা করলে সর্দি-কাশি ও ঠাণ্ডাজনিত রোগ এবং সাইনোসাইটিস-অ্যাজমার মতো সমস্যা থেকেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব। ইয়োগার শাখা মূলত আটটি। এর মধ্যে তিনটি বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। এগুলো হলো—আসন (শারীরিক ব্যায়াম), প্রাণায়াম (নিঃশ্বাসের ব্যায়াম) ও মেডিটেশন (ধ্যান)। এই তিন শাখা নিয়মিত চর্চা করে নিজেকে সুস্থ ও সুন্দর রাখা সম্ভব।

বসুন্ধরা সেপার্টস সিটিতে সপ্তাহে সাত দিনই চলবে ইয়োগা প্রোগ্রাম। দিনে হবে দুটি করে সেশন। সকাল সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা প্রথমটি, এরপর সন্ধ্যায় সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত আরেকটি। যে কেউ এখানে বিনামূল্যে ইয়োগা করতে পারবেন। বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির ইনচার্জ মেজর মো. মহসিনুল করিম মনে করছেন, বসুন্ধরা গ্রুপের এই উদ্যোগ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে, ‘এটা তো পৃথিবীব্যাপী আন্দোলন। বাংলাদেশের অনেক মানুষ ডায়াবেটিসে ভুগছেন, প্রেশারে ভুগছেন। ইয়োগা এমন একটা জিনিস, হাজার হাজার বছরের পুরনো শাস্ত্র। শিগগিরই আমরা টিভিতে, ইউটিউবে লাইভও করব এই প্রোগ্রাম, এটা তখন ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে। সবাই এই ইয়োগা করতে উদ্বুদ্ধ হবে। ঘরে বসেই আমাদের সঙ্গে দূরদূরান্তের মানুষও সেশনে অংশ নিতে পারবে। এটা যখন টেলিভিশনের মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে, তখন বিপ্লব তৈরি হবে। চেয়ারম্যান মহোদয়ের স্বপ্ন এটা এবং এটা সারা দেশের মানুষের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করবে।’