নিজস্ব প্রতিবেদক :
জাল সনদ দিয়ে রাজশাহীর বাঘা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি পদ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।
ওই বিএনপি নেতা হলেন বাঘা পৌরবিএনপির সাধারণ সম্পাদক তফিকুল ইসলাম। এ ঘটনায় তাঁকে অপসারণ করে নতুন করে সভাপতি প্রার্থীর নাম চেয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে চিঠি দিয়েছে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড।

শিক্ষা বোর্ডেও বিদ্যালয় পরিদর্শক শামীম হাসান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিটি গত ৭ আগস্ট বাঘা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী দেওয়ানকে দেওয়া হয়।
এতে উল্লেখ করা হয়, বাঘা উচ্চ বিদ্যালয়ের অনুমোদিত অ্যাডহক (আহ্বায়ক) কমিটির সভাপতির তালিকায় এক নম্বর ব্যক্তি মো: তফিকুল ইসলামের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জেলা শিক্ষা অফিসার, রাজশাহীর এর তদন্তে জাল প্রমাণিত হওয়ায় সভাপতিকে বাতিল ঘোষণা করে উক্ত বিদ্যালয়ের সভাপতির নাম প্রস্তাব করে তালিকা পুনরায় শিক্ষা বোর্ডে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হলো।
এদিকে জানা যায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাঘা উচ্চ বিদ্যালয়ের আহ্বায়ক কমিটি ৬ মাসের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই কমিটিতে সভাপতি করা হয় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: তফিকুল ইসলামকে। কমিটি অনুমোদনের সময় তফিকুল ইসলামের ডিগ্রি পাস সে যে সনদ দেওয়া হয়, সেটি জাল বলে অভিযোগ ওঠে।
এরপর বিষয়টি নিয়ে তদন্তের জন্য রাজশাহী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয় শিক্ষা বোর্ড। সেই তদন্তে তফিকুল ইসলামের দাখিলকৃত সনদটি জাল বলে প্রমাণিত হয়।
জানতে চাইলে বাঘা পৌরবিএনপির সাধারণ সম্পাদক তফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ওই সনদটি কে বা কারা দিয়েছি। আসল সনদ আমার কাছে আছে। আমি আসল সনদ শিক্ষা বোর্ডে জমা দিয়েছি।
বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। কিন্তু তারা সেটি না করে জাল সনদেরটা তদন্ত করে চিঠি দিল বুঝলাম না। আমি বিষয়টি নিয়ে কথা বলবো শিক্ষা বোর্ডকে গিয়ে।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী দেওয়ান বলেন, ‘সভাপতি হতে তফিকুল ইসলাম যে সনদ দিয়েছেন আমি সেটিই বোর্ডে দাখিল করেছি। কিন্তু তার সনদটি জাল প্রমাণিত হয়েছে। এখন পরবর্তি ব্যবস্থা আমাকে নিতে হবে।’
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক শামীম হাসান বলেন, ‘বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অঙ্গীকার নামা দিয়ে সকল কাগগপত্র দাখিল করেন। যদি সভাপতির অভিযোগ সঠিক হয়, তাহলে আলাদা তদন্ত হবে। তবে তাঁর কোনো আবেদন বা আলাদা সদন আমি পাইনি এখনো। পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার অভিযোগ সঠিক হলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে তখন।









