রাজশাহী

জামাত-শিবিরের সঙ্গ ত্যাগ না করলে নির্বাচনের আলোচনা হবে না : নানক

নিউজ ডেস্ক৮ ডিসেম্বর ২০১৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, ‘হঠাৎ করে বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচন পরিহার করেছেন। কিন্তু আজকে যখন নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দিকে যাচ্ছে। তখন আপনি বলছেন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হলে, আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। কেন, আপনারা কারা? আলোচনা তো আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা করতে চেয়েছিল। সেদিন সভ্যতা পর্যন্ত দেখাননি।’

 

বৃহস্পতিবার দুপরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবাস বাংলাদেশ মাঠে রাবি শাখা ছাত্রলীগের ২৫তম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এ সম্মেলন চলে।
জাহাঙ্গীর কবির নানক আরও বলেছেন, নির্বাচন কমিশন দিয়ে কী হবে? যেখানে জনগণ হলো ভোটের মালিক। বেগম খালেদা জিয়া জনগণের ওপর আস্থা হরিয়ে ফেলেছেন বলেই নির্বাচনে তার বিমুখতা। কাজেই সেই নির্বাচনবিমুখতা থেকে আপনাকে ফিরে আসতে হবে, আপনাকে গণতান্ত্রিক ধারায় আসতে হবে, একাত্তরে পরাজিত মানবতাবিরোধী শক্তি জামাত-শিবিরের সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে, নতুবা আপনাদের সঙ্গে আমাদের কোনও আলোচনা হতে পারে না।

 
ছাত্রলীগের সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, ‘বাঙালি জাতিকে ধর্মান্ধতার মধ্যে দিয়ে নিমজ্জিত করে রাখা হয়েছিল, সেই জাতিকে ছাত্রলীগের মাধ্যমে সুসংগঠিত করার মাধ্যমে এগিয়ে নিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। বাঙালির হাজার বছরের পরাজিত জাতিকে স্বাধীনতার মূলমন্ত্রে নিয়ে যেতে ভুমিকা রেখেছিল ছাত্রলীগ। সেই ছাত্রলীগ মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং দিয়েছিল। একই সঙ্গে ছয় দফা নয়, এক দফা- স্বাধীনতা স্লোগান দিয়ে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল।’

 
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহ্মুদ চৌধুরী বলেন,‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কখোনও লোভ-লালসার রাজনীতি করে না। বঙ্গবন্ধু ১৯৪৮ সালে বাঙালি জাতির, বাঙালি ছাত্রের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এই ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই পথচলায় ছাত্রলীগ কখোনও থেমে থাকেনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধিকার আন্দোলনে ৭২ হাজার ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী রক্ত দিয়ে ইতিহাস লিখে দেশকে স্বাধীন করেছে।’

 
সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশকে নিরক্ষরমুক্ত করার জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগই যথেষ্ঠ। তাই প্রধানমন্ত্রী আমাকে ও সাধারণ সম্পাদককে এ গুরু-দায়িত্ব দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যে আমরা সকল ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলায় স্বাক্ষরতা দান কাজ করবো। আগামী ২০১৭ সাল হবে নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশ।’ এসময় তিনি সকল নেতাকর্মীরকে বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ পড়ার জন্য আহ্বান জানান।

 
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘রাবি ছাত্রলীগের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হলো স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে ক্যাম্পাস ও তার আশপাশ থেকে বিতাড়িত করা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যেও যদি তাদের প্রেতাত্মা থাকলে তাদেরকেও বিতাড়িত করতে হবে।

 
সম্মেলনের প্রধান বক্তা কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ করতে এসে জীবন দিয়েছে, রক্ত দিয়েছে স্বাধীনতাবিরোধী হায়েনাদের হাতে। এসব হায়েনারাই এ ক্যাম্পাস থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে মুছে দিতে চেয়েছিল, তাদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে হবে। তবে সেটা অস্ত্র দিয়ে নয়, মেধা ও আদর্শ দিয়ে।

 
সম্মেলনে রাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক খালিদ হাসান বিপ্লবের সঞ্চালনায় আরও বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এএইচএম খাইরুজ্জামান লিটন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম ঠান্ডু, বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি প্রমুখ।

স/অ