সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আইন ও বিচার বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের স্নাতকোত্তর শ্রেণির প্রকাশিত ফল বাতিল করে পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের কাছে স্মারকলিপি দেন বিভাগটির ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। তারা এ সময় নিরপেক্ষ শিক্ষকের মাধ্যমে ফল পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানান।

প্রকাশিত ফল বাংলা বিভাগের এক শিক্ষক প্রভাবিত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষার্থীরা এ ঘটনার তদন্ত চেয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা বলেছেন, পতিত স্বৈরাচারের মদদপুষ্ট আইন অনুষদের ডিন এবং বিভাগীয় চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক তাপস কুমার দাস, তার আজ্ঞাবহ সহকর্মী সহযোগী অধ্যাপক সুপ্রভাত পাল এবং তার স্ত্রী সহকারী অধ্যাপক বনশ্রী রানীর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে বিভাগে অনুষ্ঠিত সব পরীক্ষায় স্বজনপ্রীতি এবং পছন্দের শিক্ষার্থীদের নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষা ছুটিতে থাকা বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের অনুপস্থিতিতে তারা আইন ও বিচার বিভাগে একটি ‘স্বৈরাচারী সেল’ গঠন করেছিলেন। যেখানে অন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মতামতের গুরুত্ব না দিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হতো।
শিক্ষার্থীদের নানাভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। বিশেষত মাদরাসা ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীদের হেনস্তা করা, অপছন্দের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় নম্বর কমিয়ে দেওয়া, এমনকি গায়ে হাত তোলার মতো ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিলেন তারা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘স্বৈরাচারী তাপস গংয়ের মানসিক নির্যাতন থেকে বাদ যাননি বিভাগের শিক্ষকরাও। তাই স্বৈরাচার হাসিনার পতনের পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে একযোগে এই শিক্ষক মুখোশধারী অমানুষরা তড়িঘড়ি শিক্ষাছুটি নিয়ে বিদেশে পালিয়ে যান।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে সব ব্যাচের শিক্ষার্থীরা একাট্টা হয়ে তাপস কুমার দাসের সময়ে সংঘটিত দুষ্কর্মের সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক বিচার দাবি করেন। সেই সঙ্গে উক্ত সময়ে অনুষ্ঠিত সব পরীক্ষার ফল পুনর্মূল্যায়ন দাবি করেন।’
‘এর প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত কমিটি বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শুনেছেন। এখন পর্যন্ত তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশিত হয়নি।
তদন্তাধীন থাকা সত্ত্বেও ৪৮তম ব্যাচের ফল হুট করে গত ৩ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়। তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের আগে ফল প্রকাশকে আমরা উদ্বেগজনক এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা হিসেবে দেখছি।’
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ৪৮তম ব্যাচের ৪৩ জন শিক্ষার্থী ফল পুনর্মূল্যায়নের পক্ষে উপাচার্য বরাবর বিভাগের মাধ্যমে ই-মেইলযোগে আবেদনপত্র জমা দেন। পরবর্তীতে আমরা জানতে পারি, ৪৮ ব্যাচের ফল প্রকাশ করার জন্য বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোছা. আমিনা খাতুন ওরফে আমিনা মমি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অফিসে নিয়মিত চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছিলেন। জানা গেছে, ওই শিক্ষিকার ভাই আমাদের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এবং বিভাগের আসন্ন শিক্ষক নিয়োগে তার ভাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের চেষ্টায় রয়েছেন, যা স্পষ্টত ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, ‘এই শিক্ষিকার প্রভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা এমনকি কলা অনুষদের ডিন পর্যন্ত আইন বিভাগের ফলাফলের খবরদারির অভিযোগ আমরা শুনতে পেয়েছি।’
এ বিষয়ে আইন ও বিচার বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আমরা চারটা ব্যাচ ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করেছি, সেখানে শুধু মাস্টার্সের রেজাল্ট প্রকাশিত হয়েছে। তাছাড়া আমরা জানতে পেরেছি, বাংলা বিভাগের এক শিক্ষিকা বারবার রেজাল্ট প্রকাশের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। সামনে শিক্ষক নিয়োগ রয়েছে, তার ভাইকে শিক্ষক নিয়োগের চেষ্টায় রয়েছেন। পুরো বিষয়টি উদ্বেগজনক এবং শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা হিসেবে দেখছি আমরা।’
তিনি আরো বলেন, ‘আগামী ৩ দিনের মধ্যে যদি আমরা এই বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না দেখি, তবে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।’









