সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
প্রশ্ন: একজন নিঃসন্তান বিধবা নারীর উপর হজ ফরজ হয়েছে। তার আপন ভাই আছে, কিন্তু তাদের উপর হজ ফরজ নয়। তবে বিধবার ছোট বোন ও তার স্বামী হজের সফরে যাচ্ছে। ওই বিধবা তাদের সঙ্গে হজের জন্য নিয়ত করেছে।
এখন প্রশ্ন হল, ছোট বোন ও তার স্বামীর সঙ্গে বিধবার হজের জন্য যাওয়ার বিষয়ে শরীয়তের বিধান কী?

উত্তর: হজের সফরেও নারীদের জন্য মাহরাম থাকা আবশ্যক। সহিহ মুসলিমে হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ এবং পরকালে বিশ্বাসী কোনো নারীর জন্য তার পিতা, ছেলে, স্বামী বা ভাই অথবা অন্য কোনো মাহরাম ছাড়া তিনদিন (৪৮ মাইল বা ৭৮ কিলোমিটার) বা তার চেয়ে বেশি দূরত্বের কোথাও সফর করা বৈধ নয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৩৪০)
হযরত ইবনে আব্বাস রা. বলেন, আমি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খুতবায় বলতে শুনেছি, .. কোনো নারী যেন মাহরাম ছাড়া কোথাও সফর না করে। তখন এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার স্ত্রী তো (মাহরাম ছাড়াই) হজের উদ্দেশ্যে রওনা করেছে। আর আমি তো অমুক যুদ্ধে যাব বলে নাম লিখিয়েছি। আল্লাহর রাসূল বললেন, যাও, তুমিও তোমার স্ত্রীর সঙ্গে গিয়ে হজ কর। (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৩৪১)
সুতরাং প্রশ্নোক্ত নারীর জন্য তার বোন ও তার স্বামীর সঙ্গে হজে যাওয়া জায়েজ হবে না। মাহরামের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হবে। আর শারীরিক সক্ষমতা থাকা পর্যন্ত যদি মাহরামের ব্যবস্থা না হয় তাহলে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে গেলে কাউকে দিয়ে বদলি হজ করাতে হবে বা বদলি হজের অসিয়ত করে যেতে হবে।
উল্লেখ্য যে, শরীয়তের বিধান অনুযায়ী যেমন নারীদের জন্য হজের সফরে স্বামী বা মাহরাম থাকা জরুরি তেমনি বাস্তবতার আলোকেও হজের কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে আদায়ের জন্য পুরো সফরে নারীর জন্য মাহরামের প্রয়োজন।
তাছাড়া সৌদি সরকারের আইন অনুযায়ী নারীর সাথে মাহরাম থাকা বাধ্যতামূলক। মাহরাম সাথে না থাকলে হজ এজেন্সিগুলো ভুয়া মাহরাম বানিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে থাকে। হজের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত আদায় করতে গিয়ে এমন গর্হিত কাজে লিপ্ত হওয়া কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
সূত্র: যুগান্তর









