রাজশাহী

চারঘাটে মীরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে ক্লাস

নিউজ ডেস্ক১৮ অক্টোবর ২০২৫২ মিনিট পড়া

চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধি:

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার সীমান্তঘেঁষা মীরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম ঝুঁকি নিয়েই চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান। ভবনের ছাদের পলেস্তার খসে পড়েছে, বিম ও পিলারের অংশ ভেঙে বেরিয়ে এসেছে লোহার রড। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ থেকে পানি চুইয়ে শ্রেণিকক্ষ ভিজে যায়। এতে ভিজে যাচ্ছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বই-খাতা, চেয়ার-টেবিলসহ সবকিছু। এ অবস্থায় আতঙ্কে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষকদের অভিযোগ, জীর্ণশীর্ণ ভবনের কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দিন দিন কমে যাচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদের শিক্ষাজীবন। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৮১১ সালে বাঘা উপজেলার মীরগঞ্জ এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় বিদ্যালয়টি। প্রথমে টিনশেড ভবনে ক্লাস চালু হলেও ১৯৯৪ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর চার কক্ষবিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করে। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে আরও দুই কক্ষের এবং ২০০৪ সালে আরও দুই কক্ষের ভবন নির্মিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ের তিনটি ভবনের ছয়টি শ্রেণিকক্ষের মধ্যে পাঁচটিই ঝুঁকিপূর্ণ।

সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ভাঙাচোরা ভবনে ক্লাস করছে। ছাদের পলেস্তার খসে রড বেরিয়ে আছে। পাশের কক্ষের বিমেও ফাটল দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির পানি চুইয়ে শ্যাওলা জমেছে, স্যাঁতসেঁতে হয়ে গেছে পুরো কক্ষ। ছাদ থেকে বইয়ের ওপর ঝুরঝুর করে পড়ছে বালু-সিমেন্টের কণা।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুরে আফিয়া মৌ বলে, “বর্ষাকালে পানি পড়ে, বালু পড়ে, ক্লাস করতে ভয় লাগে। কখন মাথায় কিছু পড়ে যাবে কে জানে।” চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী পল্লব ও আশিক জানায়, ক্লাসে অনেক সময় ওপর থেকে ইটের কণা পড়ে, গত মাসে এক ছাত্রের মাথায় খোয়া লেগেছিল।

সহকারী শিক্ষক আব্দুল্লাহেল বাকী বলেন, “এই ভবনে ক্লাস নিতে ভয় লাগে। শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে থাকে, অনেকেই স্কুলে আসতেও চায় না।”
আরেক সহকারী শিক্ষক নাসির উদ্দিন বলেন, “পড়াশোনার পরিবেশ ভালো থাকলেও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে।”

প্রধান শিক্ষক পারভিন নাহার বলেন, “যে কোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি বহুবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা জরুরি।”

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মীর মামুনুর রহমান জানান, “গত মে মাসে শিক্ষা কমিটির সভায় মীরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ এলে নতুন ভবনের কাজ শুরু হবে।”

বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার বলেন, “সংস্কারের প্রয়োজনীয় স্কুলগুলোর জন্য বরাদ্দ চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া মাত্র কাজ শুরু করা হবে।”