রাজশাহীর খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাল্য বিয়ে থেকে রক্ষা পেল অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী

নিউজ ডেস্ক১৩ জুলাই ২০১৬২ মিনিট পড়া

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের টিকরা গ্রামে এক অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীর বাল্য বিয়ে বন্ধ করেছে সদর থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন। বুধবার দুপুরে মহারাজপুর টিকরা গ্রামের মনিমুল ইসলামের শিশু কন্যা ডোলপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী মোসা. তারমিহিম আক্তার বৈশাখী (১৩) এর বিয়ে অনুষ্ঠান চলাকালে বাল্য বিয়েটি বন্ধ করা হয়।

মহারাজপুর সালিম ডোলপাড়া গ্রামের জালালউদ্দিনের ছেলে হারুনুর রশিদের (২২) এর সাথে মনিমুল ইসলামের শিশু কন্যা ডোলপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী মোসাঃ বৈশাখীর বিয়ে হচ্ছিল। খবর পেয়ে দ্রুত বিয়ে বাড়িয়ে গিয়ে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও পুলিশ বাল্য বিয়েটি বন্ধ করে।

স্থানীয় সুত্র জানায়, অষ্টম শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়ের বিয়ে না দেয়ার জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মনিমুল ইসলামকে বলে। কিন্তু মনিমুল কারো কথায় কান না দিয়ে শিশু কন্যার বিয়ে দিতে প্রস্তুত হয়। অবশেষে খবর পেয়ে পুলিশ ও প্রশাসন বাল্য বিয়েটি বন্ধ করে এবং বিয়ে না দেয়ার শর্তে মুচলেকা লিখে নেয়।

এব্যাপারে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাজহারুল ইসলাম সিল্কসিটি নিউজকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুপুরে মহারাজপুর টিকরা গ্রামে বাল্য বিয়ে হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে থানার এস.আই মো. খাইরুল ইসলাম ও পুলিশের একটি দল বিয়ে বন্ধ করে। এসময় ছেলে পক্ষের লোকজন বিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পরে উভয় পরিবারের অভিভাবকদের মুচলেকা নিয়ে এবং জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া হয়।

অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (চলতি দায়িত্ব) সৈয়দ ইরতিজা আহসান জানান, টিকরা গ্রামে বাল্য বিয়ে হচ্ছে, এমন সংবাদ পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়। এসময় বর ও কনে পক্ষের লোকজন পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে মেয়ে ও ছেলের বাল্য বিয়ে না দেয়ার শর্তে উভয় পরিবারের অভিভাবকের মুচলেকা নেয়া হয় এবং ৫’শ টাকা জরিমানাও করা হয়।

সমাজ থেকে বাল্য বিয়ে বন্ধে সকলের সহযোগিতা কামনাও করেন তিনি ।
স/অ