চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নদী গুলোতে পানি বৃদ্ধি শুরু হয়েছে। সেই সাথে পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে আলাতুলি ও চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি বিলিন হয়ে গেছে।
ভাঙ্গন কবলিত এলাকা সরজমিনে ঘুরে এবং এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের রোডপাড়া গ্রাম এলাকায় গত জুন মাসের শেষ দিক থেকে পদ্মা নদীর ভাঙ্গন শুরু হয়। এ পর্যন্ত ৩০টি কাঁচা পাকা বাড়ির বাসিন্দা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নদীতে বিলিন হয়ে গেছে আম বাগানসহ বহুগাছপালা ও ফসলি জমি। মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন কমপ্লেক্স, একটি মাদ্রাসা, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরও ৪০টি ঘরবাড়িসহ অন্যান্য স্থাপনা, আম বাগান ও ফসলি জমি।

গোয়ালডুবি গ্রাম এলাকায় সদর ও শিবগঞ্জ রক্ষা প্রকল্পের শেষ মাথা থেকে এই ভাঙ্গন শুরু হয়ে ভারতীয় সীমানা বরাবর নাড়–খাটি পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার ব্যাপি ভাঙ্গন চলছে। যেভাবে নদী ভাঙ্গছে তাতে অল্প দিনের মধ্যেই ঝুঁকির মধ্যে থাকা এই ৪০টি বাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিতে হবে বলে গ্রামবাসী জানিয়েছে।

অপর দিকে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন আলাতুলি রক্ষা প্রকল্পের পরবর্তী অংশে তীব্র ভাঙ্গনে অন্তত ৩০টি বাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ৩ ওয়ার্ড সদস্য জামাল উদ্দিন ও আইয়ুব আলীসহ আরও অনেক সিল্কসিটি নিউজকে জানান, বিগত ৯৬ সালে পদ্মা নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়ে বাখের আলী এলাকা থেকে তারা স্থানান্তরিত হয়ে রোডপাড়ায় বসতি গড়ে তোলেন শতাধিক পরিবার। বর্তমানে সেখানে ভাঙ্গনের কবলে পড়ে আবারও তাদেরকে স্থানান্তরিত হতে হচ্ছে।
তারা আরো জানান, গত জুন মাসের শেষ দিক থেকে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির পরেই রোডপাড়া গ্রামে তীব্র ভাঙ্গন দেখা দেয়। ভাঙ্গনে অন্তত ৩০টি বাড়ি নদীতে বিলিন হয়। সেই সাথে আম গাছসহ অন্যান্য গাছপালা ও ফসলি জমি নদী গর্ভে নেমে গেছে। নেমে গেছে বৈদুতিক খুঁটিও।
তারা বলেন, মারাত্মক হুকির মুখে রয়েছে চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন কমপ্লেক্স, একটি মাদ্রাসা, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত ৪০টি ঘরবাড়িসহ অন্যান্য স্থাপনা। মাত্র ১ কি.মি. দূরত্বের মধ্যে রয়েছে পদ্মা নদী। অবলিম্বে জরুরী ভিত্তিতে ভাঙ্গন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে দাবি জানান।
এ দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাহিদুল আলম সিল্কসিটি নিউজকে জানান, বর্তমানে সাড়ে ৬ কি.মি. দৈর্ঘে পদ্মা নদীতে আলাতুলি রক্ষা প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এর পরের অংশে সুলতানগঞ্জ এলাকায় প্রায় ৭৮০ মিটার ব্যাপি এবারের নদী ভাঙ্গনে প্রায় ৩০টি মাটির তৈরী বাড়িঘর নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। চরবাগডাঙ্গার ভাঙ্গনের ব্যাপারে তিনি বলেন, এমন কোন খবর তিনি পাননি।
তবে তিনি জানান, গত বছর গোয়ালডুবি এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দেয়ার পর ৮৬ কোটি টাকার প্রায় সোয়া দুই কিলো মিটার নদী তীর সংরক্ষণের জন্য একটি প্রকল্প ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্য়ন্ত সেটি অনুমোদন হয়নি।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিনের পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙ্গনে সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার কয়েক লাখ পরিবার সর্বস্ব হারিয়েছে। পরবর্তীতে বাঁধ নির্মাণ করে ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা হয়। গতবছর চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের গোয়ালডুবি এলাকায় ব্যাপক ভাঙ্গনে বহু পরিবার ভাঙ্গনের শিকার হয়। আলাতুলি ও চরবাগডাঙ্গার পদ্মা নদীর এই ভাঙ্গন প্রতিরোধে জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
স/অ









