স্বাস্থ্য

ঘুম থেকে উঠে যে পানীয় খেলে নিয়ন্ত্রণে থাকবে কোলেস্টেরল

নিউজ ডেস্ক২৭ জুলাই ২০২৫৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজে ডেস্ক:

সুস্বাস্থ্যের জন্য আমাদের দেহে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা খুবই জরুরি। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে কোলেস্টেরলের সমস্যা বাড়ে। তবে কোলেস্টেরল মাত্রই খারাপ নয়। এর মধ্যেও রয়েছে ভালো-খারাপ রয়েছে।

কোলেস্টেরল মূলত দুই ধরনের। ‘লো ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন’ (এলডিএল) এবং ‘হাই ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন’ (এইচডিএল)। এইচডিএল হলো ভালো কোলেস্টেরল। এই ধরনের কোলেস্টেরল শরীর সুস্থ রাখার জন্য জরুরি।

অন্যদিকে এলডিএলকে বলা হয় খারাপ কোলেস্টেরল। কিছু ঘরোয়া পানীয় নিয়মিত সেবন করলে এই খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমতে পারে। কী সেসব পানীয়, চলুন জেনে নেওয়া যাক— 

গ্রিন টি : গ্রিন টি-তে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, বিশেষ করে ক্যাটেচিন থাকে। এটি খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে এবং ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে।

দিনে ২-৩ কাপ চিনি ছাড়া গ্রিন টি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

লেবু-গরম পানি : সকালে খালি পেটে এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে অর্ধেক বা একটি গোটা লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন। এটি শরীর থেকে টক্সিন দূর করে এবং মেটাবলিজম বা বিপাকহার বাড়ায়। লেবুতে থাকা ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক।

মেথি ভেজানো পানি : এক চামচ মেথি বীজ সারা রাত এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে পান করুন।

এতে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য পাওয়া যায়। মেথিতে থাকা ফাইবার কোলেস্টেরল শোষণ কমাতে সাহায্য করে।আমলকীর রস : আমলকী ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের একটি চমৎকার উৎস। এটি খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। তাজা আমলকীর রস (২০-৩০ মিলি) সামান্য পানির সঙ্গে মিশিয়ে সকালে পান করা যেতে পারে।

আদা-রসুন-লেবুর মিশ্রণ : আদা, রসুন ও লেবু, এই তিনটি উপাদানই কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। এক চামচ আদার রস, এক চামচ রসুনের রস ও এক চামচ লেবুর রস এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে পান করলে উপকার পাওয়া যায়।

ধনে বীজ ভেজানো পানি : দুই চামচ ধনে বীজ এক গ্লাস পানিতে সারা রাত ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি ছেঁকে পান করুন। এতে কোলেস্টেরলের সমস্যা কমবে অনেকটাই। ধনিয়া বীজ হাইপোলিপিডেমিক গুণসম্পন্ন, অর্থাৎ মেদ ঝরাতে সহায়তা করে এই পানীয়।

ওটমিল : ওটসে থাকা বিটা-গ্লুকান নামক দ্রবণীয় ফাইবার কোলেস্টেরল কমাতে খুবই কার্যকর। ওটস পানিতে বা দুধে (কম ফ্যাটযুক্ত) ফুটিয়ে পাতলা পানীয় তৈরি করে খাওয়া যেতে পারে।

টমেটোর রস : টমেটোতে লাইকোপিন নামক একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। বাড়িতে তৈরি তাজা টমেটোর রস (লবণ ও চিনি ছাড়া) পান করা স্বাস্থ্যকর।

তবে মনে রাখতে হবে, এই ঘরোয়া পানীয়গুলো কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। এগুলো কোনোটিই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ না করে অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়।