নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী টেক্সটাইল মিলস’র শতাধিক গাছ নির্বিচারে কেটে ফেলা ও পুকুর ভরাট বন্ধ এবং জেলার বাগমারায় জোর-জবরদস্তি করে পুকুর খননের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
আজ বুধবার রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে দুপুর ১২ টা থেকে ফ্যাসিবাদ বিরোধী সংগঠন জুলাই-৩৬ পরিষদ, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম ও সবুজ সংহতি রাজশাহী মহানগরের উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
জুলাই-৩৬ পরিষদের মূখ্য সংগঠক ফয়সাল আহমেদের সঞ্চালনায় সভপতিত্ব করেন পরিষদের আহ্বায়ক মাহমুদ জামাল কাদেরী। উপদেষ্টা তৌফিক পারভেজ এলাহী, আইনজীবী হোসেন আলী পিয়ারা, জুলাই-৩৬ পরিষদের সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান জুয়েল, পারিবেশ আইন গবেষক মো. শহিদুল ইসলাম, সবুজ সংহতি রাজশাহীর সদস্য সচিব মো. নাজমুল হোসেন রাজু, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান আতিক, ভুক্তভোগী ঈশিতা ইয়াসমিন ও মো. আমজাদ হোসেনসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রাজশাহীতে নির্বিচারে বৃক্ষনিধন ও পুকুর ভরাটের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে কৃষি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খননের মহোৎসব চলছে। গত বছরের নভেম্বরে লিজ নিয়ে রাজশাহী টেক্সটাইল মিলসে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ প্রায় তিন শতাধিক বৃক্ষ নিধন করেছে এবং টেক্সটাইল মিলের ভেতরে অবস্থিত পুকুর ভরাট করেছে। যদিও গত ২৮ জানুয়ারি এক রিটের চূড়ান্ত শুনানিতে উচ্চ আদালত গাছ কাটার ক্ষেত্রে অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করেছেন। কিন্তু প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ হাইকোর্টের আদেশকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন করেছেন। কিন্তু সেখানের গাছগুলো রক্ষায় প্রশাসনের কোন উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
অন্যদিকে, রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় কৃষি জমিতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে পুকুর খনন চলছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের খোর্দ্দকৌর মৌজার নিমাই বিল। সেখানে কৃষি জমিতে রাতের অন্ধকারে পুকুর কাটছে স্থনীয় ভূমিদস্যুরা। তারা রীতিমতো ওই এলাকার বহু মানুষের জমি জোরপূর্বক দখল করেছে। কৃষকের ধান খেত নষ্ট করেছে। এক/দেড় মাসের মধ্যেই ফসল ঘরে তুলতে পারতো কৃষকেরা অথচ, তাদের জমি জোরপূর্বক দখলে নিয়ে রাতের আধাঁরে জমিতে স্কেভেটর মেশিন নামিয়ে সেই ধানক্ষেত নষ্ট করেছে। ভূমিদস্যুরা, খর্দ্দপুর মৌজার জেএল নং-৭২; খতিয়ান নং- ৫৭; দাগ নং- ৭৬,৭৭,২৪১,৩৩২,৩৬৫ এবং খতিয়ান নং- ৩০১; দাগ নং- ৭৮,৭৯,৩৩০,৬১৬,৬৭৯,১৮৩,২২৪ দাগের জমি জোরপূর্বক দখল ও ধানক্ষেত নষ্ট করেছে। প্রতিবাদ করায় তারা জমির মালিকদের প্রাণনাশের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এমনকি তাদের ফসলের সেচের পানি বন্ধ করে দেন। থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে থানার ওসি উল্টো ফ্যাসিস্টদের সহযোগী তকমা লাগিয়ে ভুক্তভোগী এক নারীকে গ্রেফতারের ভয় দেখান এবং তাদের দায়ের করা মামলা নিতে আপত্তি জানান। সেখানকার কৃষি জমির মালিকরা নিজ বাড়ি ছেড়ে গ্রাম ছাড়া ও আতংকিত।
স.আর









