সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
বিশাল গাছটি দাঁড়িয়ে নবনির্মিত সেতু ঘেঁষে। এর শক্তিশালী শিকড় ধরে রেখেছে সড়ক ও সেতুর নিচের মাটি।
হঠাৎ গাছটি কাটতে শুরু করেন জনৈক ব্যবসায়ী। তবে শেষ মুহূর্তে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর হস্তক্ষেপে রক্ষা পেয়েছে গাছটি। সেই সঙ্গে আপাতত ঝুঁকিমুক্ত হয়েছে নবনির্মিত একটি সেতু ও সড়ক।
ঘটনাটি ময়মনসিংহের নান্দাইল-তাড়াইল সড়কের যুগের হাওর নামক স্থানের।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন না করেই গুরুত্বপূর্ণ এই গাছটি কাটার নির্দেশ দেয় বনবিভাগ। বিশাল গাছটি কাটা শুরু হয়েছিল ওপরের ডালপালা দিয়ে। একপর্যায়ে ময়মনসিংহ ৯ (নান্দাইল) আসনের সংসদ সদস্য এবং তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর বাধায় বিশাল রেইন্ট্রি গাছটি শুধু রক্ষা পেয়েছে তা-ই নয়, ক্ষতিপূরণ হিসেবে গাছটির আশপাশে রোপণ করা হয়েছে আরো ছয়টি অর্জুন গাছের চারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরজমিন না গিয়েই টেন্ডারের মাধ্যমে বিশাল রেইন্ট্রি গাছটি কাটার নির্দেশ দেয় নান্দাইল বনবিভাগ।
মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৩৩ হাজার ২০০ টাকা, যা গাছটির প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অনেক কম।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বনবিভাগের কর্মকর্তারা একবারের জন্যও যুগের হাওর এলাকায় এসে গাছটির অবস্থান দেখলে এটি কাটার অনুমতি দিতে পারতেন না। কর্মকর্তাদের এমন সিদ্ধান্তের কারণে গত তিন দিন ধরে জনৈক ব্যবসায়ী আল আমীন গাছটির ওপরের অংশ কেটে প্রায় সাবাড় করে ফেলেন। গাছটি কেটে ফেলা হলে ঝুঁকিতে পড়তো কোটি টাকার সরকারি অবকাঠামো।
স্থানীয়রা জানায়, নান্দাইল-তাড়াইল সড়কের যুগের হাওর এলাকায় নবনির্মিত একটি সেতুর দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে রয়েছে গাছটি।
এর বিশাল ও শক্তিশালী শিকড় পুরো সড়ক এবং সেতুর নিচের মাটি শক্ত করে ধরে রেখেছে। ছয় মাস আগে সেতুটি সম্প্রসারণ করা হলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান গাছটির গুরুত্ব বুঝতে পেরে এটি না কেটেই বিকল্প উপায়ে সেতুর কাজ শেষ করে।
স্থানীয়রা আরো জানায়, গাছটি কাটা হলে বর্ষায় বা পানির স্রোতে মাটি সরে গিয়ে পুরো সেতুটি ধসে পড়ার ঝুঁকি ছিল। এছাড়া ঝুঁকি ছিল আঞ্চলিক সড়কটি ভেঙে যাওয়ারও। বনবিভাগ বিষয়টি এড়িয়ে গাছ কাটার টেন্ডার দেয়।
আজ শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে এ প্রতিবেদক ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় গাছ কাটার দৃশ্যটি দেখতে পান। পরে এ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করলে টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। তার মাধ্যমে বিষয়টি তাৎক্ষণিক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর নজরে এলে তিনি ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক ও বনবিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় গাছ কাটা বন্ধের নির্দেশ দেন তিনি।
এদিকে, প্রতিমন্ত্রীর কড়া বার্তার পর নান্দাইল বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা হাদিউল ইসলাম দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং গাছ কাটার কাজ স্থায়ীভাবে বন্ধ করেন। একইসঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবেশ ও মাটির ভারসাম্য রক্ষায় সেখানে তাৎক্ষণিক ছয়টি অর্জুন গাছের চারা রোপণ করা হয়।
এ ব্যাপারে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘নিয়মমাফিক সবকিছু বিবেচনা করলে গাছটি কাটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি শুধু পাখির আবাসস্থল বা পরিবেশের বিষয় নয়, এটি সড়ক ও সেতু রক্ষার রক্ষাকবচ হিসেবেও কাজ করছিল।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ের প্রকৃত চিত্র না দেখে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া মোটেও ঠিক হয়নি। তাই খবর পাওয়ামাত্রই আমি এটি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি এবং পাশে আরো গাছ লাগাতে বলেছি।









