রাজশাহী

গাইনী চিকিৎসক ফাতেমা ভুল অপারেশনে রোগীর ক্ষতি করলেন ১০ লাখ টাকা

নিউজ ডেস্ক২৮ ডিসেম্বর ২০১৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মাদারল্যান্ড হাসপাতালের স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. ফাতেমা সিদ্দিকার বিরুদ্ধে এক রোগীর ভুল অপারেশন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নাটোর সদরের উত্তর বড়গাছা গ্রামের মর্জিনা বেগম (৪০) নামে এক রোগীর জরায়ু অপারেশনের সময় ৩ মিলিমিটার (দেড় ইঞ্চি) মূত্রনালী ফেলে দিয়েছেন।

 

এর ফলে ভারতে গিয়ে নতুন করে অপারেশন করাতে ওই রোগীর পেছনে সবমিলিয়ে ব্যয় হয়েছে ১০ লাখ টাকা। অতিরিক্ত এটা টাকার ক্ষতি ছাড়াও মানসিক ও শারীরিকভাবেও রোগীর ব্যাপক ক্ষতি করেছেন ডাক্তার ফাতেমা সিদ্দিকা-এমমটিই অভিযোগ করেছেন ওই রোগীর স্বামী।

 

এছাড়াও অপরেশন পরবর্তী চিকিৎসারও অবহেলা করেন চিকিৎসক ফাতেমা সিদ্দিকা। বুধবার বিকেল ৩টার দিকে রাজশাহী প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলেন ভুক্তভোগী রোগীর স্বামী মখলেছুর রহমান।

 
লিখিত বক্তব্যে মখলেছুর রহমান বলেন, আমার স্ত্রী মর্জিনা বেগম (৪০) স্থায়ী ঠিকানা- দস্তানাবাদ, নাটোর, বর্তমান ঠিকানা- উত্তর বড়গাছা, নাটোর সদর। তলপেটে ব্যাথার জন্য ২০১৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বরে মাদারল্যান্ড হাসপাতালে স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. ফাতেমা সিদ্দিকার নিকট চিকিৎসার জন্য যান।

 

সে সময় কিছু ওষুধপত্র দেওয়া হয় তাকে। কিন্তু অবস্থার কোন উন্নতি না হওয়ায় পুনরায় চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল চিকিৎসার জন্য আসেন ওই নারী। এরপর তিনি তার মাদারল্যান্ড হাসপাতালে পরীক্ষা শেষে জরায়ু অপারেশন করান। হাসপাতাল ত্যাগের পর বাড়িতে আসলে প্রসাবের রাস্তা দিয়ে অনবরত পানি বের হতে থাকে। এতে রোগী মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন।

 

এ সময় ডা. ফাতেমা সিদ্দিকার সাথে দেখা করা হলে তিনি জানান, অপারেশন পরবর্তী ১০/১২দিন পানি বের হয় বলে জানান। তবে ১৪-১৫ দিনের মধ্যে ভাল না হলে ইনফেকশন হতে পারে বলেও জানানো হয় রোগীকে।

 

এরপর ১৯ দিনেও কোন উন্নতি না হওয়ায় ডাক্তারকে জানালে গত ৮ জুন তিনি রোগীকে নিয়ে আসতে বলেন। কিন্তু ডাক্তারের রোগীর ভিড় থাকায় রোগীকে পরীক্ষা/ড্রেসিং না করে সময় নাই বলে আগের প্রেসক্রিপশনেই ১টা ওষুধ লিখে ১ মাস পর আসতে বলেন।

 

এর ১০দিন ওই ওষুধ খাওযার পরও প্রসাব বের হওয়া বন্ধ হয় না। বরং পুজ পটড়তে শুরু হয়। এতে রোগীর অবস্থার অবনতি হওয়ায় গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. সালমা আক্তারের কাছে গেলে তিনি পরীক্ষা শেষে ড্রেসিং করে দেড় ইঞ্চির সমান ১টা চিকন লম্বা মাংষ পিন্ড প্রায় পঁচা অবস্থায় ও পূঁজ বের করেন এবং কিছু ওষুধ দেন।

 

পরে আরো কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছে চিকিৎসা নিয়ে অবস্থার উন্নতি হলেও প্রসাব বের হওয়া বন্ধ হচ্ছিলো না। শেষে ২৩ অক্টোবর ভারতের চেন্নাই-তে এ্যাপোলে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেটি স্ক্যানে ধরা পড়ে বাম পার্শ্বের মূত্রনালী কেটে ফেলা হয়েছে।

 

পরে ২৮ অক্টোবর ল্যাপরোস্কপিক অপারেশনের মাধ্যমে মূত্রনালী রিপ্লান্ট করে ওই রোগীর অপারেশন সম্পন্ন করেন ভারতীয় চিকিৎসকরা। এরপর গত ২০ ডিসেম্বর রিপ্লান্ট করা মূত্রনালীর রিং খোলা হয়।

 

এতে সবমিলিয়ে ওই ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতিসহ ওই রোগীর ওপর এক ধরণের শারিরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।

 

লিখিত বক্তব্যে মখলেছুর রহমান বলেন, আমি এজন্য দ্বায়ী চিকিৎসক ডা. ফাতেমা সিদ্দিকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এবং আমার স্ত্রীর ওপর চালানো শারিরিক-মানসিক নির্যাতনের প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।

স/আর