চারঘাট প্রতিনিধি:
রাজশাহীর চারঘাটে সরকারী খাস জমি খল করে স্কুলের সীমানা প্রাচীর দেয়াকে কেন্দ্র করে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাজারের ব্যবসায়ীসহ এলাকাবাসীর মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
যে কোন সময় স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাজারের ব্যবসায়ীসহ এলাকাবাসীর সঙ্গে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের সংঘর্ষ।

সোমবার সকালে সরজমিনে উপজেলার ভায়ালক্ষীপুর ইউনিয়নের পুঠিমারী সরকারী প্রাথমিক ব্যিালয় এবং বাজার ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায় এমন তথ্য। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দাবি সেখানে যে প্রাচীর হচ্ছে সেটা কি খাস জমিতে হচ্ছে কি না তা তিনি দেখবেন বলে জানান।
জানা যায়, র্দীঘ দিন ধরে পুঠিমারী রাস্তার পাশে এবং পুঠিমারী সরকারী প্রাথমিক ব্যিালয়ের খেলার মাঠের শেষ প্রান্তে সাপ্তাহিক হাট বসে আসছে। যা সরকারী খাস জমি বলে দাবি করেন বাজারের ব্যবসায়ীসহ এলাকাবাসী।
হঠাৎ করে গত কয়েক দিন ধরে সেই খাস জমিতে হাট বসার জায়গায় ব্যিালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ শুরু করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে বাজার ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরোধ সৃষ্টি হয়। বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যালয় প্রাচীর নির্মানের কাজ। স্কুলের জন্য জমি দানকারি অন্যতম দাতা মৃত সিরাজউদ্দীন এর ছেলে তরিকুল ইসলাম বলেন রাস্তাটি আগে স্কুলের মাঝখান দিয়েছিল। স্কুলের ছেলে মেয়েরে খেলাধুলার জন্য পরবর্তীতে স্কুলের পশ্চিম দিক দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয়। তাই বলে এখন প্রাচীর কেন দিচ্ছে, তার প্রশ্ন?
ব্যবসায়ীসহ এলাকাবাসীর দাবি হাট চালির জন্য খাস জমি রেখে ব্যিালয়ের জমির উপর নির্মাণ করা হোক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর। সেটা না করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জোর করে সরকারী খাস জমির উপর সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছেন। তবে হাট ইজারদার আব্দুল্লাহ বলেন ব্যবসায়ীরা হাটবার ঠিকমতো না বসার কারণে খাঁজনা না পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন বলে জানান।
চা বিক্রেতা বজলুর রহমান বলেন, এখানে সাপ্তাহিক হাট বসে। সরকার এখান করা রাজস্ব পায়। কার স্বার্থরক্ষার বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সরকারী খাস জমির উপর প্রাচীর নির্মাণ করছে। আমরা চাই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁরে জমির উপর প্রাচীর নির্মাণ করুক। আর জনগনের দাবি উপেক্ষা করে জোর করে ব্যিালয় কর্তৃপক্ষ প্রাচীর নির্মান করলে আমরা ব্যবসায়ীরা পরিবারের সন্তান সন্ততি নিয়ে একে বারে পথে বসে যাব।
মনির হোসেন নামের এক সবজি বিক্রেতা দাবি করে বলেন, ব্যিালয়ের জমি রয়েছে ১.৩৫ একর। পাশাপাপাশি সেখানে সরকারী খাস জমি রয়েছে ১.৩৫ একর। আমরা গত ৩০ বছর ধরে আমরা জেনে আসছি পুঠিমারী সাপ্তাহিক হাট যেখানে বসছে, খেলার মাঠ সংলগ্ন সরকারী খাস জমিতে। এখন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জায়গাটি বিদ্যালয়ের দাবি করে তারা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছেন। আমরা জীবন দিয়ে হলেও এই অবৈধ সীমানা প্রাচীর কোন ভাবেই করতে দিতে পারি না। আমরা ব্যবসা করে পেট চালায়।
এ দিকে এলাকাবাসীর দাবি, যেখান দিয়ে প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে, সেটি সরকারী খাস জমি বা হাটের জায়গা না হলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রাচীর দিক তাতে আমারে কোন সমস্যা নেয়। তবে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর কথা বিবেচনা করে সরকারী সার্ভেয়ার নিয়োগ করে প্রকৃত পক্ষে ব্যিালয়ের জমিতে প্রাচীর নির্মানের ব্যবস্থা করার যাবতীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি এলাকাবাসীর।
এ বিষয় সম্পর্কে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছাপিয়া খাতুন বলেন, সম্পুর্ণ বিদ্যালয়ের জমিতেই সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। এখানে হাটের বা সরকারী খাস জমির উপর প্রাচীর নির্মান করা হচ্ছে না। প্রকৃত পক্ষে স্কুলের পুরাতন ভবন রয়েছে সরকারী খাস জমিতে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান সেখানে যে প্রাচীর হচ্ছে সেটা কি খাস জমিতে হচ্ছে, হলে বিষয়টি তিনি দেখছেন বলে জানান।









