রাজশাহী

কারাগারে মোবাইল ফোন নেওয়ার চেষ্টা: ডিভিশন বাতিল সাবেক এমপি কালাম

নিউজ ডেস্ক৩০ জুলাই ২০২৫৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে গোপনে মোবাইল ফোন নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ডিভিশন বাতিল করা হয়েছে সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদের। তিনি রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সাবেক এমপি। বর্তমানে তিনি রাজশাহী কারাগরে অবস্থান করছেন। মামলায় হাজির করতে দিনাজপুর কারাগার থেকে তাঁকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। গ্রেপ্তারের পর তিনি এ কারগারেই ছিলেন। তবে কারা অপরাধের কারণে তাঁর ডিভিশন বাতিল করে তাঁকে দিনাজপুর কারাগারে পাঠানো হয় সাবেক এ সংসদ সদস্যকে। সেখানে তিনি সাধারণ কয়েদিদের কক্ষে তাঁদের সঙ্গে থাকেন। তবে বর্তমানে মামলায় হাজির করতে রাজশাহীতে আনা হয়েছে তাঁকে।

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র মতে, সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ তাঁর এক বোনের মাধ্যমে প্রায় দুই মাস আগে একটি মোবাইল ফোন কাগারের ভিতরে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। বোন জুলেখার খাতুনের মাধ্যমে গত ৮ মে তিনি একটি এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন কারাগারে ঢুকানোর চেষ্টা করেন। ওই ফোন নিয়ে জুলেখা খাতুন সাবেক এমপি এনামুলের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তাঁকে দেওয়ার সময় সেটি জব্দ করেন কারারক্ষীরা। এ ঘটনার পরের দিনই উর্দ্ধতন কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গত ৯ জুন তাঁকে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে দিনাজপুর কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর গত ১৮ মে সাবেক এমপি হিসেবে প্রাপ্ত আবুল কালাম আজাদের ডিভিশনও বাতিল করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের জেষ্ঠ্য জেল সুপার শাহ আলম খান বলেন, ‘কারাগারে মোবাইল ফোন ঢুকানোর চেষ্টার অপরাধে সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদের ডিভিশন বাতিল করে তাঁকে সাধারণ কয়েদিদের কক্ষে রাখা হচ্ছে। বর্তমানে তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারেই আছেন। দিনাজপুর থেকে তাঁকে মামলায় রাজশাহীর আদালতে হাজির করতে আনা হয়েছে। হাজিরা শেষে আবারও দিনাজপুরে পাঠানো হবে। সেখানেও তিনি সাধারণ কয়েদিদের কক্ষেই থাকেন।’

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এমপি কালামের বোন স্বীকার করেছিলেন সাবেক এমপির পরিকল্পনায় তিনি তাঁর ভাইকে গোপনে মোবাইল ফোন দিতে এসেছিলেন। এ কারণে সাবেক এমপি কালামের ডিভিশন বাতিল করা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রথম তিনি এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার আগে তিনি বাগমারার তাহেরপুর পৌর সভার মেয়র ছিলেন। মেয়র পদ থেকে পদ্যতাগ করে এমপি হয়েছিলেন। এর পর বিনা ভোটে নিজের স্ত্রী সায়লা পারভীনকেও মেয়র পদে বসিয়েছিলেন।

কালামের ভয়ে দুজন মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেও পরে প্রত্যাহার করে নেয়ায় স্ত্রী সায়লা বিনা ভোটে মেয়র হয়েছিলেন। এমপি হয়ে আবুল কালাম আজাদ মাত্র ৭ মাসেই বাগমারা ও দুর্গাপুরে অন্তত ৫০টি পুকুর খনন করেন। এর পর তার নাম ভেকু কালাম হিসেবেও পরিচিত পায়। এর বাইরেও তিনি বিভিন্ন সময়ে নানা কাণ্ডে ছিলেন বিতর্কিত। এমনকি গত সংসদ নির্বাচনের সময়ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কালামের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলো নির্বাচন কমিশন।

স.আর