অর্থ ও বাণিজ্য

কাঁচামাল আমদানিতে মূল্য প্রত্যাহারের সুপারিশ

নিউজ ডেস্ক২৫ মে ২০১৯৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

শিল্পের উৎপাদন ব্যয় কমাতে আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ১১৭টি অন্তর্বর্তী কাঁচামালের ন্যূনতম মূল্য প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন। এসব অন্তর্বর্তী কাঁচামালের ওপর ন্যূনতম মূল্য ও সম্পূরক শুল্ক থাকায় শিল্পের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, যা শিল্প সম্প্রসারণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করে সংস্থাটি।

গত ১৩ মে ট্যারিফ কমিশন আমদানি পণ্যের ন্যূনতম মূল্য সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত গবেষণা প্রতিবেদন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) পাঠিয়েছে। এতে ন্যূনতম মূল্য আরোপের ফলে শিল্প খাতে এর প্রভাব বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

একই সঙ্গে ১১৭টি অন্তর্বর্তী কাঁচামালের তালিকা দিয়ে সেগুলোকে ন্যূনতম মূল্য সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন থেকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করেছে। জানা গেছে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০০০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ শুল্কায়নের বিভিন্ন পদ্ধতি উল্লেখ করে বিধিমালা জারি করে। এখনও সে অনুসারে কাস্টমস ভ্যালুয়েশন (পণ্যের শুল্কায়ন) করা হয়।

এর আগে আমদানি পণ্যের ন্যূনতম মূল্য ধার্য করে সে অনুযায়ী শুল্কায়ন করা হতো। পরে ডব্লিউটিওর রুলস অনুযায়ী এ পদ্ধতিটি বিলুপ্ত করে এনবিআর।

এরপর ২০১২ সালে প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন (পিএসআই) প্রথা বিলুপ্তের পর এনবিআর কিছু আমদানি পণ্যের ন্যূনতম মূল্য ধার্য করে। এরপর আন্ডার ইনভয়েসিং বন্ধে ২০১৬ সালে আমদানি পণ্যের ওপর ন্যূনতম মূল্য আরোপ করে। এ নিয়ে এনবিআরকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।

চলতি বছরের ৩ ও ৫ এপ্রিল বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় সদস্য রাষ্ট্রগুলো ন্যূনতম মূল্য ইস্যুতে আপত্তিও জানায়। এ পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়, রাজস্ব ক্ষতি এড়ানোর জন্য আমদানি পণ্যের ন্যূনতম মূল্য আরোপ করা হয়েছে, এ ব্যবস্থাটি সাময়িক। প্রসঙ্গত, আমদানি পণ্যের ন্যূনতম নির্ধারণ ডব্লিউটিওর রুলসের পরিপন্থী।

বর্তমানে ১ হাজার ৭৬৬টি পণ্যের ওপর ১০ থেকে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত সম্পূরক শুল্ক এবং ৫৭৪টি পণ্যে ন্যূনতম মূল্য আরোপিত আছে। ৫৭৪টি পণ্যের মধ্যে ৩২৯টি পণ্য আছে, যেগুলোতে সম্পূরক শুল্কের পাশাপাশি ন্যূনতম আমদানি মূল্য নির্ধারণ করা আছে।

এ কারণে যেসব পণ্যের ওপর একই সঙ্গে ন্যূনতম আমদানি মূল্য এবং সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা আছে, সেসব পণ্যের আমদানি ব্যয় অনেক বেশি পড়ছে। এর মধ্যে শিল্পের ব্যবহৃত অন্তর্বর্তী কাঁচামালও আছে। এতে শিল্পোৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ট্যারিফ কমিশনের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজস্ব সুরক্ষা দিতে আমদানি পণ্যের ওপর ন্যূনতম মূল্য আরোপ করা হলেও তা রাজস্ব আদায়ের ওপর তেমন কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি।

৩২৯টি পণ্যের ২০১৫-১৬, ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ অর্থবছরের রাজস্ব আয় বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আমদানি শুল্ক ও সম্পূরক শুল্ক আদায় খুব বাড়েনি। ২০১৫-১৬-তে ৬ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা, ২০১৬-১৭-তে ৬ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা এবং ২০১৭-১৮-তে ৬ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকার শুল্ক আদায় হয়। পক্ষান্তরে সম্পূরক শুল্ক আদায় হয় যথাক্রমে ৬ হাজার ৮৯৫ কোটি, ৭ হাজার ২০৪ কোটি এবং ৮ হাজার ১০৩ কোটি টাকা। আমদানি বাড়ার কারণে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সামগ্রিকভাবে শুল্ক আদায় বেড়েছে।

এ কারণে আমদানি পণ্যের ন্যূনতম মূল্য ধীরে ধীরে প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ৩২৯টি পণ্য পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এর মধ্যে ১১৭টি পণ্য রয়েছে বিভিন্ন শিল্পের অন্তর্বর্তীকালীন কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আবার কিছু পণ্য সরাসরি বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এগুলোর ওপর একই সঙ্গে ন্যূনতম মূল্য ও সম্পূরক শুল্ক আরোপিত থাকার কারণে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা ওইসব শিল্পের বিকাশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

এসব কারণে প্রাথমিকভাবে আগামী বাজেটে ১১৭টি পণ্যের ওপর আরোপির ন্যূনতম আমদানি মূল্য প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ন্যূনতম আমদানি মূল্য রাজস্ব ক্ষতি এড়ানোর জন্য প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। শিল্পের সুরক্ষার জন্য এটি ব্যবহার করা হয় না। তাই শিল্পের সুরক্ষার জন্য কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান যদি ন্যূনতম আমদানি মূল্য প্রয়োগে অনুরোধ করে থাকে, তা বিবেচনা করা যুক্তিসঙ্গত নয় বলে মনে করে ট্যারিফ কমিশন।