তারেক মাহমুদ:
রাজশাহীতে এ সপ্তাহে মাছ এবং শাকসবজির দাম কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে মুদি সামগ্রী এবং মাংসের দাম। তবে হঠাৎ করেই সবজির বেশি আমদানি ও বাজারে ক্রেতা সংখ্যা কম থাকায় দ্রব্যমূলের দাম অনেকটাই কম বলেন বিক্রেতারা। শুক্রবার সকালে রাজশাহীর বিভিন্ন সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায় এসব চিত্র।
নগরীর সাহেব বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে সবজির দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় সবজির মূল্য কমেছে কেজি প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা, গত সপ্তাহে বেগুনের মুলা ছিল, প্রতি কেজি ৭০ টাকা এ সপ্তাহে তা কমে দাড়িয়েছে ৫০ টাকায়। মূলা ছিলো ২৫ টাকা যা এ সপ্তাহে কমে দাড়িয়েছে ১০ টাকা।
নগরীর সাহবে বাজারের সবজি বিক্রেতা নাজমুল আলম বাবু সিল্কসিটিনিউজকে জানান, গত সপ্তাহের থেকে সবজির দাম অনেক কমেছে। প্রায় সব সবজি প্রায় ১০ থেকে ১৫ টাকা কমেছে, করলা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, কচুর লতি ৩৫ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, আলু ২০ টাকা, শশা ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২৫ টাকা, পটল ২৫ টাকা এবং মুলা ৮ থেকে ১০ টাকা, বরবটি প্রতি কেজি ৩৫ টাকা, পেঁপে ১৫ টাকা, কুরিকচু ৩০ টাকা, ডুমোর ৩০ টাকা, কাঁচা কলা প্রতি হালি ২৫ টাকা, লেবু প্রতি হালি ৮ থেকে ১০ টাকা, ঝিঙ্গা ৩৫ টাকা, এবং লাউ প্রতি পিস ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, পানিফল জলপাই বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায় । মুদি বাজারে দূব্য সামগ্রী স্থিতিশীল রয়েছে তবে তেলের দাম একটু বৃদ্ধি পেয়েছে ।
সাহেব বাজারে সবজি ক্রেতা আশরাফুল নাজনিন জানান, গত সপ্তাহে তুলনায় এ সপ্তাহে সবজির দাম কিছু কম মনে হচ্ছে। তাই কচুর লতি,পালং শাক, বরবটিসহ আরো কিছু কিনে নিলাম। আর পরিবারের লোকজনের প্রিয় কাচা কলা এগুলো তিন হালির মত কিনে নিলাম। সব মিলে আমার মনে হচ্ছে দাম কমেছে। আর একটু দাম কমলে খেটে খাওয়া মানুষদের ভালো হতো।
বাজারের মুদি ব্যবসায়ী লেবু জানিয়েছেন, তেল বাদে সকল দ্রব্য সামগ্রীর দাম স্বাভাবিক রয়েছে । তবে তেলের দাম একটু কমতে পরে।
এদিকে, প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৩৫ টাকা, ও ভারতীয় পেঁয়াজ ২৩ টাকা, রসুন ১৮০ টাকা, আদা ৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০ খেকে ১০০ টাকা। এছাড়া শুকনা মরিচ প্রতি ১০০গ্রাম ২৪ টাকা ,হলুদ ১৮ টাকা, জিরা ৪০ টাকা, ধনিয়া ১৮ দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে সরবারহ ভালো থাকায় শাকের বাজারে প্রত্যেক শাকের দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে।
বর্তমানে প্রতি কেজি লাল শাক ১৫ টাকা যা গত সপ্তাহে ছিলো ২৫ টাকা কলমি শাক ১৮ টাকা, লাউ শাক ২০ টাকা, ডাটা শাক ১৫ টাকা, কচু শাক ১২ টাকা, সবুজ শাক ১৫ টাকা এবং পুই শাক ১৫ থেকে টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এবং পালং শাক ২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে যা গত সপ্তাহে ছিলো ৪০ টাকা। এদিকে মাছের বাজারে এ সপ্তাহেও ইলিশের বিক্রি বন্ধ থাকায় মাছের বাজারে ক্রেতার আনাগোনা একটু কম । আমদানী আগের চেয়ে একটু বেশি হচ্ছে বলে জানান মৎস ব্যবসায়ীরা।
তাদের মতে মাছের দাম কম থাকলেও ক্রেতাদের আনাগোনা কম। নগরীর সাহেব বাজারে মাছ কিনতে আসা ক্রেতা প্রকৌশলী বেলাল হোসেন বলেন, গত সপ্তাহের থেকে এ সপ্তাহে মাছের দাম আমার কাছে স্বাভাবিক মনে হয়েছে। তবে নদীর ছোট ও দেশি জাতের ছোট মাছের দাম গত সপ্তাহের মতই আছে। তবে আজকে বড় মাছের দাম কম থাকায় একটু বেশি করে কিনে নিচ্ছি।
বেলাল হোসেনের সাথে মাছ কিনতে এসেছে তার ছোট মেয়ে তুলি বলেন, আমি চিংড়ি খেতে ভালোবাসি তাই আব্বু আর আমি চিংড়ি কিনেছি ।
মাছ বিক্রতা আইনুল বলেন, এ সপ্তাহেও মাওেছর দাম অনেকটা কম আমদানি বেশি এবং ক্রেতার সংখ্যা কম ও বাজারে বড় মাছের আমদানি বেশি। এবং এ সময় বড় মাছ বেশি থাকে ফলে নদীর মাছের দাম কমেছে। আর আমদানি বেশি থাকায় ক্রেতা কম থাকায় মাছের দামও কম। বড় মাছ গুলো কেজি প্রতি কমেছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা।
বাজারে বর্তমানে কাতল মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৫০টাকা, চিতল ৪০০, রুই ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, সিলভার কার্প ৯০ থেকে ১০০ টাকা,পাঙ্গাস ৮০ থেকে বাটা ১১০ টাকা, টেংরা ৫০০ টাকা, দেশি কৈ মাছ ৫০০ও হাইব্রিট কই ১৫০ টাকা, শোল মাছ ৪৫০ টাকা, মৃক্রা ২৫০ টাকা, গ্রাস কার্প ১৫০ টাকা এবং মিরর কার্প ১৬০ টাকা তেলাপিয়া ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পুকুর ও দিঘি মাছ স্বাভাবিক থাকলেও নদী ও দেশি প্রজাতির মাছের দাম গত সপ্তাহের মতই আছে ।
নদীর বড় চিংড়ি ৬০০ টাকা ও ছোট চিংড়ি ৩২০টাকা, পিউলি মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৪০ টাকায়। চাঁদামাছ ১২০ টাকা, কাঁকলে ২০০ টাকা, কাটাপাতাসি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ঢেড়ে মাছ ৫০০টাকা, পাবদা ৫০০টাকা, বোয়াল ৫০ টাকা, বাছা মাছ ৬০০ এবং রিঠা ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও পুটি মাছ ১৪০খেকে ১৫০ টাকা, মায়া মাছ ২৫০ টাকা, শিং মাছ ৪০০ টাকা, গুচি মাছ ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে এ সপ্তাহে কমেছে, পদ্মার ও বরিশালের বড় আকারের ইলিশ মাছ প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা।
সাহেববাজারে মাছ কিনতে আসা মোতালেব বলেন, মাছের বাজার আগের সপ্তাহের মতই আছে তবে দেশি মাছ দাম একটু বেশি আমার পরিবারে সবাই দেশি প্রজাতির মাছ ভালোবাসে তাই আমায় দেশি মাছ হয় । এদিকে হটাৎ করেই দাম কমেছে মুরগির বাজারে ।
মুরগি ব্যবসায়ী সবুর আলী সিল্কসিটি নিউজকে জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে মুরগির দাম কমেছে, কেজি প্রতি ১২ থেকে ১৫ টাকা । তাই সাদা কক বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৭০ টাকা, ব্রয়লার ১২৫ টাকা, দেশি মুরগি ৩০০, সোনালি মুরগি ১৮০ টাকা, লেয়ার মুরগি ১৭০ এবং হাঁস ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে বর্তমানে গরু ও খাসির মাংসের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৪২০ টাকায়। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে।
মেছের বাজার করতে আসা ক্রেতা রবি জানান, আমাকে প্রত্যেক সপ্তাহে বাজার করতে হয়। আজ কেজি ব্রয়লার কিনেছি দাম গত সপ্তাহের চেয়ে এবার একটু কম।
এদিকে তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক রয়েছে ডালের দাম। ডাল ব্যাবসায়ী সাখাওয়াত বলেন, এ সপ্তাহে ডালের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি মসুর ডাল ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা, কলাই ডাল ৮৫থেকে ১২০ টাকা, ছোলা ডাল ১২৫ টাকা, খেসারি ডাল ৭৮ থেকে ৬৫ টাকা, মটর ডাল ১৩০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি চিনি ৭০ টাকা, লবন ৪০ টাকা, ময়দা ২৪ টাকা, পোলাও চাল ১১০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
স/আ









