রাজশাহী

কমিটি নেই, ঘরোয়া আড্ডায় চলছে সাংগঠনিক কাজ

নিউজ ডেস্ক২৬ অক্টোবর ২০২৫৪ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চারদিকে নির্বাচনি হাওয়া কিন্তু রাজশাহী মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের ছোটাছুটি নেই বললেই চলে। বিএনপির নেতৃস্থানীয় কারও সঙ্গে কারও যোগাযোগ নেই। নেই কোনো সাংগঠনিক কর্মসূচি। যে যার মতো অনুসারীদের নিয়ে চলাফেরা করছেন। ঘরোয়া আড্ডাতেই চলছে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নগরজুড়ে ব্যানার-ফেস্টুন দিয়েছেন। তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা পাড়া-মহল্লার ভেতরেই সীমাবদ্ধ। কারণ, আড়াই মাস ধরে রাজশাহী মহানগর বিএনপির কোনো কমিটি নেই।

নেতাকর্মীরা জানান, ১০ আগস্ট মহানগর বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজশাহীর নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রেরণামূলক বক্তব্য দেন। বক্তব্য শেষে তিনি রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। ওই সময় শেষ বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে রাজশাহী মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা নতুন নেতৃত্ব উপহার পাবেন। তবে বিভিন্ন কারণে আড়াই মাসেও মহানগর বিএনপির কোনো কমিটি হয়নি। রাজশাহী বিএনপির নেতাকর্মীরা এখনো তাকিয়ে আছেন কেন্দ্রের দিকে। ফলে সাংগঠনিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির বাঘা বাঘা নেতা ঘরে বসেই আড্ডা জমাচ্ছেন অনুসারীদের নিয়ে।

মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, নেতৃত্ব বাছাইয়ে মতভেদ এবং বিলম্বিত কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের কারণে রাজশাহী মহানগর বিএনপি এখন কার্যত নির্দেশনাবিহীন অবস্থায় রয়েছে। এতে তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা আগামী জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। জানা যায়, মহানগর বিএনপিতে পদ পেতে বিএনপি নেতারা ছাড়াও সাবেক যুবদল ও ছাত্রদলের নেতারাও কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। দ্রুত সময়ে কমিটি ঘোষণার দাবি করে আসছেন। কিন্তু অদৃশ্য জটিলতায় কমিটি আসছে না বলে জানিয়েছেন একাধিক পদপ্রত্যাশী।

দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশাকে আহ্বায়ক এবং মামুনুর রশিদকে সদস্য সচিব করে রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হয় কেন্দ্র থেকে। গত প্রায় তিন বছর তারা দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। আগস্টের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। তারা আশা করেছিলেন সম্মেলনের দিনই রাজশাহী মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি পাবেন। সেটা অবশ্য হয়নি। ফলে নেতাকর্মীরা অনেকটা হতাশ হয়েই সম্মেলন মাঠ ছাড়েন।

মহানগর বিএনপিতে পদপ্রত্যাশী একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগামী নির্বাচনে কেন্দ্রের একজন শীর্ষ নেতা রাজশাহী-২ (মহানগর) আসন থেকে নির্বাচন করার কথা তার অনুসারীদের জানিয়েছেন। আগামী কমিটির শীর্ষ পদগুলোয় কেন্দ্রীয় ওই নেতার অনুসারীদের রাখা-না-রাখা নিয়ে জটিলতা চলছে। যদিও এ বিষয়ে সরাসরি কথা বলতে অনীহা রয়েছে রাজশাহী বিএনপির নেতাকর্মীদের। রাজশাহী-২ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও বলছেন, রাজশাহীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ইউনিটে এতদিন কমিটি না থাকাটা স্বাভাবিক ঘটনা নয়। কারণ সামনে নির্বাচন। মহানগর বিএনপি চলছে কান্ডারিবিহীন নৌকার মতো। নেতাকর্মীদের মাঝে শৃঙ্খলা ধরে রাখাও কঠিন হচ্ছে।

জানতে চাইলে মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ বলেন, দলের সর্বোচ্চ নেতা তারেক রহমান যখন চাইবেন, তখন কমিটি হবে। নিজে মনোনয়নপ্রত্যাশী কি না-জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি রাজশাহী-২ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী নই। আমিসহ রাজশাহী বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মী চান দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই আসনে ভোট করুন। তাকেই আমরা রাজশাহী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে দেখতে চাই।

দলের নেতাকর্মীরা বলেন, মহানগর বিএনপিতে কমিটি গঠন না করায় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দলের ভেতর বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। আমরা এখন তাকিয়ে আছি কেন্দ্রের দিকে। নতুন কমিটি হলে রাজশাহী মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হবেন।

মহানগর বিএনপির কমিটি প্রসঙ্গে দলটির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহিন শওকত বলেন, রাজশাহীতে বিএনপির ভেতরে নেতৃত্বশূন্যতা ও সাংগঠনিক স্থবিরতা নেই। দলীয় সব কার্যক্রম সঠিকভাবেই হচ্ছে। সম্মেলন হয়ে গেছে, এখন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কমিটির বিষয়ে যাচাই-বাছাই করছেন। আশা করছি, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণার সঙ্গে মহানগর কমিটিও ঘোষণা হবে।

রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, খুব দ্রুত কমিটি হয়ে যাবে বলে শুনছি। তবে কমিটি না থাকার কারণে আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি, বিষয়টি এমন নয়। আমরা কাজ করছি। তবে নতুন কমিটি হলে নেতাকর্মীরা আরও বেশি উজ্জীবিত হবেন। আমরা যারা কমিটিতে পদপ্রত্যাশী, তারা চাইছি কমিটিটা দ্রুত হোক।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এরশাদ আলী ঈশা রাজশাহী-২ আসনের একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী। তিনি বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যখন ঘোষণা দেবেন, তখনই হবে। হয়তো সময় পাচ্ছেন না, সেজন্য কিছুটা দেরি হচ্ছে। কমিটি না থাকার কারণে কিছু সমস্যা হচ্ছে। তবে সেগুলো বড় না। আমরা কাজ চালিয়ে নিচ্ছি। নেতাকর্মীরাও মাঠে আছেন। আমি নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছি।