সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে প্রায় দুই মাস ধরে অস্থিরতা চলছে। সরবরাহ সংকটের সুযোগে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার।
এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। এমন পরিস্থিতিতে এলপিজি বিক্রিতে কমিশন দুই থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারা।
আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) গণশুনানিতে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত শুনানিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারে আমদানিকারকদের কমিশন বর্তমান ১৯১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ থেকে ৪৭৮ টাকা করার প্রস্তাব এসেছে।
পরিবেশকরা কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতারা ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করার দাবি জানিয়েছেন। এ ছাড়া অটোগ্যাসের প্রতি লিটারে কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
শুনানিতে বিভিন্ন কম্পানির প্রস্তাব পর্যালোচনা করে বিইআরসির গঠিত কারিগরি কমিটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। কম্পানিগুলোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে বেসরকারি এলপিজির বিভিন্ন পর্যায়ে অপারেটর চার্জ, ডিস্ট্রিবিউটর চার্জ এবং রিটেইলার চার্জ বাড়ানোসহ ভোক্তাপর্যায়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ করেছে কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি।
শুনানির ৯০ দিনের মধ্যে সুপারিশ ও মতামতের ভিত্তিতে নতুন দাম দেওয়ার কথা বিইআরসির। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নভেম্বরের শুরুতেই নতুন দাম ঘোষণা দিতে পারে বিইআরসি।
কারিগরি কমিটির প্রতিবেদনে বেসরকারি এলপিজির মজুদ ও বোতলজাতকরণ বাবদ ব্যয় কেজিতে ১৬ টাকা ৭৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২৩ টাকা ৪৮ পয়সা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কারখানা পরিচালনা, শ্রমিকদের মজুরি, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবহন এবং মূলধনের ওপর নির্ধারিত রিটার্ন বিবেচনা করা হয়েছে।
এদিকে অনুমতি থাকা সত্ত্বেও আমদানি করতে না পারা কম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে পাইকারি দাম নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।
গণশুনানিতে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, সংশ্লিষ্টদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে যৌক্তিকতা বজায় রেখে এলপিজি দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।









